প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সংসদ ভবনের উন্মুক্ত দক্ষিণ প্লাজায় শপথ
- আপডেটের সময় : ২২ ঘন্টা আগে
- / 33
দীর্ঘ ঐতিহ্য ভেঙে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান রাষ্ট্রপতি ভবন বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটানসহ ১৩টি দেশের বিশ্বনেতাদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নয়াদিল্লির প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
বাংলাদেশ সংসদ কমপ্লেক্সের জমকালো দক্ষিণ প্লাজায় উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান, তাঁদের কন্যা জাইমা রহমান এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সাদা জামা ও কোট-প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমানকে এ সময় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল। তিনি স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রবেশ করলে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়।
এর কয়েক মিনিট পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
এরপর তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৩৬ বছর পর বাংলাদেশ পেল একজন পুরুষ সরকারপ্রধান। তারেক রহমান হলেন ১৯৯১-এর পঞ্চদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ মন্ত্রিপরিষদশাসিত বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় ফেরার পর তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয় মন্ত্রিপরিষদশাসিত বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার বিধান রেখেই। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সেই শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতিশাসিত শাসন পদ্ধতি চালু এবং বহুদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে একদলীয় রাজনীতির প্রবর্তন করা হয়। ফলে ৫৫ বছর বয়সী বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা দীর্ঘ হলেও মন্ত্রিপরিষদশাসিত সরকারে দেশের নির্বাহী প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সংখ্যা মাত্র চার। মেয়াদ হিসেবে দশম।
এ ক্ষেত্রে শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম, খালেদা জিয়া দ্বিতীয় (তিনবারের), শেখ হাসিনা তৃতীয় (পাঁচবারের) এবং তারেক রহমান সর্বশেষ। এ ছাড়া বাহাত্তরে সংবিধান প্রণয়নের আগে মুজিবনগর সরকার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। তাঁকে প্রথম মন্ত্রীর এ তালিকায় নিলে তারেক রহমান ১১তম প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া তারেক রহমান একই পরিবার থেকে তৃতীয় সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। এর মাধ্যমে বিএনপি ২০ বছর পর ক্ষমতায় ফিরল।










