ঢাকা , রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
প্রবাসীদের দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর মালয়েশিয়ায় চালু হচ্ছে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম প্রবাসীদের ঈদ উদযাপন বাস্তবতা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা, চিকিৎসাধীন আরেক বাংলাদেশির মৃত্যু মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে সার্কের মহাসচিবের সৌজন্য সাক্ষাৎ মালয়েশিয়ায় ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় মালয়েশিয়ায় বুধবার পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুমতি ছাড়া আতশবাজি বিক্রি:মালয়েশিয়ায় ২ বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ৩ বাংলাদেশি কর্মীদের প্রশংসায় মালয়েশিয়ার সাবেক মন্ত্রী এম সারাভানান কুয়ালালামপুর-ঢাকা রুটে বিমান ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য

মালয়েশিয়া প্রবাসীদের সুলভ মূল্যে পণ্য তুলে দেওয়া ১২ তরুণের স্বপ্ন

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া
  • আপডেটের সময় : ১২:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০২৪
  • / 61

 

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের অনেক সাফল্যের গল্প রয়েছে। কথায় আছে দশের লাঠি একের বোঝা। তবে ব্যবসার ক্ষেত্রে সমবায়ের সফলতা খুব বেশি নেই বাংলাদেশি কমিউনিটিতে।

 

মালয়েশিয়া এই ১২ তরুণের গল্পটা একটু অন্যরকম। বন্ধুদের নিয়ে এখানে তারা স্বপ্ন দেখেছিল একটা ছোট্ট ব্যবসার। দেখতে দেখতে একটি শো-রুম থেকে আজ তাদের মালেশিয়ায় ৪টি শো-রুম হয়েছে। সততা আর পরিশ্রম দিয়ে তারা আজ এই অবস্থানে এসেছে।

 

তাদের যাত্রাটা খুব বেশি দিনের নয়। বন্ধুরা আড্ডায় বসে চিন্তা করলেন নিজেদের জন্য কিছু একটা করতে হবে। কি করা যায় তার মাঝেই উদ্যোক্তা হওয়ার চিন্তা মাথায় আসে। পাইকারি মার্কেটে খোঁজ নেন তারা । তখন তারা বুঝতে পারেন ইলেক্ট্রনিক পণ্য বাজারে বেশি মূল্য দিয়ে কিনতে হয় বাংলাদেশি প্রবাসীদের। তারা তখন চিন্তা করেন কীভাবে কম মুনাফা করে এবং দেশি পণ্য সকল প্রবাসীদের হাতে তুলে দেওয়া যায়।

 

তাদের শো-রুমে বেশির ভাগ পণ্যই বাংলাদেশি। এছাড়াও পাকিস্তান, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া,মায়ানমার ও লোকাল মালয়েশিয়ানদের কাছেও তারা পণ্য বিক্রি করেন।

 

 

 

শুরুটা হয় সমীতির মাধ্যমে অর্থের সংগ্রহ করা। এই পদ্ধতিতে প্রায় দুই লাখ রিঙ্গিতের একটা ফান্ড তৈরি হয়। এই ফান্ড নিয়ে তাদের ব্যবসার পথচলা শুরু।২০২২ সালে ১ সেপ্টেম্বর ফাইনান্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ফ্রেন্ডস নামে সমিতি গঠন করেছিলেন তারা । সেই সমিতির ছাতার নিচেই তারা ব্যবসা শুরু করলেন । যাত্রা শুরু হয় এ জে রানা ও মো: আল-আমিনের হাত ধরে। মালয়েশিয়া চৌকিটে জিএম প্লাজায় তারা দোকান নেন । বর্তমানে জি এম প্লাজায় দুইটি ও চৌকিটের আসে পাশে আরো দুইটি শোরুম রয়েছে তাদের।

 

ইলেক্ট্রনিক্স আইটেম , মোবাইল অ্যাক্সেসরিজ,ব্যাগ, পারফিউম, কম্বল, চকলেট সহ নানান ধরণের পণ্য তাদের শোরুমে রয়েছে। তারা খুব শীঘ্রই মালয়েশিয়ার মিনি ঢাকা নামে পরিচিত কোতারায়াতে আরো একটি শো-রুম খোলার চেষ্টা করছেন।

 

ফাইনান্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ফ্রেন্ডস চিফ মার্কেটিং অফিসার এ জে রানা জানান, আমাদের কোম্পানির ব্রান্ড হিসেবে নিজেদের পরিচয় করাতে চাই, যার ফলে বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন থাকবে। আমরা আনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলছি। আমরা চাই মালয়েশিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে শো-রুম দিব যেখানে বাংলাদেশি প্রবাসীদের বেশি বসবাস রয়েছে।

 

 

ম্যানেজিং ডিরেক্টর আমির হোসেন বলেন,আমাদের উদ্দেশ্য শুধু মাত্র ব্যবসা নয়। প্রবাসে নিজ দেশের ব্রান্ডিং করা এবং কম মূল্যে দেশি ভাইদের হাতে মান সম্পন্ন পণ্য হাতে তুলে দেওয়াই আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য।

 

ঈদে প্রবাসীরা তাদের প্রিয়জনদের সাথে দেখা করতে দেশে যায়। এই সময়ে তারা কম্বল, চকলেট ও নানান ধরণের আতর, পারফিউম ইত্যাদি দেশে নিয়ে যান। একজন প্রবাসী তার কষ্টের টাকা দিয়ে যেন বেশি প্রডাক্ট কিনতে পারেন। তার টাকা যাতে সাশ্রয় হয় সেদিকেই তাদের বেশি নজর।

 

ভবিষ্যতের এই তরুণদের আশা তাদের স্বপ্নকে আরো বড় আকারে প্রসারিত করবেন। মালেশিয়ায় হানিফা, হাইপার লুলু ,মাইডিনের মতো বড় শো-রুম চেইন স্থাপন করার ইচ্ছা তাদের। যেখানে কম দামে বাংলাদেশি প্রবাসীদের হাতে পণ্য তুলে দিতে বদ্ধ পরিকর এই তরুদের। তারা ইতোমধ্যে মালেশিয়া ই-কমার্স সাইট লাজাদা, শপিতে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

 

চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আল- আমিন বলেন, আমরা আমাদের পণ্যের মান ঠিক রেখে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সাথে সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ব্যাবসা করতে চাই।

 

এই ১২ তরুণ উদ্যোক্তা মালেশিয়া বিভিন্ন জনকল্যাণ কর্মকাণ্ডের সাথেও জড়িত রয়েছেন। প্রবাসীদের নানান সমস্যায় তারা এগিয়ে আসেন। তাদের উদ্যোগ আর জনকল্যাণ মুলক কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের কমিউনিটিতে বেশ প্রশংসা পেয়েছে।

শেয়ার করুন

মালয়েশিয়া প্রবাসীদের সুলভ মূল্যে পণ্য তুলে দেওয়া ১২ তরুণের স্বপ্ন

আপডেটের সময় : ১২:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০২৪

 

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের অনেক সাফল্যের গল্প রয়েছে। কথায় আছে দশের লাঠি একের বোঝা। তবে ব্যবসার ক্ষেত্রে সমবায়ের সফলতা খুব বেশি নেই বাংলাদেশি কমিউনিটিতে।

 

মালয়েশিয়া এই ১২ তরুণের গল্পটা একটু অন্যরকম। বন্ধুদের নিয়ে এখানে তারা স্বপ্ন দেখেছিল একটা ছোট্ট ব্যবসার। দেখতে দেখতে একটি শো-রুম থেকে আজ তাদের মালেশিয়ায় ৪টি শো-রুম হয়েছে। সততা আর পরিশ্রম দিয়ে তারা আজ এই অবস্থানে এসেছে।

 

তাদের যাত্রাটা খুব বেশি দিনের নয়। বন্ধুরা আড্ডায় বসে চিন্তা করলেন নিজেদের জন্য কিছু একটা করতে হবে। কি করা যায় তার মাঝেই উদ্যোক্তা হওয়ার চিন্তা মাথায় আসে। পাইকারি মার্কেটে খোঁজ নেন তারা । তখন তারা বুঝতে পারেন ইলেক্ট্রনিক পণ্য বাজারে বেশি মূল্য দিয়ে কিনতে হয় বাংলাদেশি প্রবাসীদের। তারা তখন চিন্তা করেন কীভাবে কম মুনাফা করে এবং দেশি পণ্য সকল প্রবাসীদের হাতে তুলে দেওয়া যায়।

 

তাদের শো-রুমে বেশির ভাগ পণ্যই বাংলাদেশি। এছাড়াও পাকিস্তান, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া,মায়ানমার ও লোকাল মালয়েশিয়ানদের কাছেও তারা পণ্য বিক্রি করেন।

 

 

 

শুরুটা হয় সমীতির মাধ্যমে অর্থের সংগ্রহ করা। এই পদ্ধতিতে প্রায় দুই লাখ রিঙ্গিতের একটা ফান্ড তৈরি হয়। এই ফান্ড নিয়ে তাদের ব্যবসার পথচলা শুরু।২০২২ সালে ১ সেপ্টেম্বর ফাইনান্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ফ্রেন্ডস নামে সমিতি গঠন করেছিলেন তারা । সেই সমিতির ছাতার নিচেই তারা ব্যবসা শুরু করলেন । যাত্রা শুরু হয় এ জে রানা ও মো: আল-আমিনের হাত ধরে। মালয়েশিয়া চৌকিটে জিএম প্লাজায় তারা দোকান নেন । বর্তমানে জি এম প্লাজায় দুইটি ও চৌকিটের আসে পাশে আরো দুইটি শোরুম রয়েছে তাদের।

 

ইলেক্ট্রনিক্স আইটেম , মোবাইল অ্যাক্সেসরিজ,ব্যাগ, পারফিউম, কম্বল, চকলেট সহ নানান ধরণের পণ্য তাদের শোরুমে রয়েছে। তারা খুব শীঘ্রই মালয়েশিয়ার মিনি ঢাকা নামে পরিচিত কোতারায়াতে আরো একটি শো-রুম খোলার চেষ্টা করছেন।

 

ফাইনান্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ফ্রেন্ডস চিফ মার্কেটিং অফিসার এ জে রানা জানান, আমাদের কোম্পানির ব্রান্ড হিসেবে নিজেদের পরিচয় করাতে চাই, যার ফলে বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন থাকবে। আমরা আনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলছি। আমরা চাই মালয়েশিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে শো-রুম দিব যেখানে বাংলাদেশি প্রবাসীদের বেশি বসবাস রয়েছে।

 

 

ম্যানেজিং ডিরেক্টর আমির হোসেন বলেন,আমাদের উদ্দেশ্য শুধু মাত্র ব্যবসা নয়। প্রবাসে নিজ দেশের ব্রান্ডিং করা এবং কম মূল্যে দেশি ভাইদের হাতে মান সম্পন্ন পণ্য হাতে তুলে দেওয়াই আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য।

 

ঈদে প্রবাসীরা তাদের প্রিয়জনদের সাথে দেখা করতে দেশে যায়। এই সময়ে তারা কম্বল, চকলেট ও নানান ধরণের আতর, পারফিউম ইত্যাদি দেশে নিয়ে যান। একজন প্রবাসী তার কষ্টের টাকা দিয়ে যেন বেশি প্রডাক্ট কিনতে পারেন। তার টাকা যাতে সাশ্রয় হয় সেদিকেই তাদের বেশি নজর।

 

ভবিষ্যতের এই তরুণদের আশা তাদের স্বপ্নকে আরো বড় আকারে প্রসারিত করবেন। মালেশিয়ায় হানিফা, হাইপার লুলু ,মাইডিনের মতো বড় শো-রুম চেইন স্থাপন করার ইচ্ছা তাদের। যেখানে কম দামে বাংলাদেশি প্রবাসীদের হাতে পণ্য তুলে দিতে বদ্ধ পরিকর এই তরুদের। তারা ইতোমধ্যে মালেশিয়া ই-কমার্স সাইট লাজাদা, শপিতে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

 

চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আল- আমিন বলেন, আমরা আমাদের পণ্যের মান ঠিক রেখে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সাথে সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ব্যাবসা করতে চাই।

 

এই ১২ তরুণ উদ্যোক্তা মালেশিয়া বিভিন্ন জনকল্যাণ কর্মকাণ্ডের সাথেও জড়িত রয়েছেন। প্রবাসীদের নানান সমস্যায় তারা এগিয়ে আসেন। তাদের উদ্যোগ আর জনকল্যাণ মুলক কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের কমিউনিটিতে বেশ প্রশংসা পেয়েছে।