ঢাকা , রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
প্রবাসীদের দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর মালয়েশিয়ায় চালু হচ্ছে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম প্রবাসীদের ঈদ উদযাপন বাস্তবতা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা, চিকিৎসাধীন আরেক বাংলাদেশির মৃত্যু মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে সার্কের মহাসচিবের সৌজন্য সাক্ষাৎ মালয়েশিয়ায় ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় মালয়েশিয়ায় বুধবার পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুমতি ছাড়া আতশবাজি বিক্রি:মালয়েশিয়ায় ২ বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ৩ বাংলাদেশি কর্মীদের প্রশংসায় মালয়েশিয়ার সাবেক মন্ত্রী এম সারাভানান কুয়ালালামপুর-ঢাকা রুটে বিমান ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য

কর্মী ঘাটতিতে মালয়েশিয়ার সবজি চাষীরা দুঃচিন্তায়

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া
  • আপডেটের সময় : ০৯:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ ২০২৪
  • / 54

 

কর্মী ঘাটতিতে কপালে দুঃচিন্তার ভাঁজ পড়েছে মালয়েশিয়ার সবজি চাষীদের। দেশটির ক্যামেরন হাইল্যান্ডের সবজি খামারিরা বলছেন, আগামী কয়েক মাসে বিদেশি কর্মীদের অপ্রত্যাশিত ঘাটতির কারণে তাদের উত্পাদন কমিয়ে আনার চিন্তা করছে।

 

মালয়েশিয়ার নিউ স্ট্রিট টাইমস (এনএসটি) জানিয়েছে, ক্যামেরন হাইল্যান্ড মালয় ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দাতুক সৈয়দ আবদুল রহমান বলেছেন, সরকারের ৩১ মার্চের মধ্যে ঝুলে থাকা বিদেশি  কর্মীদের কোটা বাতিল করার পদক্ষেপে আমরা হাই এন্ড ড্রাইয়ের মত অবস্থায় আছি। এখন এটা অনুভব না করলেও সম্ভবত এই বছরের মে বা জুন থেকে এর বড় একটি প্রভাব পড়বে আমাদের অর্থনীতিতে।

 

জানাগেছে, সামনের মাসে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার বেশিরভাগ কর্মী ঈদে তাদের নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। আবার কেউ কেউ ১০ বছর ধরে খামারে কাজ করেছে যাদের অধিকাংশের ওয়ার্ক পারমিট আর রিনিউ হবে না। আবার এদের মধ্যে যাদের বৈধ পারমিট আছে তারা এখনও ১০ বছর কাজ করতে পারবেন কিন্তু ঈদের পরে মালয়েশিয়ায় তারা কাজ না করতে ফিরে না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা খুবই হতাশাজনক।

 

স্ট্রিট টাইমস বলছে, ক্যামেরন হাইল্যান্ড প্রতিদিন ১০০০ মেট্রিক টন সবজি উৎপাদন করে দেশটির পাইকারি বাজারের জন্য কিন্তু কর্মীর ঘাটতি এ উৎপাদনকেও প্রভাবিত করবে। ১৩ মার্চ খামারিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেছিলেন, এই কর্মীর অভাব খামার অপারেটরদের তাদের উৎপাদন কমাবে এবং খুব সামান্য জমি তাদের চাষ করতে হবে। তারা আরো জানিয়েছেন, যদি একজন খামারির ১ দশমিক ৬ হেক্টর জমি থাকে তবে তিনি লস থেকে রক্ষা পেতে কেবল ০ দশমিক ৮ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করবেন।

 

ফেডারেশন অফ ভেজিটেবল ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ মালয়েশিয়ার চেয়ারম্যান লিম সের কুই সেদিন বলেছেন, ঝুলে থাকা বিদেশি কর্মী কোটা বাতিলের ফলে জনশক্তির ঘাটতিতো হবেই এবং সবজি সরবরাহ কমার কারণে বাজারে সবজির দাম বাড়বে।

 

সৈয়দ আব্দুল রহমান বলেন, বিদেশি কর্মীর অভাব এবং পরবর্তী উৎপাদনে হ্রাস সরকারকে দাম স্থিতিশীল করতে বাইরে থেকে সবজি আমদানি করতে হতে পারে। তিনি আরো বলেন, আমি এতটাই উদ্বিগ্ন যে, খামারিরা সবজি উৎপাদন কমিয়ে আনবে। কারণ তাদের খামার পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত কর্মী নেই। যথারীতি সবজি  চাষ না করতে পারায় স্থানীয় চাহিদা মেটাতে দেশকে সবজি আমদানি করতে হবে। ক্যামেরন হাইল্যান্ডসে প্রায় ৬ হাজার জন বিদেশি কর্মী ছিল।

 

সৈয়দ আব্দুল রহমান কর্মীর অভাব রোধে দেশটির সবজি অ্যাসোসিয়েশন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি চিঠি জমা দিয়েছে যার কপি পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টে পাঠানো হয়েছে যাতে বিদেশি কর্মী আনার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করা হয়।

শেয়ার করুন

কর্মী ঘাটতিতে মালয়েশিয়ার সবজি চাষীরা দুঃচিন্তায়

আপডেটের সময় : ০৯:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ ২০২৪

 

কর্মী ঘাটতিতে কপালে দুঃচিন্তার ভাঁজ পড়েছে মালয়েশিয়ার সবজি চাষীদের। দেশটির ক্যামেরন হাইল্যান্ডের সবজি খামারিরা বলছেন, আগামী কয়েক মাসে বিদেশি কর্মীদের অপ্রত্যাশিত ঘাটতির কারণে তাদের উত্পাদন কমিয়ে আনার চিন্তা করছে।

 

মালয়েশিয়ার নিউ স্ট্রিট টাইমস (এনএসটি) জানিয়েছে, ক্যামেরন হাইল্যান্ড মালয় ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দাতুক সৈয়দ আবদুল রহমান বলেছেন, সরকারের ৩১ মার্চের মধ্যে ঝুলে থাকা বিদেশি  কর্মীদের কোটা বাতিল করার পদক্ষেপে আমরা হাই এন্ড ড্রাইয়ের মত অবস্থায় আছি। এখন এটা অনুভব না করলেও সম্ভবত এই বছরের মে বা জুন থেকে এর বড় একটি প্রভাব পড়বে আমাদের অর্থনীতিতে।

 

জানাগেছে, সামনের মাসে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার বেশিরভাগ কর্মী ঈদে তাদের নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। আবার কেউ কেউ ১০ বছর ধরে খামারে কাজ করেছে যাদের অধিকাংশের ওয়ার্ক পারমিট আর রিনিউ হবে না। আবার এদের মধ্যে যাদের বৈধ পারমিট আছে তারা এখনও ১০ বছর কাজ করতে পারবেন কিন্তু ঈদের পরে মালয়েশিয়ায় তারা কাজ না করতে ফিরে না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা খুবই হতাশাজনক।

 

স্ট্রিট টাইমস বলছে, ক্যামেরন হাইল্যান্ড প্রতিদিন ১০০০ মেট্রিক টন সবজি উৎপাদন করে দেশটির পাইকারি বাজারের জন্য কিন্তু কর্মীর ঘাটতি এ উৎপাদনকেও প্রভাবিত করবে। ১৩ মার্চ খামারিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেছিলেন, এই কর্মীর অভাব খামার অপারেটরদের তাদের উৎপাদন কমাবে এবং খুব সামান্য জমি তাদের চাষ করতে হবে। তারা আরো জানিয়েছেন, যদি একজন খামারির ১ দশমিক ৬ হেক্টর জমি থাকে তবে তিনি লস থেকে রক্ষা পেতে কেবল ০ দশমিক ৮ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করবেন।

 

ফেডারেশন অফ ভেজিটেবল ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ মালয়েশিয়ার চেয়ারম্যান লিম সের কুই সেদিন বলেছেন, ঝুলে থাকা বিদেশি কর্মী কোটা বাতিলের ফলে জনশক্তির ঘাটতিতো হবেই এবং সবজি সরবরাহ কমার কারণে বাজারে সবজির দাম বাড়বে।

 

সৈয়দ আব্দুল রহমান বলেন, বিদেশি কর্মীর অভাব এবং পরবর্তী উৎপাদনে হ্রাস সরকারকে দাম স্থিতিশীল করতে বাইরে থেকে সবজি আমদানি করতে হতে পারে। তিনি আরো বলেন, আমি এতটাই উদ্বিগ্ন যে, খামারিরা সবজি উৎপাদন কমিয়ে আনবে। কারণ তাদের খামার পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত কর্মী নেই। যথারীতি সবজি  চাষ না করতে পারায় স্থানীয় চাহিদা মেটাতে দেশকে সবজি আমদানি করতে হবে। ক্যামেরন হাইল্যান্ডসে প্রায় ৬ হাজার জন বিদেশি কর্মী ছিল।

 

সৈয়দ আব্দুল রহমান কর্মীর অভাব রোধে দেশটির সবজি অ্যাসোসিয়েশন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি চিঠি জমা দিয়েছে যার কপি পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টে পাঠানো হয়েছে যাতে বিদেশি কর্মী আনার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করা হয়।