ঢাকা , রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
প্রবাসীদের দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর মালয়েশিয়ায় চালু হচ্ছে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম প্রবাসীদের ঈদ উদযাপন বাস্তবতা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা, চিকিৎসাধীন আরেক বাংলাদেশির মৃত্যু মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে সার্কের মহাসচিবের সৌজন্য সাক্ষাৎ মালয়েশিয়ায় ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় মালয়েশিয়ায় বুধবার পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুমতি ছাড়া আতশবাজি বিক্রি:মালয়েশিয়ায় ২ বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ৩ বাংলাদেশি কর্মীদের প্রশংসায় মালয়েশিয়ার সাবেক মন্ত্রী এম সারাভানান কুয়ালালামপুর-ঢাকা রুটে বিমান ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য

মালয়েশিয়ায় আটক ১৪ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া
  • আপডেটের সময় : ০৫:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / 49

 

দুই মাসের কম সময়ে ১৪ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ। বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন, দেশটির অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক রুসলিন জুসোহ।

 

১ জানুয়ারি থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৫২৮ টি অভিযান পরিচালনা মাধ্যমে, ১৪ হাজার ৩৬১ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়। তবে আটক অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি রয়েছেন তা উল্লেখ করা হয়নি।

 

মহাপরিচালক দাতুক রুসলিন জুসোহ বলেছেন,একই সময়ে অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ এর অধীনে অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ ও আশ্রয় দেওয়ার অপরাধে ১৩৯ নিয়োগকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বার্নামা টিভিতে দেয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলছিলেন, এ অভিযান কেবল অবৈধ অভিবাসীদের লক্ষ্য করছে না, নিয়োগকর্তাদের জন্যও করা হচ্ছে। কিছু নিয়োগকর্তা আছেন যারা বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া এড়াতে চান, তারা লেভি দিতে চান না। এটি ভুল, কারণ দেশে আইন রয়েছে যা অবশ্যই অনুসরণ করা উচিত।

 

 

১ মার্চ থেকে অভিবাসী প্রত্যাবাসন কর্মসূচি (পিআরএম) শুরু হলেও অভিবাসন বিভাগ অনথিভুক্ত বিদেশিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন রুসলিন জুসোহ।

 

প্রত্যাবাসন কর্মসূচি যা ১ মার্চ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে, এ কর্মসূচির মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসীরা ইমিগ্রেশন বিভাগের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করার পরে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এর মধ্যে বৈধ ভ্রমণ নথি এবং একটি ফিরতি টিকিট অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

 

এই বছর, অভিবাসন বিভাগ মালয়েশিয়া জুড়ে ২২০টি ‘হটস্পট’-এ অভিযান পরিচালনা করবে। ২২০টি ‘হটস্পট’-এ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে সমন্বিত অপারেশন পরিচালনা করার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি শ্রম, পাইকারি বাজার, আন্তর্জাতিক ছাত্রদের গ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং নিয়োগকারী ব্যবসার পরিদর্শন।

 

এ ছাড়া ইমিগ্রেশন বিভাগ দেশের সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শনও কঠোর করেছে। মালয়েশিয়ায় ঘুরতে আসা বিদেশি দর্শনার্থী তাদের দেশে ফিরতির মূল টিকিট উপস্থাপন করতে হবে।

 

১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় সক্রিয় বিদেশি কর্মীদের তথ্য হিসাবে, রুসলিন বলেছেন, মালয়েশিয়ায় মোট ২ কোটি ১২ লাখ ৩ হাজার ০৪৯ বিদেশি কর্মী রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৫ বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, তারপরে ইন্দোনেশিয়া ৪ লাখ ৯৬ হাজার ০৮৩, নেপাল ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯৮, মায়ানমার ১ লাখ ৬৩ হাজার ৩২৪ এবং ভারত থেকে এসেছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৭০৬ কর্মী ।

 

এই দেশগুলি ছাড়াও, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তান সহ অন্যান্য দেশ থেকে বিদেশি কর্মীদের প্রবেশের অনুমতি দেয় মালয়েশিয়া সরকার।

শেয়ার করুন

মালয়েশিয়ায় আটক ১৪ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী

আপডেটের সময় : ০৫:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

 

দুই মাসের কম সময়ে ১৪ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ। বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন, দেশটির অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক রুসলিন জুসোহ।

 

১ জানুয়ারি থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৫২৮ টি অভিযান পরিচালনা মাধ্যমে, ১৪ হাজার ৩৬১ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়। তবে আটক অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি রয়েছেন তা উল্লেখ করা হয়নি।

 

মহাপরিচালক দাতুক রুসলিন জুসোহ বলেছেন,একই সময়ে অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ এর অধীনে অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ ও আশ্রয় দেওয়ার অপরাধে ১৩৯ নিয়োগকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বার্নামা টিভিতে দেয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলছিলেন, এ অভিযান কেবল অবৈধ অভিবাসীদের লক্ষ্য করছে না, নিয়োগকর্তাদের জন্যও করা হচ্ছে। কিছু নিয়োগকর্তা আছেন যারা বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া এড়াতে চান, তারা লেভি দিতে চান না। এটি ভুল, কারণ দেশে আইন রয়েছে যা অবশ্যই অনুসরণ করা উচিত।

 

 

১ মার্চ থেকে অভিবাসী প্রত্যাবাসন কর্মসূচি (পিআরএম) শুরু হলেও অভিবাসন বিভাগ অনথিভুক্ত বিদেশিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন রুসলিন জুসোহ।

 

প্রত্যাবাসন কর্মসূচি যা ১ মার্চ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে, এ কর্মসূচির মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসীরা ইমিগ্রেশন বিভাগের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করার পরে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এর মধ্যে বৈধ ভ্রমণ নথি এবং একটি ফিরতি টিকিট অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

 

এই বছর, অভিবাসন বিভাগ মালয়েশিয়া জুড়ে ২২০টি ‘হটস্পট’-এ অভিযান পরিচালনা করবে। ২২০টি ‘হটস্পট’-এ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে সমন্বিত অপারেশন পরিচালনা করার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি শ্রম, পাইকারি বাজার, আন্তর্জাতিক ছাত্রদের গ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং নিয়োগকারী ব্যবসার পরিদর্শন।

 

এ ছাড়া ইমিগ্রেশন বিভাগ দেশের সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শনও কঠোর করেছে। মালয়েশিয়ায় ঘুরতে আসা বিদেশি দর্শনার্থী তাদের দেশে ফিরতির মূল টিকিট উপস্থাপন করতে হবে।

 

১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় সক্রিয় বিদেশি কর্মীদের তথ্য হিসাবে, রুসলিন বলেছেন, মালয়েশিয়ায় মোট ২ কোটি ১২ লাখ ৩ হাজার ০৪৯ বিদেশি কর্মী রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৫ বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, তারপরে ইন্দোনেশিয়া ৪ লাখ ৯৬ হাজার ০৮৩, নেপাল ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯৮, মায়ানমার ১ লাখ ৬৩ হাজার ৩২৪ এবং ভারত থেকে এসেছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৭০৬ কর্মী ।

 

এই দেশগুলি ছাড়াও, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তান সহ অন্যান্য দেশ থেকে বিদেশি কর্মীদের প্রবেশের অনুমতি দেয় মালয়েশিয়া সরকার।