ঢাকা , শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বিনা খরচে আরো ৫০ ক‍‍র্মী মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে আজ ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিজনেস অটোমেশন সদস্যরা রিয়াদে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত আন্ত‍র্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের নানা আয়োজন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মালয়েশিয়ায় চালু হচ্ছে ই-পাসপোর্ট সেবা বিনা খরচে কর্মী পাঠানো বাড়াতে সকলকে দায়িত্বশীল থাকতে হবে: প্রবাসী কল্যাণ সচিব বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে আরো ১১৯ ক‍‍র্মী, আজ আনুষ্ঠানিক বিদায় মালয়েশিয়ায় অভিবাসীদের পদচারণ: ২২০টি স্থানে ইমিগ্রেশনের নজরদারি প্রবাসীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আইনমন্ত্রীর সাথে সেন্টার ফর এনআরবি প্রতিনিধি দলের বৈঠক মুক্তি পেলেন মালয়েশিয়ায় আটক বিএনপি নেতা কাইয়ুম

মালয়েশিয়ায় প্রতারণার শিকার, ৭ শতাধিক বাংলাদেশি কর্মী পাচ্ছেন বকেয়া বেতন

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া
  • আপডেটের সময় : ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / 94

মালয়েশিয়ায় প্রতারণার শিকার ৭ শতাধিক বাংলাদেশি কর্মী পাচ্ছেন বকেয়া বেতন। পেনিনসুলার লেবার ডিপার্টমেন্ট (জেকেটিএসএম) জোহরের পেনজেরাং-এ ৭শ ৩৩ জন বাংলাদেশি কর্মীর নিয়োগকর্তাকে ১০ লাখ ৩৫হাজার ৫৫৭ মিলিয়ন রিঙ্গিত বকেয়া বেতন পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছে।

 

চাকরির প্রস্তাব দিয়ে বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে অমানবিক পরিস্থিতিতে ফেলে সে দেশের পেঙ্গেরাংয়ের একটি কোম্পানি। মুলিয়াঅন এনার্জি এসডিএন বিএইচডি নামের ওই কোম্পানিটি ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দিয়ে সে দেশে কর্মী নিয়েছে। পরবর্তীকালে মালয়েশিয়ার ওই অঞ্চলের শ্রম আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে অর্ধেক বেতন পরিশোধের শর্তে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে রাজি হয়েছে কোম্পানিটি।

 

বৃহস্পতিবার ৮ জানুয়ারি মেট্রো হারিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি), জোহর শ্রম বিভাগের (জেটিকে) কর্মকর্তারা নিয়োগকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতিতে শ্রম আদালত এই নির্দেশনা দেয়।

 

গত বছরের অক্টোবর থেকে বেকার দিনযাপন করা এই কর্মীরা বাকি অর্ধেক বেতন কবে-নাগাদ পাবেন, সেই নিশ্চয়তা এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

 

মালয়েশিয়ার শ্রম আদালত জানিয়েছে, জোহর রাজ্যে সাত শতাধিক বাংলাদেশি কর্মীকে চাকরি দেওয়ার নামে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে ওই কোম্পানি। পরে আদালতে অভিযোগ করা হলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ওই কর্মীদের বকেয়া বেতনের অর্ধেক (প্রায় ১০ লাখ রিঙ্গিত বা ৩ লাখ মার্কিন ডলার) পরিশোধ করতে রাজি হয় মুলিয়াঅন এনার্জি এসডিএন বিএইচডি।

 

মালয়েশিয়ায় চাকরি না পাওয়া বাংলাদেশি ওই কর্মীরা জানান, তাদের গ্রুপটি গত ডিসেম্বর মাসে নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর থানায় অভিযোগ জানালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তাদের মধ্যে ১৭১ জনের একটি দল পেঙ্গেরাংয়ের একটি পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ জানাতে জড়ো হয়েছিল। পরে স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীদের সহায়তায় তারা শ্রম আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। কর্মীরা জানান, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সে দেশে যাওয়ার পর থেকেই কাজ না পেয়ে মানবেতর দিনযাপন করছেন তারা।

 

আদালতে বিরোধ নিষ্পত্তিকালে প্রতিষ্ঠানটি অর্ধেক বেতন পরিশোধ করতে রাজি হয়েছে। তবে বাকি বেতনের বিষয়ে ধোঁয়াশায় আছেন কর্মীরা।
জোহর বাহরু শ্রম আদালত সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে বলেছে, ৭শ ৩৩ জন অভিযোগকারীকে মোট ১ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন রিঙ্গিত বেতন দাবির ৫০ শতাংশ পরিশোধের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে রাজি হয়েছে উভয় পক্ষ (নিয়োগকর্তা এবং কর্মচারী)। বকেয়া বেতন পরিশোধের পাশাপাশি আগামী ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব ভুক্তভোগীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে আদালতকে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

এছাড়া এসব কর্মী যে গুরুতর আবাসন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন, তা কাটিয়ে উঠতে তাদের একটি নতুন হোস্টেলে স্থানান্তর করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

 

ভুক্তভোগী কর্মীরা জানান, ‘গত অক্টোবরে আমরা মালয়েশিয়ায় আসি। কোম্পানির লোক আমাদের পাসপোর্ট নিয়ে যায়। তারপর থেকে আমাদের কোনও কাজ নেই। না খেয়ে ছিলাম বেশ কয়েক দিন। দেশ থেকে টাকা এনে কোনোমতে চলছিলাম। কাগজপত্র না থাকায় নভেম্বরের মাঝামাঝি আমাদের ১৭১ জনকে আটক করে পুলিশ। তারা নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে থানায় যাচ্ছিলেন। পথে পুলিশ তাদের কাগজপত্র না পেয়ে আটক করে নিয়ে যায়। ১৪ দিন তারা জেলে ছিলেন। এসব বিষয়ে হাইকমিশনকে তারা জানাতে পারেনি। কারণ তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেবে। উপায়ন্তর না পেরে ভুক্তভোগীরা শ্রম আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন।’

 

 

কর্মীরা জানান, এতদিন দুর্বিষহ অবস্থায় থাকার পর আমরা ধোঁয়াশার মধ্যে আছি আদৌ কোনও টাকা পাবো কিনা। প্রতিশ্রুত অর্থ হাতে পাওয়ার পর আমরা বিশ্বাস করতে পারবো।

 

বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার নিয়ে মালয়েশিয়ায় কাজ করা ব্রিটিশ শ্রম অধিকার কর্মী এন্ডি হল শ্রম আদালতের রায় নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘এই হাইপ্রোফাইল ‘পেঙ্গেরাং নির্যাতনের’ মামলাটির জন্য মালয়েশিয়ার বিচার ও আইন প্রয়োগকারী ব্যবস্থার মধ্যে একটি প্রতিরোধমূলক নিষ্পত্তি প্রয়োজন। যেখানে সরকার এবং বিচার বিভাগ এই সংঘবদ্ধ অপরাধ সিন্ডিকেটকে দমন করার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে, সেখানে মূলত আধুনিক দাসত্ব বা জোরপূর্বক শ্রমের মতো পরিস্থিতিতে মালয়েশীয় বাংলাদেশিদের পাচার করা হয়েছে। সরকারের সর্বশেষ যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা এই বিবৃতি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নয়। এটি একটি হতাশাজনক নিষ্পত্তি।”

 

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র ও মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, তাদের মন্ত্রণালয় পেঙ্গেরাংয়ের মামলাটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখেছে এবং বিদেশি কর্মী শোষণের সঙ্গে জড়িত কোনও পক্ষের সাথে আপস করবে না। মানবপাচারের বিরুদ্ধে বেশ কিছু আইনে নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে তারা একমত পোষণ করেন।

 

এছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগের নতুন আবেদন থেকে নিয়োগ কর্তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। তাদের অবশিষ্ট অভিবাসী কর্মী কোটা এবং অনুমোদনের চিঠি বাতিল করা হবে। বিদেশি কর্মীদের বিদ্যমান ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে তাদেরকে (নিয়োগ কর্তা) বাধা দেওয়া হবে।

 

মানবসম্পদ মন্ত্রী, স্টিভেন সিম চি কিয়ং বলেছেন, শ্রম আইন লঙ্ঘন করে এমন কোন দলের সাথে আপস করা হবেনা। তার মন্ত্রণালয় সর্বদা কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করবে।

 

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মন্ত্রী (আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার), দাতুক সেরি আজালিনা ওথমান সাইদ বলেছেন, প্রায় ২হাজার ৫০০ বিদেশি কর্মী রয়েছে যারা তাদের নিয়োগকর্তাদের দ্বারা প্রতারিত হয়েছে পেনগারংয়ে।

 

ওথমান পেনজেরাং-এর সংসদ সদস্য। তিনি বলেছেন, মালয়েশিয়া আর ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সহ মানবাধিকার লঙ্ঘন সহ্য করতে পারে না এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সময় এসেছে।

শেয়ার করুন

মালয়েশিয়ায় প্রতারণার শিকার, ৭ শতাধিক বাংলাদেশি কর্মী পাচ্ছেন বকেয়া বেতন

আপডেটের সময় : ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

মালয়েশিয়ায় প্রতারণার শিকার ৭ শতাধিক বাংলাদেশি কর্মী পাচ্ছেন বকেয়া বেতন। পেনিনসুলার লেবার ডিপার্টমেন্ট (জেকেটিএসএম) জোহরের পেনজেরাং-এ ৭শ ৩৩ জন বাংলাদেশি কর্মীর নিয়োগকর্তাকে ১০ লাখ ৩৫হাজার ৫৫৭ মিলিয়ন রিঙ্গিত বকেয়া বেতন পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছে।

 

চাকরির প্রস্তাব দিয়ে বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে অমানবিক পরিস্থিতিতে ফেলে সে দেশের পেঙ্গেরাংয়ের একটি কোম্পানি। মুলিয়াঅন এনার্জি এসডিএন বিএইচডি নামের ওই কোম্পানিটি ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দিয়ে সে দেশে কর্মী নিয়েছে। পরবর্তীকালে মালয়েশিয়ার ওই অঞ্চলের শ্রম আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে অর্ধেক বেতন পরিশোধের শর্তে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে রাজি হয়েছে কোম্পানিটি।

 

বৃহস্পতিবার ৮ জানুয়ারি মেট্রো হারিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি), জোহর শ্রম বিভাগের (জেটিকে) কর্মকর্তারা নিয়োগকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতিতে শ্রম আদালত এই নির্দেশনা দেয়।

 

গত বছরের অক্টোবর থেকে বেকার দিনযাপন করা এই কর্মীরা বাকি অর্ধেক বেতন কবে-নাগাদ পাবেন, সেই নিশ্চয়তা এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

 

মালয়েশিয়ার শ্রম আদালত জানিয়েছে, জোহর রাজ্যে সাত শতাধিক বাংলাদেশি কর্মীকে চাকরি দেওয়ার নামে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে ওই কোম্পানি। পরে আদালতে অভিযোগ করা হলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ওই কর্মীদের বকেয়া বেতনের অর্ধেক (প্রায় ১০ লাখ রিঙ্গিত বা ৩ লাখ মার্কিন ডলার) পরিশোধ করতে রাজি হয় মুলিয়াঅন এনার্জি এসডিএন বিএইচডি।

 

মালয়েশিয়ায় চাকরি না পাওয়া বাংলাদেশি ওই কর্মীরা জানান, তাদের গ্রুপটি গত ডিসেম্বর মাসে নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর থানায় অভিযোগ জানালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তাদের মধ্যে ১৭১ জনের একটি দল পেঙ্গেরাংয়ের একটি পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ জানাতে জড়ো হয়েছিল। পরে স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীদের সহায়তায় তারা শ্রম আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। কর্মীরা জানান, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সে দেশে যাওয়ার পর থেকেই কাজ না পেয়ে মানবেতর দিনযাপন করছেন তারা।

 

আদালতে বিরোধ নিষ্পত্তিকালে প্রতিষ্ঠানটি অর্ধেক বেতন পরিশোধ করতে রাজি হয়েছে। তবে বাকি বেতনের বিষয়ে ধোঁয়াশায় আছেন কর্মীরা।
জোহর বাহরু শ্রম আদালত সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে বলেছে, ৭শ ৩৩ জন অভিযোগকারীকে মোট ১ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন রিঙ্গিত বেতন দাবির ৫০ শতাংশ পরিশোধের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে রাজি হয়েছে উভয় পক্ষ (নিয়োগকর্তা এবং কর্মচারী)। বকেয়া বেতন পরিশোধের পাশাপাশি আগামী ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব ভুক্তভোগীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে আদালতকে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

এছাড়া এসব কর্মী যে গুরুতর আবাসন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন, তা কাটিয়ে উঠতে তাদের একটি নতুন হোস্টেলে স্থানান্তর করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

 

ভুক্তভোগী কর্মীরা জানান, ‘গত অক্টোবরে আমরা মালয়েশিয়ায় আসি। কোম্পানির লোক আমাদের পাসপোর্ট নিয়ে যায়। তারপর থেকে আমাদের কোনও কাজ নেই। না খেয়ে ছিলাম বেশ কয়েক দিন। দেশ থেকে টাকা এনে কোনোমতে চলছিলাম। কাগজপত্র না থাকায় নভেম্বরের মাঝামাঝি আমাদের ১৭১ জনকে আটক করে পুলিশ। তারা নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে থানায় যাচ্ছিলেন। পথে পুলিশ তাদের কাগজপত্র না পেয়ে আটক করে নিয়ে যায়। ১৪ দিন তারা জেলে ছিলেন। এসব বিষয়ে হাইকমিশনকে তারা জানাতে পারেনি। কারণ তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেবে। উপায়ন্তর না পেরে ভুক্তভোগীরা শ্রম আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন।’

 

 

কর্মীরা জানান, এতদিন দুর্বিষহ অবস্থায় থাকার পর আমরা ধোঁয়াশার মধ্যে আছি আদৌ কোনও টাকা পাবো কিনা। প্রতিশ্রুত অর্থ হাতে পাওয়ার পর আমরা বিশ্বাস করতে পারবো।

 

বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার নিয়ে মালয়েশিয়ায় কাজ করা ব্রিটিশ শ্রম অধিকার কর্মী এন্ডি হল শ্রম আদালতের রায় নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘এই হাইপ্রোফাইল ‘পেঙ্গেরাং নির্যাতনের’ মামলাটির জন্য মালয়েশিয়ার বিচার ও আইন প্রয়োগকারী ব্যবস্থার মধ্যে একটি প্রতিরোধমূলক নিষ্পত্তি প্রয়োজন। যেখানে সরকার এবং বিচার বিভাগ এই সংঘবদ্ধ অপরাধ সিন্ডিকেটকে দমন করার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে, সেখানে মূলত আধুনিক দাসত্ব বা জোরপূর্বক শ্রমের মতো পরিস্থিতিতে মালয়েশীয় বাংলাদেশিদের পাচার করা হয়েছে। সরকারের সর্বশেষ যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা এই বিবৃতি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নয়। এটি একটি হতাশাজনক নিষ্পত্তি।”

 

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র ও মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, তাদের মন্ত্রণালয় পেঙ্গেরাংয়ের মামলাটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখেছে এবং বিদেশি কর্মী শোষণের সঙ্গে জড়িত কোনও পক্ষের সাথে আপস করবে না। মানবপাচারের বিরুদ্ধে বেশ কিছু আইনে নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে তারা একমত পোষণ করেন।

 

এছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগের নতুন আবেদন থেকে নিয়োগ কর্তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। তাদের অবশিষ্ট অভিবাসী কর্মী কোটা এবং অনুমোদনের চিঠি বাতিল করা হবে। বিদেশি কর্মীদের বিদ্যমান ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে তাদেরকে (নিয়োগ কর্তা) বাধা দেওয়া হবে।

 

মানবসম্পদ মন্ত্রী, স্টিভেন সিম চি কিয়ং বলেছেন, শ্রম আইন লঙ্ঘন করে এমন কোন দলের সাথে আপস করা হবেনা। তার মন্ত্রণালয় সর্বদা কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করবে।

 

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মন্ত্রী (আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার), দাতুক সেরি আজালিনা ওথমান সাইদ বলেছেন, প্রায় ২হাজার ৫০০ বিদেশি কর্মী রয়েছে যারা তাদের নিয়োগকর্তাদের দ্বারা প্রতারিত হয়েছে পেনগারংয়ে।

 

ওথমান পেনজেরাং-এর সংসদ সদস্য। তিনি বলেছেন, মালয়েশিয়া আর ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সহ মানবাধিকার লঙ্ঘন সহ্য করতে পারে না এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সময় এসেছে।