1. monir212@gmail.com : admin :
  2. user@probashbarta.com : helal Khan Probashbarta : Helal Khan
  3. merajhgazi@gmail.com : News Desk : Meraj Hossen Gazi
  4. desk@probashbarta.com : News Desk : News Desk
বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন

হঠাৎ ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্তে বিপাকে প্রবাসীরা

সনজিত কুমার শীল, আমিরাত :
  • প্রকাশিত : সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২১
Print Friendly, PDF & Email

 

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার এতে দেশে ছুটিতে গিয়ে আটকা পড়েছেন অনেক প্রবাসী। কাতার প্রবাসী চট্টগ্রামের বাসিন্দা ফয়েজ আহমেদ ছুটিতে দেশে গিয়ে আটকা পাঁচ মাসের ছুটির স্থলে কেটে গেছে তার ১৭ মাস। এরমধ্যে শেষ হয়ে গেছে কাতার কর্মস্থলের আইডির মেয়াদ। গত মার্চে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুনরায় কাতার ফিরে যাওয়ার বন্দোবস্ত শুরু করেন তিনি।

এই প্রবাসী ৮০ হাজার টাকা খরচ করে নতুন করে টিকিট করেছেন। প্রায় ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে কাতার গিয়ে কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য একটি হোটেলেও বুকিং দিয়েছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে ১৮ এপ্রিল করোনা ভাইরাস পরীক্ষার নমুনা দিয়ে ২১ এপ্রিল ইউএস বাংলার ফ্লাইট ধরে চট্টগ্রাম ছেড়ে যাবার কথা ছিল তার।

কিন্তু এরমধ্যেই দেশে করোনার প্রকোপ বাড়ায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে আন্তর্জাতিক রুটের সকল ফ্লাইট। এতে করে দেশে ১৭ মাস আটকে থাকা ফয়েজ আহমেদের যাত্রা পুনরায় অনিশ্চয়তার বেড়াজালে আটকে গেছে।

তার মতো সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী আহমেদ উল্লাহ, গত ২৫ অক্টোবর দেশে ছুটিতে গিয়েছিলেন। আবুধাবি ফিরতে সরকারি অনুমতির প্রয়োজন হলে অপেক্ষার সময় বাড়ে তার। সর্বশেষ অনলাইনে আবেদন করে ‘সবুজ সংকেত’ মিলে আহমেদ উল্লাহর। দেশটিতে একটি প্রতিষ্ঠানের পার্টনার হিসেবে কর্মরত তিনি। আমিরাত ফেরার অনুমতি পেয়ে চড়া মূল্যে টিকিট কিনেছেন বাংলাদেশ বিমানের। ১৭ এপ্রিল আবুধাবির উদ্দেশে উড়াল দেয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু তা আর হচ্ছে না এখন।

মোহাম্মদ ইয়াসিন নামের ঢাকার আমিরাত প্রবাসী গত ২ মাস আগে ছুটি কাটানোর জন্য দেশে যান। আগামী ১৮ এপ্রিল তার আমিরাত ফেরার কথা রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে বাংলাদেশ সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী সকল ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় দিশেহারা হয়ে যান তিনি। একদিকে অনেক বছরের চাকরিতে যোগদান অন্যদিকে ছুটি শেষ কি করবেন তিনি। তিনি জানান, যদি এই আরব আমিরাতে যথাসময়ে আসতে না পারে তাহলে তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে।

একই দেশে তিন মাসের ভ্রমণে যাবার কথা মুন্নি বড়ুয়ার। ২০ এপ্রিলের জন্য এয়ার অ্যারাবিয়ার ফ্লাইট বুকিং দিয়েছেন স্বামী সোহেল বড়ুয়া। তিন মাসের ভ্রমণ শেষে ১৪ জুলাই পুনারায় দেশে ফেরার টিকিটও নিশ্চিত করা ছিল তার। এখন আমিরাত যাওয়াই তার অনিশ্চিত হয়ে গেল।

আন্তর্জাতিক রুটের সব ফ্লাইট বন্ধ করায় তাদের মতো এমন হাজার হাজার প্রবাসীর নিজ কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। টিকিটের মূল্য কিংবা হোটেল বুকিংয়ের টাকা ফেরত নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। এরচেয়েও বড় ভয়ের আশঙ্কায় ছুটিতে থাকা প্রবাসীরা এই প্রতিবেদককে জানান, ওই সব দেশে তাদের ভিসা, আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবার কথা। যথা সময়ে ফিরতে না পারলে এগুলো নবায়ন করাও সম্ভব হবে না। এমনকি হয়ত তারা আর ফিরেও যেতে পারবেন না সেসব দেশে।

কাতার প্রবাসী চট্টগ্রামের ফয়েজ আহমেদ বলেন, সোমবার সকাল থেকে ইউএস বাংলার চট্টগ্রাম অফিসে এসে অপেক্ষা করছি। যেতে পারব কি-না তারা সঠিক কোনো উত্তর দিতে পারছে না। করোনা পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়েছি, তারাও ফিরিয়ে দিয়েছে। ফ্লাইট চালুর ঘোষণা এলে তবেই করোনা পরীক্ষা করাবে তারা। এতদিনের অপেক্ষা, তার ওপর এতগুলো টাকা খরচ করেও যেতে না পারলে পথে বসতে হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী আহমেদ উল্লাহ বলেন, অনেকদিন ধরে সবুজ সংকেতের জন্য অপেক্ষা করে আছি। যাও সংকেত এসেছে, এখন টিকিট করেও ফেরা অনিশ্চিত হয়ে গেল। দেশে ফিরেছি ছয় মাস হয়ে যাচ্ছে, সময় মতো না যেতে পারলে আর আমিরাত ঢুকতে পারব কি-না বুঝে উঠতে পারছি না।

মুন্নি বড়ুয়ার স্বামী সোহেল বড়ুয়া জানান, ফ্লাইট বন্ধের ঘোষণা পেয়ে এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তার। তবে সঠিক কোনো নির্দেশনা দিতে পারেনি তারা।

এর মধ্যে দেখা যাচ্ছে যারা এক সপ্তাহের জন্য জরুরী কাজে দেশে গিয়েছেন তারাও আটকা পড়েছেন। অনেকেই আছেন ভিজিট ভিসার জন্য টিকেট ব্লাড টেস্ট এবং অন্যান্য ডকুমেন্টস রেডি করে আরব আমিরাতে আসার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে সুদের উপর টাকা নিয়েও প্রবাসে আসার জন্য ভিজিট ভিসায় অনেক যাত্রী টিকেট করেছেন। কি হবে তাদের ভবিষ্যৎ।

অন্যদিকে যারা দেশে যাওয়ার জন্য টিকেট কেটেছেন চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন তাদের টিকেট ক্ষতিপূরণসহ কি হবে তারাও জানেনা। মোঃ আবু নামে এক যাত্রী জানান আমার স্ত্রী অসুস্থ বিধায় আমাকে দেশে গিয়ে চিকিৎসার জন্য অন্য দেশে যেতে হবে। দেশে যাওয়ার জন্য টিকেট না পেলেও আগামী ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট এর টিকেট করেছেন।

প্রবাসীরা বলছেন, চলমান করোনা মহামারির শুরু থেকে বহির্বিশ্বের বেশকিছু দেশ আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে দেশে আটকে পড়া প্রবাসীরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে যান। অনেকের শেষ হয়ে যায় ভিসা ও আকামার মেয়াদ। কিছু কিছু দেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পর্যায়ে এলে আকাশপথের যোগাযোগ শুরু হয়। পুনারায় আশায় বুক বাঁধা শুরু করেন আটকে পড়া প্রবাসীরা। নিয়োগকর্তা বা নিয়োগ দেওয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে প্রবাসে ফেরার অনুমতি নিতে শুরু করেন তারা।

কিন্তু এবার দেশ থেকে সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়ায় আবারও ভুক্তভোগী প্রবাসীদের অনিশ্চয়তা বেড়ে গেছে। বিমান টিকিট কিনে, হোটেল বুকিং দিয়েও বিদেশে ফিরে যাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা শঙ্কা।

অনেক প্রবাসীর দাবি, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদের। গতকাল সারজা থেকে এনাম নামে এক যাত্রী জানান আগামী ১৪ তারিখ আমাদের সারজা থেকে চট্টগ্রামের একটি ফ্লাইট এর টিকিট করে দিয়েছেন আমাদের কোম্পানি। আমি এ টিকেট করে কেমনে করে যাব। দেশ থেকে এসেছি প্রায় তিন বছর হয়ে গেল কিন্তু কোম্পানিতে কাজ কম তাকায় ছুটিতে যেতে হচ্ছে বাধ্যগত। বাংলাদেশের শিল্প কারখানা চালু থাকলেও প্রবাসীদের রেমিট্যান্স বন্ধ নেই। প্রবাসীদের দেখার জন্য কি কোন মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ নেই ? আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি অন্ততপক্ষে প্রবাসীদের আসা যাওয়ার জন্য ফ্লাইট চালু করা হোক। অন্যথায় আমাদের পথে বসতে হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও খবর
© 2018 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখ, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি
Theme Customized BY LatestNews