1. monir212@gmail.com : admin :
  2. user@probashbarta.com : helal Khan Probashbarta : Helal Khan
  3. merajhgazi@gmail.com : News Desk : Meraj Hossen Gazi
  4. desk@probashbarta.com : News Desk : News Desk
বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ০৮:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আমিরাতে মধ্যাহ্ন বিরতি আইন কার্যকর হওয়ায় প্রবাসীদের স্বস্তি সৌদি প্রবাসীদের ফ্লাইটের নতুন নির্দেশনা দিল বিমান স্পেনে শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস পালন বিদেশগামী কর্মীদের দ্রুত ভ্যাকসিন দিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা ডিসেম্বরের মধ্যে সব খাত চালু করতে চায় মালয়েশিয়া “বিগো লাইভে” প্রবাসীদের টার্গেট করেন তারা স্পেনের লেলিদায় বাংলাদেশিদের জন্য মসজিদ ও কবরস্থান তৈরির আশ্বাস মালয়েশিয়ায় দূতাবাসকর্মী হারুনুর রশিদের দাফন সম্পন্ন দক্ষিণ আফ্রিকায় কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বাংলাদেশির আমিরাতে ছয় বছর অবৈধভাবে থাকার পর দেশে ফিরলেন ক্যান্সার আক্রান্ত নূর হোসেন

আমেরিকার গল্প, দায়িত্ববোধ যেখানে সব কিছুর উর্ধ্বে

এস এম জাহিদ হাসান, যুক্তরাষ্ট্র :
  • প্রকাশিত : বুধবার, ১৭ মার্চ, ২০২১
Print Friendly, PDF & Email

 

আমেরিকায় আসার পর থেকেই আমি একটা দোকানে কাজ করছি। এতোদিন ধরে কাজ করার ফলে শত শত অভিজ্ঞতাও অর্জন হয়েছে আমার। এমনকি প্রতিদিনই কোন না কোন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয় আমাকে। সবচেয়ে অবাক লাগে যখন আমার স্টোরে কোন শিশু ক্রেতা আসে।

শিশু মানে আমেরিকাতে আঠারো বছরের নিচে। অনেকসময় আমার দোকানে তারা একাই আসে শপিং করতে, আবার অনেকসময় বাবা-মায়ের সাথেও আসে। তারা আসার পর কি করে? তার প্রয়োজনীয় জিনিস দেখতে থাকে। আমি এগিয়ে গিয়ে বলি- কোন সাহায্য করবো নাকি। এরপর যখন তার কোন কিছু পছন্দ হয় সেটা তার বাবা মাকে দেখায় যে, সে এটা পছন্দ করেছে। দাম জিজ্ঞাসা করে।

তখন সেই জিনিসটা নেবে কি নেবেনা সেটার সিদ্ধান্ত তার বাবা-মা তার সন্তানের ওপর ছেড়ে দেয়। তার বয়স ৫ হোক কিংবা ১৫ হোক। আর সেই জিনসটা কিনতে হয় সন্তানের টাকা দিয়েই। ধরুন- একটা শিশুর একটা মোবাইলের কাভার পছন্দ হলো সেটার দাম ৩০ ডলার, কিন্তু তার কাছে আছে ২৫ ডলার। চাইলেই কিন্তু তার মা-বাবা তাকে ৫ ডলার নিজের পকেট থেকে দিতে পারে।

কিন্তু সেটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কেউ করে না। আমাকে টিপস দিবে ১০ ডলার তারপরেও সন্তানকে সেই জিনিসটা কিনতে ৫ ডলার দিয়ে হেল্প করবে না। যেহেতু আমার স্টোরের সব সিদ্ধান্ত আমি নিতে পারি ,সেক্ষেত্রে আমি অনেকসময় ৩০ ডলারের জিনিস ট্যাক্সসহ ২৫ ডলারে সেই শিশুকে দিয়ে দেই। সেক্ষেত্রেও তার বাবা-মা কোন আপত্তি জানায় না।

আবার ধরুন, একজন শিশু আমার দোকান থেকে ৩টা জিনিস কিনলো যার দাম ৬০ ডলার, সে তার বাবা-মাকে জিজ্ঞাসা করবে সে নেবে কিনা। তার বাবা-মা বলবে এটা তোমার টাকা তোমার ডিসিশন। আমরা কি করি? ছোট ভাই কিংবা সন্তানদের দোকানে নিয়ে গেলে তাদের ঈদের টাকা পকেটে থাকলেও আহ্লাদে সেই টাকা তাকে খরচ করতে দেই না। নিজেদের পকেট থেকে বিল দেই।

কিন্তু এখানে প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রেই এমনটা কোন অভিভাবক করেন না তাদের সন্তান কিংবা ছোটদের সাথে। এতে কি হয়? নিজেদের প্রতি নিজেদের দায়ীত্ব নেবার প্রবণতাটা বৃদ্ধি পায়। এটা আমার ধারনা। মনোবিজ্ঞানিরা এ বিষয়ে আরোও বেশি হয়তো বলতে পারবেন। আবার অনেকে হয়তো বলবেন- নিজেদের ডিসিশন এই বয়সে নিজেরাই নিতে শিখে গেলে তারা বড়দের কথা শুনবে না। কেয়ারলেস ভাব চলে আসবে এমন হতে পারে। কিন্তু না, আমি এমন কেয়ারলেস আজ পর্যন্ত কোন আমেরিকান সন্তানকেই দেখিনি।

আরেকটা ঘটনা বলি, একদিন এক শিশু আসলো যার বয়স ৭ থেকে ৮ বছর হবে। সে একটা গলার চেইন পছন্দ করলো যার দাম ১৬০ ডলার। আমি শিশুদের কাছ থেকে সবসময় কম রাখার চেষ্টা করি। আমি যাই রাখি না কেন আমার দোকানের মালিক আমাকে কিচ্ছু বলেন না। যদি কাউকে ফ্রীও দিয়ে দেই তবুও কিচ্ছু বলেন না। এই স্বাধীনতাটা আমার আছে। এমন অনেক হয়েছে বাচ্চাদের দেখে আমি কত খেলনা ফ্রী দিয়ে দিয়েছি। এমনকি মালিকের সামনেই। সে কখনো কিচ্ছু বলেননি। তার গল্প অন্যদিন করবো।

তো ওই ছেলেকে বললাম এটার দাম ১৬০ ডলার। তবে শুধু তোমার জন্য আমি ২০ ডলার কমে দিবো। সে খুব খুশি হলো। সে তার বাবাকে বললো বাবা আমি এটা নেই। সে কিন্তু তার টাকা দিয়েই নেবে। তার বাবা আস্তে করে বললো না নিও না, সে বললো প্লিজ ড্যাড। বাবা পকেটে দুই হাত ঢুকিয়ে ধীর গলায় বলেই যাচ্ছে না দরকার নেই। অনেকগুলো টাকা খরচ হবে তোমার। প্রায় ৮ -১০ বার আমার সামনেই দাঁড়িয়ে বলতে লাগলো প্লিজ, প্লিজ প্লিজ…। কিন্তু একবারের জন্যও ছেলেটা তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে আহ্লাদ করলো না এবং একবারের জন্যও বাবা তার ছেলেকে হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো না।

এমন অনেক ঘটনা আছে বাবা কিংবা মা তার জন্য যে জিনিস কিনেছে সে তার টাকা দিয়েছে একই পরিবারের সন্তান তার জিনিস কিনেছে সে তার নিজের টাকা পরিশোধ করেছে। একবার একটা ছেলে এসে আমার কাছে জানতে তাইলো আমি অ্যাপেল পে এর মাধ্যমে বিল নেই নাকি। আমি জানালাম আমার দোকানে অ্যাপেল পে নেই। সে তার মা কে রিকোয়েস্ট করলো যেনো বিলটা সে দিয়ে দেয়। মা সরাসরি না করে দিলো। বাচ্চাটি বললো আমি তোমাকে অ্যাপেল পে তে টাকাটা দিয়ে দিবো। মা, আগে টাকাটা তার ফোনে ট্র্যান্সফার করলো তারপর সে সেই বিল শোধ করলো।

শেষ করবো ছবির এই ঘটনাটা বলে। এই ছেলেটা আমার দোকানে এসে একটা গলার চেইন দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করলো এটার দাম কতো। যেখানে আমি অন্যদের কাছে ৭০ ডলার বলি ঐটার দাম সেখানে কি মনে হলো শিশু দেখে বললাম ৫০ ডলার। সে পকেটে হাত দিয়ে দেখলো ৬০ ডলার আছে তার কাছে। সেখান থেকে ৫০ ডলারের নোট বের করে আমাকে দিয়ে দিলো। আর বললো- এটা আমাকে দাও।

আমি অবাক হয়ে গেলাম। তার এক্সপ্রেশন আর ম্যাচিউরিটি দেখে। আমাদের দেশে এমন ঘটনা হবার পর বাবা-মা সেই দোকানিকে এসে জিনিস ফেরত নিতে জোরও করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন সন্তাদের অভিভাবকই আসেননি আমাকে জোর করতে।

পরে শিশুটিকে বললাম তোমার সাথে একটা ছবি তুলতে পারি? সে বললো কেন কি করবা? কাউকে দিবে? আমি জানালাম হয়তো ফেসবুকে আপলোড দিবো। সে জানালো তার ফেসবুক থাকলে ভালো হতো দেখতো আমি কি ক্যাপশন দেই এই ছবিতে। এরপরে আমার সাথে ছবিও তুলতে রাজি হলো।

পরিশেষে একটা কথা বলতে চাই- সন্তানকে স্বাধীনতা দিন, আদবের মাঝে, ধর্মীয় অনুশাসনে আর ভালোবাসায়।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও খবর
© 2018 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখ, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি
Theme Customized BY LatestNews