1. monir212@gmail.com : admin :
  2. support@wordpress.org : Support :
  3. merajhgazi@gmail.com : News Desk : Meraj Hossen Gazi
  4. desk@probashbarta.com : News Desk : News Desk
রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০১:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

লিবিয়ায় অস্ত্রধারীর পিস্তল কেড়ে গুলি ছুড়ে রক্ষা পান এক বাংলাদেশি

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০
লিবিয়ায় হতাহতদের ছবি
Print Friendly, PDF & Email

 

লিবিয়ায় অস্ত্রধারীদের এলোপাতারি গুলিতে ২৬ বাংলাদেশি নিহত ও ১১ জন আহত হন। ভাগ্যক্রমে একজন পালিয়ে রক্ষা পান। পরে এক লিবায়ার নাগরিকের আশ্রয়ে জীবন রক্ষা করেন তিনি। দূতাবাসের সাথে ঐ বাংলাদেশি  যোগাযোগ করে বিস্তারিত জানান। বর্ণনা করেন মর্মান্তিক সেই ঘটনা। ঐ বাংলাদেশির নাম মোহাম্মদ সাইদুল। তার বাড়ি মাদারিপুর জেলার রাজৈর উপজেলায়। টেলিফোনে মাদারিপুরে তার এক বন্ধুর সাথেও কথা বলেন সাইদুল।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার ( ২৮ মে ) লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিজদাহ-তে (ত্রিপলি হতে ১৮০ কি.মি. দক্ষিণে) এই ঘটনা হয়।বলেন , তিনি একজন লিবিয়ানের আশ্রয়ে আত্মগোপনে আছেন।  ১৫ (পনের) দিন আগে বেনগাজী থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে কাজের সন্ধানে মানবপাচারকারীরা এ সকল বাংলাদেশিকে ত্রিপোলিতে নিয়ে আসার পথে তিনিসহ মোট ৩৮ (আটত্রিশ) জন বাংলাদেশি মিজদাহ শহরে নিকট লিবিয়ান মিলিশিয়া বাহিনীর একদল দুষ্কৃতকারীর হাতে জিম্মি হন। মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে জিম্মিকারীরা  অমানবিক নির্যাতন করতে থাকে। প্রতিনিয়তই অমানবিক নির্যাতন করতো বন্দিদের।

তিনি জানান, এমন পরিস্থিতিতে বন্দিরা সিদ্ধান্ত নেয় বন্দিকারিদের নেতাকে আক্রমন করে পালিয়ে যাবেন তারা। সেই মতে  শীর্ষ নেতাকে আটক করে সব বন্দি একত্রিত হয়ে তাকে মেরে ফেলে। একইসাথে আরেক সুদানী পাচারকারীকেও মেরে ফেলে তারা। এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই বন্দিকারির পরিবারের সদস্য ও অন্য পাচারকারিরা হামলা চালায় ক্যাম্পে। তারা এলোপাতারি গুলি করতে থাকে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সকলে। মোহাম্মদ সাইদুলও সকলের সাথে মৃতের মতো পড়ে থাকে।

এক পর্যায়ে রুমের ভিতরে একজন অস্ত্রধারি প্রবেশ করে মৃত্যু নিশ্চিত করতে। তখন সাইদুল ঐ  ব্যক্তির  পিস্তল কেড়ে নিয়ে গুলি করতে থাকে। তখন পাচারকারিরা পিছু হটলে তিনি ভিন্ন পথ দিয়ে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় ২৬ (ছাব্বিশ) জন বাংলাদেশি নিহত হয় এবং আরও ১১জন বাংলাদেশি হাতে-পায়ে, বুকে-পিঠে গুলিবিদ্ধ হন।

​ ​​এ সংবাদ পেয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা মিজদাহ হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এছাড়া, মৃতদেহগুলো মিজদাহ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন। আহতদেরকে পরবর্তীতে দূতাবাসের সহায়তায় উন্নত  চিকিৎসার জন্য ত্রিপোলিতে অবস্থিত বিভিন্ন হাসপাতালে আনা হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনের শরীর হতে গুলি বের করার জন্য অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস লিবিয়ার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং আইওএম লিবিয়ার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং তারা আহত ব্যক্তিদের জন্য সম্ভাব্য সহায়তা প্রদান করছেন। মিশনের কর্মকর্তারা আহতদের কাছ থেকে ঘটনার  বিবরণসহ নিহতদের পরিচয় জানার চেষ্টা করছেন।

এ মর্মান্তিক যটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের সুচিকিৎসার নিশ্চিতকরণে দূতাবাসকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে দূতাবাস লিবিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পুরো ঘটনার তদন্তসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার, দোষীদের যথাযথ শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্যও অনুরোধ জানিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে, লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিজদাহের সুরক্ষা বিভাগকে অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং তাদের বিচারের আওতায় আনার জন্য সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস দ্রুততম সময়ে আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থা, মানব পাচারে জড়িতদের বিবরণ এবং লিবিয়ান সরকার কর্তৃক এ বিষয়ে পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।

উল্লেখ্য যে, মিজদাহ শহরে এখন যুদ্ধাবস্হা বিরাজমান এবং এ অঞ্চলটি এখন দুটি শক্তিশালী পক্ষের যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে। কিছুদিন আগে ত্রিপোলি ভিত্তিক এবং ইউএন সমর্থিত জিএনএ সরকার এই অঞ্চলটি দখল করে নিলেও জেনারেল হাফতারের নেতৃত্বাধীন পূর্ব ভিত্তিক সরকারি বাহিনী দু’দিন আগেও শহরটিতে বোমাবর্ষণ করেছে। ত্রিপোলি ভিত্তিক সরকারের এ অঞ্চলের উপর নিয়ন্ত্রণ ছিল অত্যন্ত ক্ষীণ। বর্তমানে এমনকি ত্রিপোলি শহরেও বিরোধীপক্ষ মাঝেমাঝে বোমাবর্ষণ করে থাকে। দু’টি শক্তিশালী পক্ষ যুদ্ধরত থাকায় জীবনযাত্রা স্বাভাবিক নয়। এ কারণে অধিকাংশ দেশ তাদের দূতাবাস তিউনিসিয়াতে স্হানান্তর করলেও বাংলাদেশসহ মাত্র তিনটি দেশ তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এ প্রতিকূল অবস্থাতেও বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ​

বাংলাদেশ সরকার সকল প্রকার মানব পাচারের সম্পূর্ণরূপে বিরোধী এবং মানব পাচার রোধে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্নমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যার ফলে বাংলাদেশ হতে মানব পাচারের পরিমাণ বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। এ সমস্যাকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূলের লক্ষ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধিরসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একসাথে কাজ করা প্রয়োজন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও খবর
© 2018 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখ, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি
Theme Customized BY LatestNews