1. monir212@gmail.com : admin :
  2. support@wordpress.org : Support :
  3. merajhgazi@gmail.com : News Desk : Meraj Hossen Gazi
  4. desk@probashbarta.com : News Desk : News Desk
রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

কর্মী ফেরত আনতে চাপে বাংলাদেশ, কালো তালিকার হুমকি কুয়েতের

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত : রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২০
Print Friendly, PDF & Email

 

স্টাফ রিপোর্টার: বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশি কর্মী ফেরত আনতে একের পর এক চাপ দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি অনিয়মিত বা অবৈধ কর্মী এবং যেসব কর্মী বিভিন্ন কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আছেন তাদেরকে ফেরত আনতে জোরালো চাপ দিচ্ছে কয়েকটি দেশ। এরইমধ্যে  কুয়েত থেকে অবৈধ কর্মী এবং সাজাপ্রাপ্তদের ফেরত না আনলে কালো তালিকাভুক্ত করার হুমকিও দেয়া হয়েছে। একইসাথে দেশটিতে থাকা বৈধ কর্মীদের ইকামা নবায়ন না করার কথা জানিয়েছে কুয়েত সরকার।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে জরুরি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে মন্ত্রী ইমরান আহমদ জানান, কয়েকটি দেশ থেকে বাংলাদেশি অনিয়মিত কর্মীদের ফেরত আনার বিষয়ে দূতাবাসগুলোকে বলা হয়েছে। দূতাবাসগুলো সেই প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ইমরান আহমদ বলেন, কুয়েত থেকে সাজাপ্রাপ্ত এবং অবৈধ কর্মীদের দেশে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কুয়েত সরকার সকল খরচ দিয়ে কর্মীদের পাঠাতে যাচ্ছে। মন্ত্রী বলেন করোনাভাইরাসের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যারা ফেরত আসবে, তাদেরকে আবারো দেশগুলোতে পাঠানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে।

বৈঠকে অংশ নেয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কর্মী আনতে চাপ দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে অবৈধ কর্মীদের বিষয়টি বেশি আলোচনায় আসছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এমন পরিস্থিতিতে তারা চাপের মধ্যে রয়েছেন।

ড. মোমেন বলেন, ” আমরা কেস টু কেস বিষয়গুলো দেখছি। যেসব দেশ বলছে, কর্মী ফেরত না নিলে আপনাদের কর্মীদের সমস্যায় ফেলবো, সেগুলো আগে দেখা হচ্ছে। ”

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, কুয়েত থেকে সাজাপ্রাপ্ত ১৯০ আসামিকে বাংলাদেশের ফেরত পাঠাতে চাচ্ছে। তারা কেন সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন বা কী অপরাধে হয়েছেন সে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য দূতাবাসের কাছে তালিকা চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব কর্মীরা কোন জঙ্গি সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখেই দেশে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, মূলত ৬টি শ্রমবাজার নিয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়। শ্রমবাজারগুলো হল কুয়েত, মালদ্বীপ, বাহরাইন, ওমান, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়া। এই দেশগুলো নিয়ে যেসব বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়:

কুয়েত সরকার দেশটিতে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। এই সময়ের মধ্যে কুয়েতে থাকা সকল অনিয়মিত বা অবৈধ কর্মীদের নিজ দেশে ফেরত যেতে বলেছে। বাংলাদেশি কয়েক হাজার কর্মী অবৈধ রয়েছে দেশটিতে। এই কর্মীদের ফেরত না আনলে কুয়েত সরকার বাংলাদেশকে কালো তালিকাভুক্ত করার মত হুমকিও দিয়েছে। শুধু তাই নয়, বৈধও কর্মীদের ইকামা নবায়ন না করা এবং নতুন করে কোনো কর্মী না নেয়ার মতো হুমকিও দিয়ে রেখেছে কুয়েত সরকার।

মালদ্বীপ অবৈধ বিদেশি কর্মীদের নিজেদের ( মালদ্বীপের ) খরচে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এরইমধ্যে বাংলাদেশি ৩৮ হাজার অনিয়মিত কর্মী দেশে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট মিশনে নিবন্ধিত হয়েছে। এই কর্মীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরত আনার জন্য মালদ্বীপ সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মালদ্বীপ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেন, “মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশি অবৈধ কর্মীদের দায়িত্ব নিতে রাজি নন। বৈধ কর্মীদের সকল সহায়তা দিতে চাইলেও অবৈধ কর্মীদের দ্রুত দেশে ফেরত আনার কথা বলেছেন মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।”

বাহারাইন সরকার একই পদক্ষেপ নিচ্ছে। সম্প্রতি দেশটির কারাগার থেকে ৯০১ জন বিদেশি কয়েদির সাজা মওকুফ করা হয়। এর মধ্যে ২১৬ জন বাংলাদেশির তালিকা পাওয়া গেছে। এসব কর্মীর দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। দেশটি থেকে ৩০ হাজারের মতো কর্মী দেশে ফিরতে পারেন বলেও সংশ্লিষ্ট দূতাবাস থেকে মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।

সৌদি আরব ও ওমান একই রকমের পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আলোচনা হয় বৈঠকে। এই দুই দেশে কয়েক লাখ অবৈধ কর্মী আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্রি ভিসায় যারা কাজ করছেন তাদেরকেও অবৈধ হিসেবে ধরা হচ্ছে এখন। তাই এসব দেশ অবৈধ কর্মী ফেরত দিতে চাইলে পরিস্থিতি কী হতে পারে তাও আলোচনা হয়।

করোনাভাইরাসের প্রভাবে মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বন্ধ হয়ে যেতে পারে দেশটির বিভিন্ন কলকারখানা। এমন অবস্থায় মালয়েশিয়া থেকেও বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী দেশে ফেরত আসতে বাধ্য হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এসব বিষয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয় ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১৩ টি দেশে বাংলাদেশ মিশনকে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। দেশগুলো হলো স্পেন, ব্রুনাই, আবুধাবি, মিলান ( ইতালি ), জর্ডান, লেবানন, দুবাই, কাতার, বাহরাইন, ওমান, গ্রিস ও ইরাক।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের খাদ্য এবং চিকিৎসার জন্য এই অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরো বরাদ্দ দেয়া হবে বলেও জানান, ইমরান আহমদ। মন্ত্রী জানান, এই অর্থ দেয়া হচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্না্রস কল্যাণ বোর্ডের তহবিল থেকে।

মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, যে সকল প্রবাসী ছুটিতে দেশে এসেছেন, তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট দেশ নবায়ন করে দেবে। এ বিষয়ে কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে সম্মত হয়েছে বলেও জানান প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ মহিবুল হক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সেলিম রেজা, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মোঃ শহিদুজ্জামান, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মোঃ আসাদুল ইসলাম, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো’র মহাপরিচালক মোঃ শামছুল আলম, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মোঃ হামিদুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন প্রমুখ

 

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও খবর
© 2018 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখ, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি
Theme Customized BY LatestNews