1. monir212@gmail.com : admin :
  2. support@wordpress.org : Support :
  3. merajhgazi@gmail.com : News Desk : Meraj Hossen Gazi
  4. desk@probashbarta.com : News Desk : News Desk
রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

করোনাভাইরাস: পর্তুগালে অবৈধরাও সকল সুবিধা পাবেন

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২০
Print Friendly, PDF & Email

 

জাহিদ হাসান সোহাগ, (লিসবন) পর্তুগাল: করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর মতো জাতীয় দূর্যোগে স্থানীয় নাগরিকদের পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্তুগাল সরকার।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে পর্তুগাল সরকারের পক্ষ থেকে একটি ঘোষণায় বলা হয়, কোভিড-১৯ এর মতো জাতীয় দূর্যোগে যে সকল অভিবাসী বৈধ কাগজ না থাকায় সরকারী বিভিন্ন সেবা, জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা, সোশ্যাল সিকিউরিটি থেকে সহায়তা পাচ্ছে না। তাদেরকে সেই সেবা নিশ্চিত করতে সরকার সকল অনিয়মিত অভিবাসীদের নিয়মিতদের মতোই সকল সুযোগ সুবিধা দেয়ায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অ্যাসাইলামের মাধ্যমে আশ্রয় গ্রহণকারীরাও এর আওতাধীন থাকবেন।

চলতি বছরের ১৮ই মার্চ পর্তুগালের বর্তমান জরুরি অবস্থা জারির দিন পর্যন্ত যারা ইমিগ্রেশন সেন্টারে নিয়মিত হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন তারা এর আওতাধীন থাকবেন। ইমিগ্রেশন আর্টিকেল ৮৮ ও ৮৯, ৯০ অনুচ্ছেদের অধীনে যারা আবেদন করেছেন।

এছাড়াও সাধারণ নাগরিকদের যাদের ডকুমেন্টের মেয়াদ শেষ আগামী ৩০শে জুন পর্যন্ত তাদের সবার ডকুমেন্ট ভ্যালিড থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে সরকার।

গেল শুক্রবার রাতে ইমিগ্রেশন সার্ভিস কে সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো নির্দেশনায় এমনটা জানানো হয়। ইমিগ্রেশন সার্ভিসে নিবন্ধনের প্রমাণ স্বরুপ যে কাগজ অভিবাসীদের হাতে রয়েছে সেটি সকল সরকারি সেবা, জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা, স্যোশাল সিকিউরিটি থেকে সহায়তা, কাজের কন্ট্রাক্ট সই করা, নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা সহ সব ধরণের সরকারী কাজে নিবন্ধনের সেই কাগজ বৈধ বলে গণ্য হবে। দূর্যোগকালীন সময়ে এটিই তাদের বৈধতার প্রমাণ।

পর্তুগিজ সরকারের জাতীয় মূদ্রণ দিয়ারা দ্য রিপাবলিকা তে প্রকাশিত আইন ৬২/২০২০ এ উল্লেখ করা হয় এই আইনের মাধ্যমে পর্তুগালে বসবাসরত সকল অভিবাসীদের সমান অধিকার নিশ্চিতের দ্বিধাহীন গ্যারান্টি প্রদান করা হয়েছে।

এমনকি সে সকল অভিবাসীর কাছে থাকা ডকুমেন্ট হারিয়ে গেছে কিংবা চুরি হয়ে গেছে এমন পরিস্থিতিতে যদি সে অভিবাসীর জরুরী কোথাও ভ্রমণ করতে হয় তাহলে তাকে উপযুক্ত প্রমাণ প্রদর্শনের শর্তে যাতায়াতের অনুমতি প্রদান করতে বলা হয়েছে ইমিগ্রেশন সেন্টারের সকল আঞ্চলিক পরিচালকদের।

সরকারের নির্দেশনা এলেও ইমিগ্রেশন সেন্টার এখনো নিশ্চিত করে বলেনি ঠিক কত সংখ্যক অনিয়মিত অভিবাসী তাদের কাছে নিবন্ধিত রয়েছেন।

গেল সপ্তাহে অভিবাসীদের ২০টি অ্যাসোসিয়েশন সরকারের কাছে অনিয়মিত অভিবাসীদের নিয়ে তাদের শংকা সরকারের কাছে তুলে ধরেন। তারা সরকারের কাছে লিখিত জানান যে, অভিবাসীরা এদেশের স্যোশাল সিকিউরিটিতে অবদান রাখছে তাই দূর্যোগকালীন এই সময়ে তাদের যদি কাজ না থাকে কিংবা পরিবারের সদস্যদের দেখাশোনা করতে হয় সেক্ষেত্রে অন্যান্য সাধারণ নাগরিকদের মতো তারাও সরকারের এসব সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখে। তাই তাদের এই অধিকার নিশ্চিত করা হোক।

গেল সপ্তাহে ব্রাজিলিয়ান অভিবাসীদের বড় একটি অংশ এই নিয়ে আন্দোলন করেন। ব্রাজিলিয়ানরা পর্তুগালে অভিবাসীদের সংখ্যায় সর্বোচ্চ প্রায় ১,৫১,০০০ অভিবাসী পর্তুগালে বসবাস করেন। আন্দোলনকারীদের মাঝে অংশ নেন শিক্ষক, চিকিৎসক, ছাত্র, লেখক, নিরাপত্তা কর্মী সহ বিভিন্ন পেশার অভিবাসী মানুষেরা। তারা কোভিড-১৯ এর মতো জাতীয় দূর্যোগে সকল অভিবাসীর সমান অধিকার নিশ্চিতকরণের দাবি জানান।

এ খবর পেয়ে অনিয়মিত থাকা প্রবাসী এক বাংলাদেশি জানান, অনিয়মিত অবস্থায় স্যোশাল সিকিউরিটিতে অবদান রাখলেও দূর্যোগকালীন এই সময়ে আমরা বেশ শংকিত ছিলাম! ধন্যবাদ মানবিক পর্তুগিজ সরকারকে যারা আমাদের তাদের স্থানীয় নাগরিকদের মতো সমান অধিকার নিশ্চিত করেছেন।

অভিবাসীরা পর্তুগালের স্যোশাল সিকিউরিটিতে বছরে প্রায় ৬৫১ মিলিয়ন ইউরো অবদান রাখে। তাই তাদের সকল অধিকার নিশ্চিত করা দাবিটি যথার্থ বলেই মনে করছেন আন্দোলনকারী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও খবর
© 2018 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখ, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি
Theme Customized BY LatestNews