1. monir212@gmail.com : admin :
  2. support@wordpress.org : Support :
  3. merajhgazi@gmail.com : News Desk : Meraj Hossen Gazi
  4. desk@probashbarta.com : News Desk : News Desk
রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০২:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশীসহ ১০ জনকে কোয়ারেন্টিনের নির্দেশ

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০
Print Friendly, PDF & Email

 

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া: মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশীসহ ১০ জনকে কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে। দেশটির  সেলায়াং পাসার পাইকারি বাজারে ১০ জন বিদেশী কর্মী কাজ করছিলেন। বুধবার (২৫ মার্চ) কুয়ালালামপুর সিটি হল (ডিবিকেএল) ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় (এমওএইচ) পরিচালিত দুই ঘন্টার যৌথ অভিযানের সময় তাদের শনাক্ত করা হয়।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ থেকে ২ মার্চে অনুষ্ঠিত সেরি পেতালিং মসজিদে তাবলীগ জামাতে অংশ নিয়েছিলেন তারা। তাদেরকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ডিবিকেএল কর্পোরেট পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক খায়রুল আজমির আহমদ জানান, অভিযানের সময় বিদেশি কর্মীরা তাদের দোকানগুলো বন্ধ করে দিচ্ছিলো। এ দোকান গুলো রাত ১০টা থেকে পরেরদিন সকাল পর্যন্ত চালু থাকে। তিনি আরও বলেন, আমরা যখন সেখানে পৌছাই তখন তারা আমাদের দেখে পালানোর চেষ্টা করছিল। কারন তারা ভেবেছে তাদেরকে গ্রেফতার করতে এসেছি। কিন্তু আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল তাদেরকে কোভিড-১৯ এর হেলথ স্ক্রিনিং টেস্ট বা করোনার উপস্থিতি পরীক্ষা করতে চেয়েছিলাম। তিনি বলেন তবে আমরা সেসময় ৪০০ জন বিদেশি কর্মীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পর ১০ জন কর্মীকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছিলাম। যাদের জ্বর, কাশি ও ফ্লু জাতীয় রোগের উপস্থিতি ছিল। ১০ জন কর্মীর মধ্যে মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক বলে জানান তিনি। তবে কোন দেশের কতজন সেটা নিশ্চিত করেননি। ডিবিকেএল সবসময় শহরের বাজারগুলোতে কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে  স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সহোযোগিতা করে আসছে বলে জানান তিনি।

মালয়েশিয়ায় করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ

এ দিকে মালয়েশিয়ায় অবৈধ প্রবাসীদের গ্রেফতার করা হবেনা বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সাবরি। মালয়েশিয়া যখন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন অতিক্রম করে যাছে। পুরো মালয়েশিয়ায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার লকডাউন সহ বিভিন্ন বড় পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। হাসপাতালে আক্রান্তদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও কোন ত্রুটি রাখছেনা। বিপুল পরিমাণে বাজেট করা হয়েছে করোনা প্রতিরোধে। তাবলীগ ইজতেমায় অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে প্রায় ১ হাজারের বেশি আক্রান্ত হয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে ইজতেমায় প্রায় দেড় থেকে হাজার রোহিঙ্গা ও রিফিউজি অংশগ্রহণ করেছে যাদের প্রতি টঘঐঈজ ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। মালয়েশিয়ার সরকার দেশটিতে থাকা অবৈধ প্রবাসীদের বা আনডকুমেন্টেড অভিবাসীদের অতি সত্তর হাসপাতালে গিয়ে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে। যদি কারো শরীরে করোনার লক্ষ্মণ গুলো অনুভত হয়। এক্ষেত্রে একজন মানুষ বা একজন রোগী হিসেবেই চিকিৎসা দেয়া হবে ভিসা আছে কি নেই, কোম্পানির মেডিকেল কার্ড আছে কি নেই সেটা যাচাই করা হবেনা। মোট কথা অবৈধভাবে অবস্থানরত কাউকে গ্রেফতার করা হবেনা। এই ক্ষেত্রে অবৈধদের ভয় না পেয়ে নির্ভয়ে নিশ্চিন্তে মেডিকেল চেক আপের পরামর্শ দেয়া হয়।

মালয়েশিয়ার মেডিসিন স্যানস ফ্রন্টিয়ারস (এমএসএফ) মিশনের প্রধান বিট্রিস লাউ বলেছেন, সরকারের ১০/২০০১ সার্কুলার বাতিল করা উচিত যাতে অবৈধ অভিবাসীদের চিকিৎসা বিষয়ে পুলিশ এবং ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের কাছে জবাবদিহি না করতে হয়।

তিনি ২৪ মার্চ এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, প্রায় ২০ বছর আগে প্রথম সার্কুলার ১০/২০০১ প্রনয়নের পর থেকে মালয়েশিয়ায় অবৈধ হয়ে যাওয়া অভিবাসীরা চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ধীরে ধীরে হুমকির মধ্যে জীবন কাটিয়ে আসছে। গত ২২ মার্চ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী দাতুক সেরি ইসমাইল সাবরির ঘোষণা অনুযায়ী  কোভিড -১৯ এর উপস্থিতি সন্দেহে হাসপাতালে বা ক্লিনিকে এসে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সময় সরকারের কোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনিপদক্ষেপ নেবেনা বলে আশ্বস্ত করেছেন। এমএসএফ  মিশনের প্রধান লাউ স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের ১০/২০০১ সার্কুলারটিকে মানবিক সাহায্য হিসেবে বাতিল করার অনুরোধ জানিয়েছেন যাতে করে অবৈধ অভিবাসীসহ সবাই চিকিৎসা করতে পারে।

এ দিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দেশটিতে চলাচলের ওপর আরোপিত বিধি-নিষেধের মেয়াদ আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকার প্রেক্ষিতে বুধবার তিনি এই ঘোষণা দেন।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী মুহিদ্দীন ইয়াসিন বুধবার জানান, দেশে নতুন করে আরও ১৭২ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৯৬ জনে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যা সর্বোচ্চ। এছাড়া মারা গেছেন ২০ জন।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে গত ১৬ মার্চ দেশব্যাপী ‘লকডাউন’ ঘোষণা করে মালয়েশিয়া সরকার। ওইদিন স্থানীয় সময় রাত ১০টায় জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মুহিদ্দীন ইয়াসিন এ ঘোষণা দেন। সেই লকডাউনের মেয়াদ ছিল ৩১ মার্চ। এবার তা বেড়ে হয়েছে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত।

করোনার কারণে দেশের অর্থনীতি যে নাজুক অবস্থার দিকে যাচ্ছে তা থেকে অর্থনীতিকে তুলে আনতে সরকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন আগামী শুক্রবার (২৭ মার্চ) তিনি নিজে ওই প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা দেবেন।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসমাগম এলাকা ও শহর-গ্রাম-বন্দরে চলাচলের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশ একযোগে কাজ করছে। মালয়েশিয়া সরকার ঘোষিত ‘লকডাউন’ সময়ে শ্রমিকদের বেতন দিতে নির্দেশনা প্রদান করেছে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকার ঘোষিত এই বন্ধের আদেশের দিনগুলোতে শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা প্রদান করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে নিয়োগদাতা ও মালিক পক্ষকে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও খবর
© 2018 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখ, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি
Theme Customized BY LatestNews