1. monir212@gmail.com : admin :
  2. user@probashbarta.com : helal Khan Probashbarta : Helal Khan
  3. merajhgazi@gmail.com : News Desk : Meraj Hossen Gazi
  4. desk@probashbarta.com : News Desk : News Desk
শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ০৭:২০ অপরাহ্ন

মাতা-পিতা শ্রেষ্ঠ নেয়ামত

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯
Print Friendly, PDF & Email

 

মো.শামসুল ইসলাম সাদিক: সৃষ্টিকর্তা মানব জাতিকে মাতা-পিতার মাধ্যমেই সুন্দর ধরনীর আলো বাতাস দেখিয়েছেন। পৃথিবীর মাঝে মাতা-পিতাই সন্তানের আপনজন। সন্তানের জন্য মাতা-পিতার মতো আপন পৃথিবীতে দ্বিতীয় কেউ নেই। সন্তান জন্ম নেয়ার পর মাতা-পিতা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেন।

সৃষ্টিকর্তা মাতা-পিতার খেদমত করার জন্য সর্বাধিক তাগিদ দিয়েছেন। মহান প্রভু তাঁর ইবাদতের পর মাতা-পিতার খেদমত করার নির্দেশ দিয়েছেন। মুসলিম জাতির উপর সৃষ্টিকর্তার ইবাদত করা ফরজ। ঠিক মাতা-পিতার খেদমত করা প্রত্যেক মানুষের উপরও ফরজ। সর্বাস্থায় আল্লাহর সকল হুকুম পালনে বাধ্য থাকতে হবে, তেমনি জীবনের প্রতিক্ষেত্রে মাতা-পিতার অনুগত থেকে তাঁদের খেদমত করতে হবে।

সৃষ্টিকর্তা ইরশাদ করেন- তোমাদের প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত তোমরা অন্য কারো ইবাদত করোনা, এবং মাতা-পিতার প্রতি সর্বদা সদ্ব্যবহার কর। তাদের একজন বা উভয়েই তোমাদের জীবদ্দশায় বার্ধ্যকে উপনীত হলে তাদেরকে  ‘উফ’ শব্দ বলোনা  (বিরক্তি, উপেক্ষা, অবজ্ঞা, ক্রোধ ও ঘৃণাসূচক কোনো কথা) এবং তাদেরকে ধমক দিওনা, তাদের সাথে সম্মান সূচক কথা বল। মমতাবশে তাদের প্রতি তার পক্ষপুট অবনমিত কর এবং বল “হে আমার রব ! তাদের প্রতি দয়া কর যেভাবে শৈশবে তাঁরা আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন। তোমাদের অন্তরে যা আছে তা তোমাদের প্রতিপালক ভাল করেই জানেন। যদি তোমরা সৎ হও, তবে তিনি তওবাকারীদের জন্য ক্ষমাশীল”।

অন্যত্রে ইরশাদ হচ্ছে- “তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করবে ও কোন কিছুকে তাঁর সাথে শরীক করবেনা এবং মাতা-পিতা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম-অনাথ, অভাবগ্রস্থ, নিকটাত্মীয়, দূর, প্রতিবেশী, সঙ্গি-সাথী পথচারী এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করবে” ।

মানুষের সম্পদ সৃষ্টিকর্তার জন্য ব্যয় যেমনি করতে হবে ঠিক সন্তানরাও মাতা-পিতার খেদমতের জন্য ব্যয় করতে হবে। মাতা-পিতা সন্তানের অতি আপনজন। তাঁদের সর্বাবস্থায় সন্তুষ্ট রাখতে হবে, সম্মানপ্রদর্শন করতে হবে, সেবা করতে হবে। বর্তমান সমাজে অশিক্ষিত লোকেরা মাতা-পিতার সাথে দুর্ব্যবহার করছেই; আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত লোকদের অবস্থা করুণ ও ভয়াবহ। অশিক্ষিত লোকদের চেয়ে শিক্ষিতরা আধুনিকতার দম্ভে মাতা-পিতার সাথে দুর্ব্যবহার করছেন। শিক্ষিত ছেলেরা যদি শিক্ষিত স্ত্রী পেয়ে যান তাহলে মাতা-পিতার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। কারণ বয়োবৃদ্ধ মাতা-পিতার সেবায় এগিয়ে এলে তাদের বর্তমান আধুনিক স্টাইল নষ্ট হয়ে যাবে। বিধায় মাতা-পিতার খেদমতের ধারে কাছে আসতে রাজি হননা- বরং দূরে দূরে থাকতে চান।শিক্ষিত-অশিক্ষিত ছেলেরা তারা তাদের প্রিয়তমা স্ত্রীর কুপরামর্শে মাতা-পিতার স্বর্গীয় সহচার্য ছিন্ন করতে বাধ্য হন। যা অনেক হৃদয় বিদারক ও মর্মস্পর্শী।

বর্তমান সমাজে এটার অন্যতম কারণ ইসলামি সুশিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। শিক্ষিত লোক মাতা-পিতার সাথে দুর্ব্যবহার করবে কেন? স্ত্রীর সুপরামর্শ সায় না দিয়ে কুপরামর্শে সায় দেবে কেন? শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা মাতা-পিতার অবাধ্য হলে জাতি নৈতিকতা শিখবে কোথায়? সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য নিশ্চয় মাতা-পিতার বাধ্য থাকতে হবে এবং তাঁদের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।

ইসলামের ইতিহাসে মাতা-পিতার দায়িত্ব ও গুরুত্ব অপরিসীম। হাদিসে বর্ণিত- যখন কোন সন্তান তার আপন মাতা-পিতার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকায়, তখন সৃষ্টিকর্তা প্রতিটি দৃষ্টির বিনিময়ে তার আমলনামায় একটি ‘মকবুল হজ্ব’ এর ছওয়াব লিপিবদ্ধ করে দিবেন। সাহাবায়ে কেরামগণ আরজ করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি কোন ব্যক্তি দৈনিক একশত বার এরূপ থাকায় তবুও কি সে এই ছওয়াব পাবে? তিনি জবাবে বললেন ‘হ্যাঁ’। আল্লাহ অতি মহান, অতি পবিত্র।

হাদিসে বর্ণিত আছে যে, তার নাসিকা ধূলিসাৎ হোক, তার নাসিকা ধূলিসাৎ হোক , তার নাসিকা ধূলিসাৎ হোক- একথা রাসুল (সা:) তিন বার বললেন। জিজ্ঞেস করা হল- ইয়া রাসূলাল্লাহ ! কে সে? যার নাসিকা ধূলিসাৎ হোক। তিনি বললেন- যে ব্যক্তি তার মাতা-পিতার একজনকে অথবা  উভয়জনকে তাদের বার্ধক্য অবস্থায় পেল অথচ (তাদের খেদমত করে ) সে বেহেশতে প্রবেশ করলো না। যে ব্যক্তি তার মায়ের চক্ষুদ্বয়ের মধ্যভাগে চুমা দিবে সে দোযখ থেকে মুক্তি পাবে। অনত্রে বর্ণিত- যে ব্যক্তি তার মায়ের পা চুম্বন করলো (কদমবুছি করলো) সে যেন বেহেশতের চৌকাঠে চুম্বন করলো।

যারা মাতা-পিতার সাথে খারাফ ব্যবহার, তাঁদের অবাধ্যতা, কষ্ট দেয়া, এবং তাঁদের সাথে দুর্ব্যবহার করে তাদের উপর আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা:) এবং ফেরেস্তার অভিসম্পাত করেন। এরূপ কাজে সৃষ্টিকর্তা কখন ক্ষমা করবেন না। মাতা-পিতার অবাধ্য ছেলে ও মেয়ে যত বেশি ইবাদত করুক না কেন সে কখনো সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভ করবে না। সারাজীবন মাতা-পিতার খেদমত করি না কেন তবুও তাঁদের ঋণ শোধ করা যাবে না। মাতা-পিতার খেদমত ও তাদের দোয়া নেয়া একান্ত জরুরী।

তিন ব্যক্তির দোয়া সাথে সাথে কবুল হয়, তাতে কোনো সন্দেহ নাই- মাতা-পিতার দোয়া, মুসাফিরের দোয়া ও মজলুমের দোয়া। মাতা-পিতার নেক দোয়া প্রত্যেক সন্তানের সুন্দর জীবনের শ্রেষ্ঠ পাথেয়।

লেখক: শিক্ষার্থী
এম.সি কলেজ- সিলেট।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও খবর
© 2018 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখ, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি
Theme Customized BY LatestNews