To Better view use Firefox & Bangla font ‘’SolaimanLipi’’
 

বিস্তারিত

প্রবাসের খবর

বিস্তারিত

গাজীপুরসহ ৫ সিটির নির্বাচন মধ্য জুনে | জেল হত্যার রায় ৩০ এপ্রিল | রিমান্ড শেষে মাহমুদুর জেলহাজতে | চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর গেলেন এরশাদ | ব্লগার রাজিব হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির ৫ ছাত্রকে গ্রেফতার | বিএনপির ১৯ মার্চে জাতীয় কাউন্সিলে সুইজারল্যান্ড থেকে ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল | ইতালী প্রবাসী শিশু কিশোরদের ইসলামী শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলতে অবদান রেখে চলেছে ফেইথ ইসলামিক সেন্টার | যুদ্ধাপরাধী বিচারকে কেন্দ্র করে আজ গোটা জাতি বিভক্ত : এরশাদ | গজারির লাঠি নিয়ে ‘গণজাগরণ মঞ্চে’ আসার আহ্বান ছাত্রলীগের | আগামী ৫ মার্চ মঙ্গলবার সারা দেশে বিএনপি'র সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু ঃ স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গনতন্ত্রের প্রবক্তা সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষনা,৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ৭৫‘র ৭ নভেম্বরের পেক্ষাপটে জাতীয় দুঃসময়ে সিপাই জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে শাসনভার গ্রহণ করেন। দেশের জনপ্রিয় দল বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্রগ্রামে সার্কিট হাউজে’ দেশী ও বিদেশী চক্্রান্তে কিছু বিপদগামী আফিসার এবং সদস্যের হাতে নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেন। শহীদ জিয়া আধুনিক স্বনির্ভর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা। জাতির প্রতিটি সংটময় মূহূর্তে তিনি দাড়িয়েছেন মাথা উচুঁ করে। বিপর্যস্ত জাতিকে রক্ষা করেছেন জীবনের ঝুকি নিয়ে। শহীদ জিয়া বাংলাদেশের গর্ব ও দিশারী। স্বাধীনতা যুদ্ধ, দেশ পরিচালনায় অবদান, সফলতা নিয়ে তাঁর  ৩১তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ক্ষুদ্র পরিসরে  আলোকপাত করছি।

ক্রেকডাউন বাংলাদেশ ও স্বাধীনতার ঘোষনা ১৯৭১’র ২৫, ২৬ ও ২৭ মার্চ
১৯৭০ এর নির্বাচনে দেশের জনগণ নিজেদের ভাগ্য নির্ধারনের জন্য সমস্ত ক্ষমতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে অর্পন করেছিলেন। ক্ষমতা আসার জন্য আওয়ামীলীগ ইয়াহিয়া সরকারের সাথে বহুবার আলোচনায় বসেছিল। সে দিন শেখ মুজিব ও আওয়ামীলীগ নেতারা মনে করেছিলেন হয়ত সহজে ইয়াহিয়া সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। কিন্তু যদি ক্ষমতা হস্তান্তর না করে সে পরিস্থিতিতে কি করতে হবে সে বিষয়ে কোন পরিকল্পনা তাদের ছিল না। ২৫ মার্চ রাতে শেখ মুজিবুর রহমান স্বেচ্ছায় গ্রেপ্তার হন পাক বাহিনীর হাতে। গ্রেপ্তাারের পূর্বে দলীয় নেতারা শেখ মুজিবুর রহমান-এর কাছে জানতে চান পরবর্তীতে কী কর্মসূচী। উত্তরে তিনি তাদেরকে যার যার মত আত্মগোপনের পরামর্শ দেন। সেদিন তাদের পরিকল্পনা থাকলে ২৫, ২৬ মার্চ কাল রাত্রিতে ঢাকা শহর ও অন্যান্য শহরে লাখ লাখ নর-নারী, বুদ্ধিজীবী এবং শিশুর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে প্রাণ দিতে হত না।

২৫ মার্চ মধ্যরাত্রিতে মেজর জিয়াকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে বন্দরে পাঠান চট্টগ্রামের পাকিস্তানী কমান্ডিং অফিসার জানজুয়া ও জেনারেল আনসারী। পথিমধ্যে আগ্রাবাদ ব্যারিকেডে অপেক্ষমান জিয়া ক্যাপ্টেন অলির নিকট থেকে বার্তা পেলেন  শহরে সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে পাকবাহিনী; বহু বাঙালীকে হত্যা করেছে। ঘটনা আঁচ করতে পেরে মেজর জিয়া মুহুর্তের মধ্যে বললেন উই রিভোল্ট। আমরা বিদ্রোহ করলাম। ক্যাপ্টেন অলি, মেজর খালেকুজ্জামান ও মেজর মীর শওকত জিয়ার সাথে হাত মিলালেন। ইতিমধ্যে তারা ব্যাটালিয়নের সমস্ত পাকিস্তানী অফিসারদেরকে গ্রেফতার করেছেন। অতঃপর যোগাযোগ রক্ষার জন্য চেষ্টা করা হয় রাজনৈতিক নেতা থেকে প্রশাসনের অনেকের সাথে যে, তারা মুক্তিযুদ্ধ করবে, বিদ্রোহ করা হয়েছে। কিন্তু কারো সাথে যোগাযোগ হয়নি। তখন কেউ বন্দী, কেউ পালিয়েছে অসহায় মানুষকে রেখে। পরে জিয়া ব্যাটালিয়নের অফিসার, জেসিও আর সৈনিকদেরকে ডেকে ২৬ মার্চ ভোর ৩টার দিকে প্রথম ভাষণ দিলেন। পরিকল্পনার কথা বললেন।  সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে আহবান জানালেন। সবাই উৎফুল্লচিত্তে সায় দিলেন। এসময় পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতার প্রত্যয়ে সৈনিকদের প্রথম শপথবাক্য পাঠ করান। উক্ত শপথ অনুষ্ঠানে পাকসরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করা হয়। এ কারণেই ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস হিসাবে স্বীকৃত। শুরু হল মুক্তিযুদ্ধ। সূত্র-‘দেশনেতা জিয়াকে দেখেছি’-আহমেদ মীর্জা খবীর পৃ:১০৫।
এরপর ৩৫ বছর বয়স্ক জিয়া জাতির সে চরম মুহুর্তে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন রেডিওর মাধ্যমে এ দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করতে হবে। জনগণকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য ডাক দিতে হবে। ঐক্যবদ্ধ করতে হবে, সাহায্য করতে হবে। তাই ২৭ মার্চ জীবনের ঝুকি নিয়ে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে যান। জিয়া সেখানে বিকেলে এক বিবৃতি তৈরি করেন এবং বিবৃতির মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তাঁর সে ঘোষণার কতিপয় শব্দ আজো এদেশের মানুষের কানে বাজে।

‘প্রিয় দেশবাসী,
আমি মেজর জিয়া বলছি।….আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি। আপনারা দুশমনদের প্রতিহত করুন। দলে দলে এসে যোগদিন স্বাধীনতা যুদ্ধে। গ্রেট বৃটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েট ইউনিয়ন, চীনসহ বিশ্বের সকল স্বাধীনতা প্রিয় দেশের উদ্দেশ্যে আমাাদের আহবান, আমাদের ন্যায় যুদ্ধের সমর্থন দিন এবং স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিন।….ইনশাআল্লাহ বিজয় আমাদের অবধারিত। সূত্র-অলি আহাদ, জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫-৭৫ পৃষ্ঠা-৪০৯। এটাই ঐতিহাসিক ভাবে স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণা। পরবর্তীতে শেখ মুজিবের নামে রাজনৈতিক ঘোষণা দেন জিয়া। মেজর জিয়া তার সহধর্মীনী বেগম খালেদা জিয়া তাঁর ছোট ছোট দুই ছেলেকে চট্টগ্রামে রেখেই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তারা চট্টগ্রামে জিয়ার চাচা দেলোয়ারের বাসায় আত্মগোপন করেন। যুদ্ধের সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দেশের মানুষের জন্য ৯ মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করার পক্ষে ঐতিহাসিক ভুমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পর মেজর জিয়া সেনাবাহিনীর চাকুরীতে ফিরে যান।
১৯৭৫-এ ১৫ আগষ্ট ও ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট ঃ
১৯৭৫ সালে ১৫ আগষ্ট প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। ১৫ আগষ্টের পূর্বে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারীতে জাতীয় সংসদে ১৩ মিনিটে বিতর্কিত একদলীয় বাকশাল গঠন করায় দেশে-বিদেশে বহুল সমলোচিত হন শেখ মুজিব। ৩০ লাখ জনগণ ও ৩ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পিঠে একদলীয় বাকশাল তৈরি করে শেষ পেরাকটি মেরে দিলেন। যার কারনে শেখ মুজিবের শাসনের অবসান ছিল অনিবার্য।

ঐ সময়ে আইন শৃঙ্খলার অবস্থা এতই খারাপ ছিল যে বিশিষ্ট বাম রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক নির্মল সেন লিখলেন “সবাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই”।
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা ছড়াকার আবু সালেহ স্বাধীনতার এক বছর পর  লিখলেন, “ধরা যাবে না ছোঁয়া যাবে না বলা যাবে না কথা। রক্ত দিয়ে পেলাম শালার আজব স্বাধীনতা”।
দুর্ভিক্ষের ৭৪-এ বিদেশ থেকে পর্যাপ্ত সাহায্য আসার পরও বহু লোক না খেয়ে মারা গেল। কবি রফিক আজাদ লিখলেন “ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র খাব”। ৭৪-এর দুর্ভিক্ষে শিয়াল কুকুরের সাথে মানব সন্তানের ডাষ্টবিনে উচ্ছিষ্ট খাবারের কাড়াকাড়ির দৃশ্য, দিনাজপুরের বাসন্তীদের জাল দিয়ে লজ্জা নিবারন, কলাপাতা দিয়ে মানুষের লাশ দাফন, ৩৪ হাজার বিরোধী নেতাকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধা রক্ষীবাহিনী কর্তৃক হত্যা ও গুমের সচিত্র কাহিনী এদেশের জনগনকে ক্ষত-বিক্ষত করেছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড সিরাজ সিকদারকে গ্রেফতারকৃত অবস্থায় ২ জানুয়ারী ১৯৭৫ বিচারবহির্ভুত হত্যা করে সংসদের দাড়িয়ে শেখ মুজিব দম্ভ করে বলেছিলেন, কোথায় সিরাজ সিকদার।
মার্কিন মাসিক “রিডার ডাইজেষ্ট”- এর ১৯৭৫ সালের মে মাসের সংখ্যায় লেখা হয় “শেখ মুজিব দুটি বেসামরিক সংগঠনের উপর নির্ভরশীল একটি হচ্ছে তার ভাগ্নে শেখ মুনির ১ লাখ  সশ্বস্র একগুয়ে যুবকদের সংগঠন যুবলীগ। আরেকটি হল নিষ্ঠুর রক্ষী বাহিনী তাদের কাজ হল যখন তখন কলকারখানায় ঢুকে পড়ে শ্রমিকদের উপর অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা এবং আকস্মিক গ্রামঞ্চলে সান্ধ্য আইন জারি করে সন্ত্রাসের রাজত্ব চালায়।
আমেরিকার হেনরী কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে উপহাস করে “বটমলেস বাসকেট” বলেছিলেন। শেখ মুজিব নিহত হওয়ার পর তৎকালীন আওয়ামীলীগের স্পিকার আব্দুল মালেক উকিল লন্ডনে হিতরো বিমান বন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্ন উত্তরে বলেছিলেন, “ফেরাউনের শাসন থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পেল।” উক্ত বক্তব্য গুলো আমার বা বিএনপির না। তথ্যগুলি দেশী বিদেশী পত্রিকার ভাষ্য। এর নিরব সাক্ষী ৭০ দশকের জনগণ।

৭ নভেম্বর ১৯৭৫ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক খ্যতিসম্পন্ন সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস তার‘বাংলাদেশ লিগ্যাসি অব ব্লাড’ বইতে লেখেন,‘১৯৭৫ সালের৫ ও ৬ নভেম্বর ক্যান্টলমেন্টসহ সারা শহরে ছড়ানো হলো হাজার হাজার  প্রচার পত্র।এ কাজগুলো করল বামপন্থী জাসদ। এসময় রাজিৈতক দল জাসদ ছিল নিষিদ্ধ। কিন্ত তারা কাজ করেছিল বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা, বিপ্লবী গণবাহিনীর আবরণে। একটি ব্যাপারে ডান ও বাম উভয় পক্ষ একমত ছিল, খালেদ মোশাররফ একজন বিশ্বাসঘাতক, ভারতের দালাল, সে ঘৃণিত বাকশাল ও মুজিবাদ ফিরিয়ে আনতে চাইছে। ’৭ নভেম্বর ভোরের দিকে জওয়ানরা রাস্তার দিকে বেরিয়ে পড়ল। সারা ঢাকা শহরে এই ‘সিপাহী বিপ্লব’ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল। রাত ১টার মধ্যেই সিপাহীরা পুরো ক্যান্টলমেন্ট দখল করে নিল। এক দল  গেল জেনারেল জিয়ার বাসভবনে। চার দিন বন্দি থাকার পর মুক্তি পেলেন জেনারেল জিয়া। নৈশ পোশাক পরা অবস্ট’াতেই জিয়াকে উল্লসিত জোয়ানরা নিয়ে গেল ২ ফিল্ড আটিলারির হেডকোয়ার্টারে। ঘটনার আকস্মিকতায় বিহ্বল হয়ে পড়েন জিয়া। নাম না জানা অনেক জোয়ানের সঙ্গে আলিংগন করেন তিনি। গ্রন্থটির আরও বলা হয়েছে, ‘রেডিওতে ক্রমাগত সিপাহী জনতার বিপ্লবের ঘোষনা এবং জেনারেল জিয়ার ক্ষমতা দখলের খবর শুনে হাজার হাজার লোক রাস্তায় নেমে এলো। তিন দিন ধরে তারা বিশ্বাস করেছিল যে, ভারত খালেদ মোশাররফের মাধ্যমে তাদের কষ্টে অর্জিত স্বাধীনতাকে বিপন্ন করছে।এখন সেই দুঃস্বপ্ন কেটে গেছে। সর্বত্র জওয়ান এবং সাধারণ মানুষ খুশিতে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করল, রাস্তায় নামল। তারা শ্লোগান দিল,‘আল্লাহু আকবর, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, সিপাই বিপ্লব জিন্দাবাদ, অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের মতো এদেশের মানুষ জেগে উঠেছে।’

শহিদ জিয়া ১৯৭১ সালে জাতির দুঃসময়ে স্বাধীনতার জন্য ঘোষনা করলেন, আমি মেজর জিয়া বলছি; ঠিক তেমনি আরেকটি দুর্যোগ মুহুর্তে ৭ নভেম্বর তিনি আবার বললেন আমি মেজর জিয়া বলছি। তাঁর কথা শুনে যে যার যার কাজে যোগদান করল। দেশের শৃংখলা দ্রুত ফিরিয়ে আসল।

৭ নভেম্বর যদি খালেদ মোশাররফরা অভ্যুত্থানে সফল হত তাহলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব থাকত না। আমরা থাকতাম পরাধীন না হয় ঠুঁঠো জগন্নাথ। ৭ নভেম্বর আধিপাত্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ।

শহীদ জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর তিনি দৈনিক ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮-২০ ঘন্টা কাজ করতেন। মাসে প্রায় ২০ দিন রাজধানীর বাহিরে ঘুরে বেড়িয়েছেন জনগণকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উৎপাদনে উৎসাহিত করার জন্য। তাই তিনি গড়তে পেরেছেন স্বনির্ভর বাংলাদেশ।

শেখ মুজিব দেশ পরিচালনায় যেসব কাজে ব্যর্থ শহীদ জিয়া সেই সকল কাজে সফল
১।     শেখ মুজিব বাকশাল একনায়কতন্ত্র কায়েম করে হিটলারের উত্তরসুরী হলেন। পক্ষান্তরে জিয়াউর রহমান বাকশাল বিলুপ্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্র উপহার দিলেন।
২।     শেখ মুজিবের ৪টি পত্রিকার স্বাধীনতার বদলে শহীদ জিয়া সকল পত্রিকার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিলেন।
৩।    জিয়া শিক্ষাঙ্গনে অস্ত্র ও সন্ত্রাসের বদলে শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করলেন।
৪।     শেখ মুজিব দেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করলেন; শহীদ জিয়া তার বদনাম ঘুচিয়ে খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জন করে বিদেশে চাল ও চিনি রপ্তানী করলেন।
৫।    দেশে শুকনা মৌসুমে ভারত আমাদেরকে প্রাপ্য পানি না দেওয়ার কারণে দেশকে মরুময়তা থেকে রক্ষার জন্য কৃষি উৎপাদন ও সেচ বাড়ানোর জন্য ১২ হাজার খাল পূনঃখনন করেন। তিনি নিজ হাতে কোদাল ধরেন। ৮০-৮১ সালে তিনি ২ হাজার ৮শ মাইল খাল খননের কাজ হাতে নিয়েছিলেন।
৬।    ফারাক্কার মরণদশা থেকে বাঁচার জন্য ভারত থেকে ফারাক্কার আমাদের ন্যায্য পানির হিস্যা পাওয়ার দাবিতে ১৩ মে ১৯৭৬ সালে ইস্তাম্বুলে আন্তর্জাতিক ইসলামি পররাষ্ট্র সম্মেলনে বলিষ্ঠ দাবি উপস্থাপন করে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
৭।     শেখ মুজিব রাষ্ট্রের মালিকানায় কারখানাগুলি পানির দরে বিক্রি করে দিলেন। জিয়াউর রহমান কলকারখানাগুলিকে রাষ্ট্রীয় আওতায় এনে নতুন নতুন শিল্প কারখানা সৃষ্টি করে উৎপাদন দ্বিগুণ করলেন। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও বছরে ডাবল বোনাসের ব্যবস্থা করলেন।
৮।     শেখ মুজিব তার ভাগিনা শেখ ফজুলুল হক মনির মাধ্যমে ১ লক্ষ যুবককে অস্ত্র হাতে দিয়ে অন্ধকারে ঠেলে দিয়ে মুজিব বাহিনী তৈরী করলেন। তারাই দেশের  আইন শৃঙ্খলার অবনতি ও লুটতরাজে জড়িয়ে পড়ল। পক্ষান্তরে জিয়াউর রহমান যুব মন্ত্রণালয় তৈরী করে যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরী করলেন এবং তাদেরকে সঠিক পথে নিয়ে আসলেন।
৯।    তিনি নারী উন্নয়নে মহিলা মন্ত্রণালয় ও মহিলা সংস্থা গঠন করলেন।
১০।        শিশুদের জন্য শিশু একাডেমী তৈরি করলেন।
১১।     দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি উন্নয়নে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় গঠন করলেন। জেলায় জেলায় শিল্পকলা একাডেমী গঠন করেন।
১২।     শেখ মুজিব বহিঃবিশ্বে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব অর্জনে ব্যর্থ হলেন। জিয়াউর রহমান মধ্যপ্রাচ্য ও চিনসহ বহির্বিশ্বে বন্ধুত্বের সংখ্যা বাড়ালেন। এছাড়া তার গতিশীল নেতৃত্বের কারণেই প্রাচ্যের সবচাইতে শিল্পোন্নত ও শক্তিশালী দেশ জাপানের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বাংলাদেশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়। দেশবাসীর জন্য এটা ছিল এক বিরল সম্মান।
প্রেসিডেন্ট জিয়া ইসলামী সম্মেলনে তিন সদস্য বিশিষ্ট দল ‘আল কুদস’ কমিটির একজন সদস্য হবার দুর্লভ সম্মান লাভ করেন। ইরাক-ইরান যুদ্ধাবসানের প্রচেষ্টায় ইসলামী সম্মেলনে গঠিত ৯ সদস্যের শান্তি মিশনে শীর্ষ নেতার ভূমিকা পালন করেছিলেন। তার আমলেই সৌদী আরব, চীন, কোরিয়া, পাকিস্তান ও আরো কয়েকটি দেশের সাথে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। তার আমলে দেশে দেশে মৈত্রীর বিস্তার শুরু হয়। সার্কের প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন জিয়া।
১৩।    জিয়াউর রহমানই প্রথম বিদেশে তৈরি পোশাক ও জনশক্তি রপ্তানি করলেন। এরা দেশের অর্থনীতিতে সবচাইতে বড় যোগান দিচ্ছে এবং এদের রেমিটেন্সে দেশ চলছে।
১৪।    দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, আইন শৃঙ্খলা ও সার্বিক উন্নয়নে স্বজননীতির কারণে শেখ মুজিব ব্যর্থ। সেখানে জিয়াউর রহমান মাত্র ৫ বছরের অধিক সময় শাসনামলে ১০০% সফল। যার উদাহরণ ৩০শে মে ১৯৮১ সালে তার মৃত্যুর পর মানিক মিয়া এভিনিউতে ৩০ লাখ মানুষের ঐতিহাসিক জানাযা।
ফুটনোট ঃ শহীদ জিয়ার সবচাইতে বড় সৃষ্টি বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদের রাজনীতি বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি) গঠন করা। তিনি বিশ্বাস করতেন এবং বলতেন, “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ”। দেশ প্রেম সকলের উদ্ধে,যার হৃদয়ে সারাক্ষণ বাজতো সেই সুর- “প্রথম বাংলাদেশ আমার,শেষ বাংলাদেশ। জীবন বাংলাদেশ আমার, মরণ বাংলাদেশ।“
তুরস্কের কামাল আতাতুর্ক এবং তের শতকের বাংলা বিজয়ী ইখতেয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজির মত ক্ষনজন্মা মহাপুরুষরুপে আত্মপ্রকাশ করেন জিয়া। তিনি৭১‘র সাধীনতা ঘোষনা ও মুক্তিযুদ্ধ হতে ৩০ মে ১৯৮১ শাহদাৎ পযর্ন্ত মাত্র ১০ বছর তাঁর কর্মময়,উৎপাদন,উন্নয়নে যাদুর পরশ লেগে আছে।
আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা ক্ষমতায় এসে বার বার জিয়ার প্রতিষ্ঠিত বি এন পি পরিবারকে ধংসকরার হীন পরিকল্পনায় ব্যস্ত হয়ে উঠে। ১/১১-এর ধারাবাহিকতায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া,তারেক রহমান, আরাফাত  রহমান কোকো এবং বিএনপি‘র নেতা কর্মীদের  বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে জেল জুলুম হয়রানি ও নির্যাতন করে যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগ এবার ক্ষমতায় এসে পূর্বের ন্যায় পাঠ্যপুস্তুক হতে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়ার নাম মুছে ফেলেছে। জিয়া আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর,  জিয়া আশুগন্জ ফার্টিলেজার কারখানাসহ বিভিন্ন ¯হাপনায় জিয়া ও খালেদা জিয়ার নাম মুছে ফেলার পকিল্পনা বাস্তবায়নে ব্যস্ত। গত ১৩ নভেম্বর ২০১০শহীদ জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত ৩৮ বছরের কেন্টেনমেন্টের মইনুল হোসেন রোডের বাড়ী হতে তিনবারের প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এক কাপড়ে টেনে হিচঁড়ে রাস্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে বের করে দেয়। এ জন্যে  সরকার  মানবতা,আইন ও মানবাধিকারকে বৃদ্ধাঙগুলি দেখালে। আওয়ামী লীগ জীবিত জিয়ার চাইতে মৃত্য জিয়াকে বেশী ভয় পায়। কারণ জিয়ার স্মৃতি আম্লান। যারা বাংলাদেশকে সিকিম বানাতে চায়,আমাদের সীমানায় তালপট্টিতে ভারতের পতাকা উড়লে খুশি হয়,যারা বর্ডারে ফেলানীদের লাশের প্রতিবাদ করতে ভয় পায়,যারা ভারতের টিপাইমুখ বাধঁ নির্মাণ,করিডোর, ট্রানজিটসহ ভারতকে গোপনীয় চুক্তির মাধ্যমে সব দিয়ে পরাধীনতার জিনজিরে আমাদেরকে আবদ্ধ করেছে তারা এবং তাদের দোষররা আমাদের প্রাণের জিয়াকে হত্যা করেছে।
ইতিহাস তার নিজস্ব গতিতে চলে। কিন্তু বর্তমান সরকার ইতিহাস বিকৃত করে গায়ের জোরে শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদানকে অস্বীকার করেছে এবং বিকৃত করে উপস্থাপন করেছে। ইতিহাস তাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। সময়মত সঠিক ইতিহাস রচিত হবে। পৃথিবীতে বাংলাদেশের মানচিত্র যতদিন থাকবে ততদিন ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে স্বাধীনতার ঘোষক সফল রাষ্ট্রনায়ক ও আমাদের অহংকার, দিকনির্দেশকের জায়গা শুধু শহীদ জিয়াউর রহমানের। তিনি মরেও আমাদের কাছে অমর।

লেখক-কলাম লেখক ও রাজনৈতিককর্মী

E-mail: mj_mintu@yahoo.com

Featuring Top 5/15 of মুক্ত আলোচনা

বিস্তারিত

জাতীয়

বিস্তারিত

Creative Plus