রংপুর থেকে আব্দুর রহমান মিন্টু ঃ রংপুরের রংপুরের বদরগঞ্জে মধুপুর ইউনিয়নের রাজারামপুর কাশীগঞ্জে গ্রাম সালিশে নারী নির্যাতনের ঘটনায় আদালতে ৫৬জন আসামীর বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশীট প্রদান করেছে পুলিশ। তবে দৈনিক আজকালের খবর বদরগঞ্জ প্রতিনিধি আকাশ রহমান ও দৈনিক খবরপত্রের ফয়সাল সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৪৯৪ ধারায় আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে ওই সম্পুরক চার্জশীটে। কেবল আদালতের মাধ্যমেই সম্পুরক চার্জশীট থেকে ওই দুই সাংবাদিক অব্যাহতি পাবেন বলে একটি সুত্র জানায়।
প্রকাশ থাকে গত বছরের ২৬জুন এক গ্রাম সালিশে চরিত্রহীনা অপবাদ দিয়ে ওই এলাকার হাফিজা বেগম হ্যাপি ও তার প্রতিবেশী বোন সাঈদা বেগমকে প্রকাশ্যে লাঠিপেটা করে তওবা পড়ানো হয়। এনিয়ে পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর পরই দেশের মানবাধিকার ও নারী সংগঠণগুলো সোচ্চার হয়ে উঠে। এঘটনায় তৎকালিন উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার মাহমুদা বেগম বাদী হয়ে বদরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় নারী নির্যাতনের সংবাদ প্রকাশিত হলে তা’ দেশ বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ফলে হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি রুল জারি করেন। হাইকোর্টের নির্দেশে আটক করা হয় নারী নির্যাতক মোটকা এনামুল ও চিকনা এনামুলসহ ৮মাতবরকে। ওই ঘটনার পর ফলো আপ করতে এসে একুশে টেলিভিশন এর স্টাফ রিপোর্টার জেমসন মাহবুব, ক্যামেরা ম্যান এম এইচ রাসেল, একুশে টেলিভিশনের রংপুর প্রতিনিধি লিয়াকত আলী বাদল সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। এর কয়েকদিন পরই র্যাবের হাতে ধরা পড়েন মধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান আয়নাল হকসহ তার কয়েক জন সহযোগীসহ । ওই মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৫ অক্টোবর তৎকালিন বদরগঞ্জ থানার ওসি তোবারক আলী সরকার আদালতে একটি মনগড়া চার্জশীট প্রদান করেন। ওই চার্জশীটে আসামী করা হয় ওই নির্যাতনের চিত্রগ্রাহক ও সাংবাদিক আকাশ রহমান ও ফয়সাল সরকার পলাশসহ ৫২জন ব্যক্তিকে। ওই চার্জশীটের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন দৈনিক আজকালের খবর বদরগঞ্জ প্রতিনিধি সাংবাদিক আকাশ রহমান। একারনে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ব্যাপক তদন্ত সাপেক্ষে পুনরায় চার্জশীট দেয়ার জন্য বদরগঞ্জ থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন।
হাইকোর্টের নির্দেশে বদরগঞ্জ থানার বর্তমান ওসি পৃথ্বীশ কুমার সরকার পুনরায় তদন্ত করে চলতি বছরের ২৪এপ্রিল ৫৬জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে সম্পূরক চার্জশীট প্রদান করেন। তবে ওই চার্জশীটে নারী নির্যাতনের চিত্রগ্রাহক সাংবাদিক আকাশ রহমান ও ফয়সাল সরকার পলাশের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমানিত হয়নি। কিন্তু পূর্বের তদন্ত কর্মকর্তা তোবারক আলী সরকার ওই দুই সাংবাদিকের নাম আসামীর কলামে রাখায় সম্পূরক চার্জশীটে তাদের নাম রাখা হয়। তবে দুই সাংবাদিকের জন্য ৪৯৪ ধারায় আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। কেবল আদালতের মাধ্যমেই সম্পুরক চার্জশীট থেকে ওই দুই সাংবাদিক অব্যাহতি পাবেন বলে আদালতের একটি সুত্র জানায় । ######
রংপুরের বদরগঞ্জে মালিক জেলে থাকায় ভূমি দস্যুদের জমি দখল
রংপুর থেকে আব্দুর রহমান মিন্ট ুঃ রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে নিজের ঘর নিজে ভেঙ্গে নিয়ে প্রতিপক্ষের নামে মামলা দিয়েছে। জমির মালিক জেলে থাকার সুযোগে ভূমি দস্যু মোহম্মদ আলী তার লোকজন নিয়ে জমি দখল করে নিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বিকালে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যে কোন সময় উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।
সরে জমিনে গেলে ওই এলাকায় মামুনুর, মেহেরাব, আব্দুল মজিদসহ অনেকে জানান, মোহাম্মদ আলী ও হরিবার রহমান আপন মামাতো/ফুপাতো ভাই। মোহাম্মদ আলীর দাবী হবিবার রহমান তার বাড়ির পাশের ৫৫ শতশ আবাদী জমি জোর করে চাষাবাদ করে খাচ্ছেন। অনেক বলার পরও তিনি জমির দখল ছাড়ছেননা। পরে মোহাম্মদ আলী জমির দখল চেয়ে হবিবার রহানের বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা করেন। এদিকে আবার হবিবার রহমানের কবলার জমিতে মোহাম্মদ আলী দীর্ঘ দিন থেকে বাড়ি করে বসবাস করে আসছিলেন। মামলা করায় উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হয়। তখন হবিবার রহমান তার জমি থেকে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি সরিয়ে নিতে বলে। বাড়ি সরানো নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। মোহাম্মদ আলী বাড়ির বিষয়টি নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ইলিয়াছ আলীর কাছে বিচার প্রার্থনা করে। চেয়ারম্যান দু’পক্ষ নিয়ে গত ১৩ ফেব্র“য়ারী ওই ইউনিয়নের মালতোলা জামে মসজিদের প্রাঙ্গনে সালিশ করেন। সালিশে উপস্থিত লোকজন উভয় পক্ষের জমি/জমার কাগজপত্র দেখে জানতে পারেন মোহাম্মদ আলীর যেখানে বাড়ি রয়েছে তা হবিবার রহমানের জমি। সালিশে মোহাম্মদ আলীকে বলা হয় হবিবারে জমি থেকে বাড়িটি সরিয়ে নেয়ার জন্য। মোহাম্মদ আলী সালিশ মেনে নিয়ে জ্জ মাস আগে বাড়িটি সরিয়ে নেন। কিন্ত আদালতে মামলা থাকায় মোহাম্মদ আলী হবিবারে দখলে থাকা ৫৫ শতক জমি নিয়ে সালিশে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। গত ২৮এপ্রিল মোহাম্মদ আলী তার পাওয়ার টিলার নিয়ে ওই ৫৫ শতক জমি দখল করতে যায়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে মহিলাসহ কয়েকজন আহত হয়। এনিয়ে মোহাম্মদ আলী গত ২২মে থানায় এসে হবিবার রহমান এবং সালিশে উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যান ইরিয়ালীসহ ১৫জনের নামে তার বাড়ি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে মর্মে থানায় মামলা করে। পুলিশ ঘটনা তদন্ত না করেই মামলাটি রেকর্ডভূক্ত করে। মামলা রেকর্ডভূক্ত হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১৫জন জামিন নিতে এলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেল/হাজতে প্রেরন করে। সবাই জেলে থাকার সুগোকে মোহাম্মদ আলী তার লোকজন নিয়ে গতকাল জমিটি দখল করে নেয়। ওই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মামুনুর রশিদ বলেন, মোহাম্মদ আলী যে বিষয়ে চেয়ারম্যানসহ ১৫ ব্যাক্তিকে জড়িয়ে মামলা করেছেন তা সম্পূর্ন সাজানো। মোহাম্মদ আলী গরীব কৃষক নন। তিনি ১০/১২ বিঘা জমির মালিক। কেউ তার বাড়ি ভেঙ্গে দেয়নি। তারা সালিশ মেনে ৩/৪মাস আগে নিজেরাই বাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন। শুধুমাত্র চেয়ারম্যানের ভাবমুত্তি নষ্ট করার জন্য ওই মামলাটি করা হয়েছে।
এবিষয়ে মোহাম্মদ আলী জানান, আমার কবলার সম্পত্তি হবিবার ও তার ভাইয়েরা জোর করে দখল করে খাচ্ছিলো। আমি এখন আমার জমি দখলে নিয়েছি। তবে বাড়ি ভাঙ্গার বিষয়ে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি।
এব্যপারে বদরগঞ্জ থানার ওসি পৃথিস সরকার বলেন, ৩মাস আগের মিমাংসিত বিষয় নিয়ে মামলা হয়েছে। আমরা মামলাটি তদন্ত করে দেখছি।