To Better view use Firefox & Bangla font ‘’SolaimanLipi’’
 

বিস্তারিত

প্রবাসের খবর

বিস্তারিত

গাজীপুরসহ ৫ সিটির নির্বাচন মধ্য জুনে | জেল হত্যার রায় ৩০ এপ্রিল | রিমান্ড শেষে মাহমুদুর জেলহাজতে | চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর গেলেন এরশাদ | ব্লগার রাজিব হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির ৫ ছাত্রকে গ্রেফতার | বিএনপির ১৯ মার্চে জাতীয় কাউন্সিলে সুইজারল্যান্ড থেকে ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল | ইতালী প্রবাসী শিশু কিশোরদের ইসলামী শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলতে অবদান রেখে চলেছে ফেইথ ইসলামিক সেন্টার | যুদ্ধাপরাধী বিচারকে কেন্দ্র করে আজ গোটা জাতি বিভক্ত : এরশাদ | গজারির লাঠি নিয়ে ‘গণজাগরণ মঞ্চে’ আসার আহ্বান ছাত্রলীগের | আগামী ৫ মার্চ মঙ্গলবার সারা দেশে বিএনপি'র সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

চঞ্চল দাশগুপ্ত,কক্সবাজার প্রতিনিধি : আজ ভয়াল ২৯এপ্রিল। ২০বছর আগে ১৯৯১সালের এই দিনে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হেনেছিল স্বরণকালের ভয়াবহ ঘুর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস। রাতের অন্ধকারে মুর্হুতের মধ্যে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছিল উপকূলীয় এলাকা এবং নিহত হয়েছিল সোয়া লক্ষাধিক মানুষ ও গৃহহারা হয়েছিল হাজার হাজার পরিবার।

দেশের মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে সেই দিন প্রত্যক্ষ করেছিল প্রকৃতির করুণ এই রুদ্ধশ্বাস। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এতবড় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি এদেশের মানুষ আর কখনও হয়নি। সেই দিনের স্বজন হারা মানুষের কান্নায় এখনও ভারি হয়ে উঠে উপকূলের আকাশ বাতাস। কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপকূলবাসীসহ বাংলাদেশের মানুষকে সেই ভয়াবহ স্মৃতি স্বজন হারানোর বেদনা আজও অশ্র“ ভরাক্রান্ত করে তুলে।

ইতিহাসের এই ভয়াবহতম ঘুর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় এলাকার ১লাখ ৩০হাজার মানুষসহ লাখ লাখ পশুপাখি, গরু-মহিষ, হাঁস-মুরগীর করুণ মৃত্যু এবং হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও কোটি কোটি টাকার সম্পদ ভেসে গিয়েছিল। ওই ঘুর্ণিঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হচ্ছে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া, পেকুয়া ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী। শুধু কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় সেইদিন প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল এবং কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

সাগর পাড় থেকে ৬কিলোমিটারের মধ্যে এমন কোন ঘর কিংবা পরিবার ছিল না যে ঘর এবং পরিবারের একাধিক মানুষ সেদিন নিহত এবং হারিয়ে যায়নি। সেদিনের ঝড়ো ছোবল ও অথৈ পানিতে বিরানভুমিতে পরিণত হয়েছিল উপকূলের বিস্তির্ণ এলাকা। সাগর বেষ্টিত কুতুবদিয়া, বাঁশখালী ও পেকুয়া উপকূলীয় এলাকা বেড়িবাঁধের অভাবে আজও অরক্ষিত।

উপকূলবাসীর জীবন মরণ খ্যাত বেড়িবাঁধ অরক্ষিত হওয়ায় বর্তমানে উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ১০লক্ষাধিক মানুষ চরম আতংকে দিন কাটাচ্ছে। পেকুয়ার উপকূলীয় মগনামা, উজানটিয়া, রাজাখালীর ক্ষতিগ্রস্থ জনগণ প্রতি বর্ষায আরও একটি ২৯ এপ্রিলের ছোবল আতংকে রীতিমতো তটস্থ থাকেন।

গত বৃহস্পতিবার কুতুবদিয়ায় সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম আসলে এ দ্বীপের লক্ষাধিক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে। কারণ কুতুবদিয়া উপজেলার চারপাশে সমুদ্র। এ উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়ন, উত্তর ধুরুং, দক্ষিণ ধুরুং, আলী আকবর ডেইল, লেমশিখালী ও কৈয়ারবিল ইউনিয়নে প্রায় লক্ষাধিক লোক বাস করে। বিপুল এ জনসংখ্যার অনুপাতে কুতুবদিয়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণ সাইক্লোন শেল্টার না থাকায় বছরের প্রায় ৬/৭ মাস বৈরী আবহাওয়ার সাথে বসবাস করে এ দ্বীপের মানুষ।

ঘুর্ণিঝড় মোকাবেলায় কুতুবদিয়ায় বর্তমানে যে সাইক্লোন শেল্টার আছে তা জনসংখ্যার তুলনায় খুবই কম। এ দ্বীপে জনসংখ্যার তুলনায় পর্যাপ্ত  ঘুর্ণিঝড় আশ্রয়ণ কেন্দ্র না থাকায় ১৯৯১ সালে ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘর্ণিঝড় ও জ্বলোচ্ছ্বাসে কুতুবদিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ৫০হাজার মানুষের সলিল সমাধি হয়েছিল। ক্ষতি হয়েছিল প্রায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ।

সচেতন মহলের ধারণা, তখন যদি কুতুবদিয়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণ সাইক্লোন শেল্টার থাকত তাহলে বিপুল পরিমাণ মানুষের ঘুর্ণিঝড়ে মৃত্যু  হতো না।

স্থানীয় রেড ক্রিসেন্ট সংস্থার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালের পর দেশি ও বিদেশি কিছু এনজিও’র অর্থায়নে কুতুবদিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কিছু সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। অনুসন্ধানে  জানা গেছে, ১৫৬১সালের জ্বলোচ্ছ্বাসেও কুতুবদিয়ায় বিপুল মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া ১৭৬২ সালে, ১৭৯৫ সালের ৩ জুন,  ১৮৯৭  সালের ২৪ অক্টোবরে,  ১৯০৫ সালের ২৯ এপ্রিলে, ১৯৬৩ সালের ২৭ মে, ১৯৭২ সালের অক্টোবরে, ১৯৯৭ সালের নভেম্বরে, ১৯৬৫ সালের ভয়াবহ ঘুর্ণিঝড় ও জ্বলোচ্ছ্বাসে কুতুবদিয়া দ্বীপের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।

সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের  ভয়াবহ জ্বলোচ্ছ্বাসে কুতুবদিয়া খুদিয়ার টেক নামক একটি এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ দ্বীপ  উপজেলায় এনজিও সংস্থা ইফাতের অর্থায়নে নির্মিত আশ্রয়ন কেন্দ্র আছে ১২টি, রেডক্রিসেন্ট এর ৪টি, ইইসির ২০টি, ব্র্যাক এর ১৬টি, গণস্বাস্থ্যের ৬টি, এল সি ইউটির ১টি, প্রবাসী বাংলাদেশীদের  ১টি, মুসলিম এইড ইউকের ১টি, বিশ্ব ব্যাংকের ৩টি, সৌদি অর্থায়নে নির্মিত ৩টি, প্রিজম বাংলাদেশের  ৯টি সহ সব মিলিয়ে কুতুবদিয়ায় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়ন কেন্দ্র আছে ৯১টি।

উল্লেখিত আশ্রয়ন কেন্দ্রের প্রতিটিতে দূর্যোগের সময় আশ্রয় নিতে পারে কম পক্ষে ২শ থেকে ৩শ করে মানুষ। আর ৯১টি আশ্রয়ন কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে পারে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। আর বাকীরা  থাকে জীবনের ঝূঁকিতে। তবে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমএম মহিউদ্দিন কবির মাহিন বলেন, উপকূলীয় এলাকায় সরকার ৮০টি সাইক্লোন শেল্টার বরাদ্ধ দিয়েছে। তৎমধ্যে কুতুবদিয়ায় ২১টি আশ্রয়ন কেন্দ্র বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।

কুতুবদিয়া বনবিট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালের পর সরকার উপকূলীয় এলাকা সমূহকে ঘূর্ণিঝড়ের কবল থেকে রক্ষা করার জন্য কুতুবদিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বনবিভাগের মাধ্যমে ঝাউবাগান তৈরী করে দেয়। উক্ত ঝাউ বাগানের প্রাথমিক কর্মসূচীতে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করেছিল।

ঘুর্ণিঝড়, জ্বলোচ্ছাস মোকাবিলায় সৃজিত প্যারাবন ও ঝাউবাগান বর্তমানে স্থানীয় কতিপয় ভূমি গ্রাসীদের জবর দখল ও বন বিভাগের  কিছু দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কারণে উজাড় হওয়ার পথে।

এদিকে বাঁশখালীর ছনুয়া, বড়ঘোনা, গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া, খানখানাবাদ, ইলশা ও প্রেমাশিয়াসহ বাঁশখালীর ক্ষতিগ্রস্থ জনগন প্রতি বর্ষায় চরম আতংকে দিনাতিপাত করেন। প্রতিবছর এই দিনে আতংক ছড়িয়ে পড়ে উপকূল বাসীর মাঝে। বিশেষ করে কদমরসুল, বড়ঘোনা, গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া, খানখানাবাদ, ইলশা ও প্রেমাশিয়া এলাকায় প্রতি বর্ষায় সামুদ্রিক লবণ পানি প্রবেশ করে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়।

এসময় হাজার হাজার মানুষকে পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়। বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও বিদেশী দানশীল ব্যক্তি প্রায় ১১৮টি সাইক্লোন শেল্টার বাঁশখালীতে নির্মাণ করলেও তার অধিকাংশই সাধারণ জনগনের উপকারে আসছে না। অধিকাংশ সাইক্লোন শেল্টার বর্তমানে মাদকসেবী, নেশাখোর ও মাস্তানদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে।

পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের অবহেলিত করিয়ারদিয়া এলাকার স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, করিয়ারদিয়া দ্বীপের মানুষ এখনো ভুলতে পারেনি দুঃসহ ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল রাতের সেই ভয়াল স্মৃতি। স্বজন হারানোর বেদনায় এখনো তারা কেঁদে উঠে। সেদিন যেন কেয়ামত নেমেছিল এই পৃথিবীতে। সেই ভয়াল স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন অনেকেই। স্বজন হারানোর ব্যাথায় এখনো তারা আবেগাপ্লোত। কোন সংকেত দেখা দিলে বা আবহাওয়া বার্তা শুনলে তারা আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেন যে, খোদা আবার যেন ভয়াল

১৯৯১  সালের ২৯ এপ্রিল তাদের মাঝে উপস্থিত না করায়। তাদের আর যেন স্বজনদের  লাশ খোঁজতে না হয়। উপকূলবাসী সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার নির্মান ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ১৫০ কি:মি: বেড়িবাঁধ সংস্কার করে উপকূলের প্রায় ১০লক্ষাধিক মানুষকে রক্ষার।

কক্সবাজারে ওসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ : যুবলীগ নেতাকর্মী সহ ৯৪ ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা

কক্সবাজারে ওসি’র বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করার ঘটনায় যুবলীগ নেতাকর্মী সহ ৯৪ ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে  মামলা দায়ের করেছে।

ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির পুত্র পুলিশের হাতে আটক সরওয়ার হোসেনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় জনমনের ক্ষোভের পাশাপাশি পুলিশের ভুমিকাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

জানাযায়,২৭ এপ্রিল বিকালে কক্সবাজার মডেল থানার ওসি কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণে ঘুষ দাবী,আক্রান্ত যুবলীগ কর্মীকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানী সহ বিভিন্ন অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করা হয়।

এ ঘটনায় সংক্ষুব্ধ পুলিশ  টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে  কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আহমদ হোসেনের পুত্র সরওয়ার হোসেন সহ ৩ জনকে আটক করে। তবে ২৭ এপ্রিল গভীর রাতে দফারফার মাধ্যমে সরওয়ারকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় কক্সবাজার মডেল থানার এসআই মোজাহেদুল ইসলাম বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন ওইদিন রাতে। মামলায় কক্সবাজার সদর উপজেলা যুবলীগ,ইউনিয়ন যুবলীগ ও সেচ্ছাসেবক লীগ সহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাতনামা সহ ৯৪ ব্যক্তিকে আসামী করা হয়।

এ ব্যাপারে ওসি কামরুল হাসান জানান, ঘটনায় জড়িতদের ব্যাপারে মামলা দায়ের হয়েছে। আটক সরওয়ারকে তার বড় ভাই সাঈদ হোসেনের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।

Featuring Top 5/15 of মুক্ত আলোচনা

বিস্তারিত

জাতীয়

বিস্তারিত

Creative Plus