1. monir212@gmail.com : admin :
  2. support@wordpress.org : Support :
  3. merajhgazi@gmail.com : News Desk : Meraj Hossen Gazi
  4. desk@probashbarta.com : News Desk : News Desk
শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন

বুস্টার ডোজ টিকার জন্য আর কত অপেক্ষা : মিরাজ হোসেন গাজী

মিরাজ হোসেন গাজী, (মতামত)
  • প্রকাশিত : রবিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২১
মিরাজ হোসেন গাজী, সাংবাদিক
Print Friendly, PDF & Email

 

সৌদি আরবগামীদের বুস্টার ডোজ টিকা আর কত দেরি, কেন এত অবহেলা? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন প্রশ্ন সাথে ক্ষোভ রয়েছে প্রবাসী ও বিদেশগামী কর্মীদের। সৌদি আরবে প্রবেশে দেশটির অনুমোদিত টিকা হচ্ছে ৪টি। ১. মডার্না, ২. অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকা, ৩. ফাইজার বায়োনটেক, ৪. জনসন এন্ড জনসন। এই চারটি টিকার যেকোনটি পূর্ণ ডোজ নেয়ার ১৪ দিন পর সৌদি আরব প্রবেশ করলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন লাগবে না।

তবে বাংলাদেশি অনেকেই না বুঝে বা আংশিক তথ্য জেনে চীনের সিনোফার্মের টিকা নিয়েছেন। কিন্তু এই টিকা সৌদিতে অনুমোদিত নয়। সিনোফার্ম টিকা নেয়াদের সৌদি আরবে প্রবেশ করতে হলে, অবশ্যই অনুমোদিত ঐ চারটি টিকার একটির অতিরিক্ত ডোজ বা বুস্টার ডোজ নিতে হবে। টিকার শর্ত পালন না করলে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে ৫ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এজন্য কর্মীদের অতিরিক্ত লাগবে আরও ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

এরই মধ্যে অপেক্ষায় থাকতে থাকতে বাধ্য হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের বোঝা নিয়েই সৌদি আরবে যাচ্ছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। কারণ, দ্রুত সময়ের মধ্যে না গেলে অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। অনেকের মালিক দ্রুত কাজে যোগ দিতে চাপ দিচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত খরচের বোঝা বইতে হচ্ছে কর্মীদের। আবার অনেকই তাদের অপেক্ষায় শেষটুকুও করতে চান। কারণ এমনিতেই সৌদি আরব যেতে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। তারওপর অতিরিক্ত এই খরচ বহনের সামর্থ নেই অনেক কর্মীর পরিবারের।

এই বুস্টার ডোজ নিতে হলে আগে সেটি সুরক্ষা পদ্ধতিতে আপডেট হতে হবে। যা এখন পর্যন্ত চালু হয়নি। কারণ বুস্টার ডোজ নিলেই হবে না। সেটি সার্টিফিকেটে উল্লেখ থাকতে হবে। নয়তো কোন কাজে আসবে না। আর এখানেই ঝুলে আছে পুরো বিষয়টি। ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সুরক্ষা পোর্টালে বা সার্টিফিকেট বুস্টার ডোজের তথ্য আপডেট করার পদ্ধতি এখনো  সম্পূর্ণ হয়নি।

গেল ৯ সেপ্টেম্বর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে বুস্টার ডোজের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়। তখন বিএমইটির মহাপরিচালক শহীদুল আলম এনডিসি এই তথ্য জানিয়েছিলেন। তবে এটার আবেদন পদ্ধতি কী হবে তা নিশ্চিত হয়নি তখন।

২৪ সেপ্টম্বর বিমানবন্দবে পিসিআর ল্যাব পরিদর্শনে গিয়ে পরিদর্শনে গিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, “বেশ কিছু দিন আগেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে এখনো জবাব পাওয়া যায়নি। আশা করছি শিগগিরই বুস্টার ডোজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।”

৭ অক্টোবর টিকা সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির সুপারিশে আন্ত:মন্ত্রণালয় সভা হয়। সেখানে বুস্টার ডোজ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিনিধি ছিলেন সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন। পরে মন্ত্রী ইমরান আহমদ সাংবাদিকদের জানান, “বুস্টার ডোজের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য মূল জটিলতা হচ্ছে বুস্টার ডোজের বিষয়টি সার্টিফিকেটে উল্লেখ থাকতে হবে। এজন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আইসিটি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠান হয়েছে এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়কে সার্টিফিকেটে বুস্টার ডোজ পদ্ধতিটি সংযুক্ত করার দায়িত্ব দেয়া হলে তারা কাজ করছে বলে জেনেছি।”

স্বস্থ্য অধিদফতরের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক শামসুল আলম টেলিফোনে জানিয়েছেন, “জাতীয় কমিটির পরামর্শের পর আইসিটি মন্ত্রণালয়কে বুস্টার ডোজের বিষয়টি অনলাইনে যুক্ত করতে অনুরোধ করা হয়েছে এবং আইসিটি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।” তবে এ বিষয়ে শিগগিরই নতুন তথ্য জানাতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বুস্টার ডোজের বিষয়ে সবশেষ পরিস্থিতি কী? এমন প্রশ্নে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী জানিয়েছেন, “বিষয়টি তো আগেই ( ৭ আক্টোরব ) সিদ্ধান্ত হয়ে আছে। এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব। আমরা প্রবাসী ও বিদেশগামী কর্মীদের ভোগান্তির বিষয়টি তাদেরকে আগেই চিঠির মাধ্যমে অনুরোধ করে জানিয়ে দিয়েছি। এখন অপেক্ষা করছি তারা কবে বুস্টার ডোজ চালু করে।”

এদিকে, শনিবার (৬ নভেম্বর)  বিএমইটির মহাপরিচালক প্রবাস বার্তা ডটকম-কে জানিয়েছেন, বুস্টার ডোজ নিতে হলে তা অবশ্যই সুরক্ষা পদ্ধতির সার্টিফিকেটে উল্লেখ থাকতে হবে। কিন্তু দেশে এখনো এই পদ্ধতি চালু হয়নি। এনিয়ে আইসিটি মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন শহীদুল আলম এনডিসি। দ্রুতই সৌদি আরবগামী কর্মীদের বুস্টার ডোজ দেয়ার বিষয়ে আশাবাদি তিনি।

তিনি জানিয়েছেন, ৪ নভেম্বর সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা আরো দুই সপ্তাহ সময় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিএমইটির মহাপরিচালক। সেই হিসেবে, ২০ নভেম্বরের পর বুস্টার ডোজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে আশা করছেন শহীদুল আলম এনডিসি।

কিন্তু এখন প্রশ্ন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর চিঠির দুই মাসের বেশি সময়েও বুস্টার ডোজের ব্যবস্থা কেন এখনো হল না ? আবার এ বিষয়ে গঠিত জাতীয় পরামর্শক কমিটির সুপারিশ দেয়া হয়েছে ৭ অক্টোবর। তারও এক মাস পেরিয়ে গেছে। এখন ৪ নভেম্বরের বৈঠকে আরো ১৫ দিন সময় নিয়েছে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা পোর্টাল কর্তৃপক্ষ। সেই হিসেবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত আবারো অপেক্ষা ! কিন্তু এই সময়ে বিদেশগামী কর্মীদের যে কতোটা ক্ষতি হল, তা হয়তো আড়ালেই থেকে যাবে।

লেখক: মিরাজ হোসেন গাজী, সিনিয়র রিপোর্টার, বাংলাভিশন এবং ফাউন্ডার, প্রবাস তথ্যকেন্দ্র।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও খবর
© 2018 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখ, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি
Theme Customized BY LatestNews