1. monir212@gmail.com : admin :
  2. merajhgazi@gmail.com : News Desk : Meraj Hossen Gazi
  3. desk@probashbarta.com : News Desk : News Desk
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মালদ্বীপে বাংলাদেশ দূতাবাসে পাসপোর্ট-ভিসা কার্যক্রম ফের শুরু মাদ্রিদে বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতির নতুন কমিটির অভিষেক প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেতে ইতালি আওয়ামীলীগ নেতারা ফিনল্যান্ডে বৃক্ষরোপণ খাতে ৩২ হাজার বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেবে মালয়েশিয়া মালয়েশিয়ায় স্বদেশী অপহরণের দায়ে ৪ বাংলাদেশির মৃত্যুদন্ড হতে পারে মালয়েশিয়ায় খুলছে কর্মক্ষেত্র, স্বস্তিতে প্রবাসী কর্মীরা যাত্রীদের সঙ্গে মালয়েশিয়া দিবস উদযাপন মালয়েশিয়ার টেকসই অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রয়েছে বিদেশি শ্রমিকদের এপিএ-তে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের প্রথম স্থান অর্জন বিমানবন্দরের পিসিআর ল্যাব বসছে তিন দিনে, দায়িত্ব পেল ৭ প্রতিষ্ঠান

মালয়েশিয়ার রাজনীতি ফের উত্তপ্ত: বিরোধীদের সুবিধা দিয়েও ক্ষমতা চান মুহিউদ্দিন

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া
  • প্রকাশিত : শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১
Print Friendly, PDF & Email

 

মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে ফের উত্তাপ,বিরোধীদের সুবিধা দিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
পার্লামেন্টে  সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন হারাতে পারেন বুঝতে পেরে,তার সরকারের পতন ঠেকাতে, কোনোরকমে তার গদি টিকিয়ে রাখতে বিরোধী দলগুলোর সমর্থন চাইলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুহিদ্দিন ইয়াসিন। বললেন, বিরোধী দলীয় নেতাকে একজন সিনিয়র মন্ত্রীর মর্যাদা দেয়া হবে। তাছাড়া তিনি আগামী বছর নির্বাচন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ১৩ আগষ্ট এনএসটি অনলাইনের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী মাসে পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সেখানে কঠিন এক পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে তাকে।

দীর্ঘদিন ধরে বিরোধীদলীয় নেতা আনোয়ার ইব্রাহিম দাবি করে আসছেন- সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন মুহিদ্দিন। পক্ষান্তরে আনোয়ারের নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তিনিই সরকার গঠন করতে পারেন। এ ছাড়া অতিসম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ ও আনোয় ইব্রাহিম রাজপথে সভাও করেছেন। এমন হুমকির মুখে করোনা মহামারি যেন আশীর্বাদ হয়ে আসে মুহিদ্দিনের বেলায়। তিনি জারি করেন অবস্থা। স্থগিত হয় পার্লামেন্ট অধিবেশন। ফলে তিনি এমপি বা বিরোধীদের চাপকে কাটিয়ে উঠার একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেন। কিন্তু সম্প্রতি তার সরকারের জোটের বেশ কিছু এমপি সমর্থন প্রত্যাহার করেছেন। এমনিতেই মুহিদ্দিন ইয়াসিন সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী। তার ওপর এমপিদের সমর্থন প্রত্যাহার তাকে নতুন এক বিপদে ফেলে দিয়েছে। তিনি তা ঠিক বুঝতে পারছেন। তাই কোনো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন না করেই স্বীকার করেছেন, পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারেন। এ অবস্থায় বিরোধী দলীয় এমপিদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন মুহিদ্দিন ইয়াসিন।

১৩ আগষ্ট শুক্রবার বলেছেন, সহজ পথ বেছে নিতে পারেন এবং পদত্যাগ করতে পারেন। কিন্তু বর্তমানে এমন কোনো এমপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের মতো সমর্থন নেই, যার ওপর ভিত্তি করে রাজা ওই নতুন নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন। তিনি আরো বলেন, এমন অবস্থায় দেশে কোনো সরকার থাকবে না। তা হলে এই অবনতিশীল করোনা পরিস্থিতিতে দেশ বিকলাঙ্গ হয়ে পড়বে। এ জন্য তিনিই ক্ষমতায় থাকতে চান। তাই তিনি বেশ কিছু প্রস্তাব বা সুবিধা দেয়ার বিনিময়ে বিরোধী দলীয় এমপিদের সমর্থন চাইছেন। এ জন্য তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি। যেসব প্রস্তাব তিনি দেবেন, তার মধ্যে রয়েছে- প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মেয়াদ সীমিত করা, ভোটার হওয়ার বয়স ২১ বছর থেকে কমিয়ে ১৮ করা হবে, চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স প্রতিষ্ঠা করা হবে, বিরোধী দলীয় নেতাকে একজন সিনিয়র মন্ত্রীর মর্যাদা দেয়া হবে। এ ছাড়া করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাজেট বৃদ্ধি করবেন তিনি। গরিবদেরকে আরো অর্থ সহায়তা দেবেন।

টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, আমার এসব প্রস্তাবের উদ্দেশ্য হলো এই করোনা মহামারির মধ্যে সরকারকে অব্যাহতভাবে সচল রাখা। এক্ষেত্রে পার্লামেন্টে উভয় পক্ষের সমর্থন থাকতে হবে। আমি আর ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকতে চাই না। এটা ঠিক যে, এই ম্যান্ডেট একটি নতুন নির্বাচিত সরকারের হাতে তুলে দেয়া উচিত, অবশ্য যখন সময় আসবে। করোনা মহামারির ওপর নির্ভর করে, প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, দেশের ১৫তম জাতীয় নির্বাচন আগামী বছর জুলাই মাস শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই হবে।

মাত্র এক সপ্তাহ আগে তিনি দেশবাসীকে বলেছিলেন, এখনও তার সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন আছে। তিনি সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্টে আস্থা ভোট দেবেন। কিন্তু তার এক সপ্তাহ পরেই তিনি ইউ-টার্ন নিয়েছেন। কারণ, এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন জোটের সবচেয়ে বড় দল ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের কমপক্ষে ৮ জন এমপি সরকারের ওপর থেকে তাদের সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছেন। সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসা মুহিদ্দিন সরকারের পতনের জন্য এটাই যথেষ্ট। তার ওপর ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের দু’জন মন্ত্রীও মন্ত্রীপরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

এ দিকে আগামী মাসে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটের আগে কোনো সংসদ সদস্য (এমপি) প্রমাণ করতে পারবে না যে তার বা তার সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন আছে তা প্রমাণ করতে না পারলে দেশের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব অচলাবস্থায় থাকবে। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তান শ্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিনের আহ্বানের পরে দুইজন বিশেষজ্ঞের মধ্যে এই মত ছিল, যা বিরোধীদের আপত্তির সম্মুখীন হয়েছিল।

বিশিষ্ট আইনজীবী এডমন্ড বন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করার কোনো প্রয়োজন নেই “যদিও তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর কথা স্বীকার করেছেন”।  তিনি বলেন, এই স্থিতাবস্থা রয়ে গেছে যতক্ষণ না এই ঘটনার পর দুটি দৃশ্যকল্প ঘটে: যে মুহিউদ্দিন হয় একটি সাধারণ নির্বাচনের ডাক দেন। কিন্তু ইয়াং দি-পার্টুয়ান আগং আল-সুলতান আবদুল্লাহ রিয়াতুদ্দিন আল-মুস্তফা বিল্লাহ শাহ কর্তৃক প্রত্যাখ্যান করা হয়; অথবা যদি কোনো সংসদ সদস্য (এমপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা দাবি করতে এগিয়ে যান এবং রাজা তা গ্রহণ করেন। যে কোনও সাংসদ প্রমাণ করতে পারেন যে তাঁর (এখন) প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য রাজার সামনে তাঁর সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তাঁকে বা তাঁকে এখন থেকে তা করতে বাধা দেওয়ার কিছু নেই।

আসিয়ানের আন্তসরকার কমিশনে মালয়েশিয়ার প্রাক্তন প্রতিনিধি বলেন, “একবার রাজ্য কর্তৃক সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপি রাজা কর্তৃক গৃহীত হলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে পারেন বা পদত্যাগ চাইতে পারেন এবং প্রত্যাখ্যান হলে তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে মনে করা হয়। নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা হবে।” মানবাধিকার ( এআইসিএইচআর)। তিনি বলেন, এমপিদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আরও সংস্কার দাবি করা উচিত।

তিনি ২০০৯ সালে পেরাক সাংবিধানিক সংকটের কথা উল্লেখ করেছিলেন, যেখানে বিচলিত মেন্টেরি বেসার দাতুক সেরি মোহাম্মদ নিজার জামালউদ্দিন পেরাকের সুলতানের রাজ্য বিধানসভা ভেঙে দিতে এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থার সমাধানের জন্য নতুন নির্বাচনের আহ্বান চেয়েছিলেন।

তৎকালীন বারিসান ন্যাশনাল (বিএন) চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি নাজিব রাজাক বিএন’র সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য পেরাক শাসকের কাছে সমর্থন চেয়েছিলেন, এবং ঘটনাগুলি শেষ পর্যন্ত দাতুক সেরি ড. জাম্বরি আবদুল কাদিরকে নতুন এমবি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

সংকটের সূত্রপাত হয়েছিল যখন তিনজন পেরাক বিধানসভা, যারা পূর্বে নিজারের প্রশাসনকে সমর্থন করেছিলেন, ঘোষণা করেছিলেন যে তারা স্বাধীন হচ্ছেন এবং তারা বিএনকে সমর্থন করবেন, যার ফলে পাকাতান রাকিয়াত নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন হারায়।

এদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আইনুল আদজেলি হাসনুল বলেছেন, বিরোধীদের উচিত মুহিউদ্দিনের পরামর্শগুলোকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করার পরিবর্তে বিবেচনা করা। মুহিউদ্দিন একভাবে সব দলের সাথে দ্বি-পক্ষীয় সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন। ড. আইনুল আগামী মাসে আস্থা ভোটের সময় সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে ঝুলন্ত সংসদের সম্ভাবনা উত্থাপন করেন, যেমন যুক্তরাজ্য ২০১৭ সালে অনুভব করেছিল।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির সাথে আস্থা ও সরবরাহ চুক্তি দ্বারা সমর্থিত থেরেসা মে নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভদের সঙ্গে সাত বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো একটি ঝুলন্ত যুক্তরাজ্যের সংসদ সংঘটিত হয়েছিল।
যদি এটি ঘটে থাকে, এটি সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার জন্য বিশেষ করে কোভিড -১৯ পরিচালনার ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করবে এবং পরবর্তী বছরের বাজেটের তালিকাভুক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। বর্তমান মহামারী পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, বিরোধীদের উচিত জনগণের চাহিদাগুলিকে প্রথমে রাখা এবং কমপক্ষে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রস্তাবটি বিবেচনা করা উচিত।

আইনুল বলেন, ফলাফল যাই হোক না কেন, সব রাজনৈতিক দলই সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে জনগণের সমর্থন নির্ধারণে, যা আগামী বছর অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে বিরোধী দলগুলোর উচিত মুহিউদ্দিনের প্রস্তাবগুলি পর্যালোচনা করা যেমন হপিং-বিরোধী আইন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দুই মেয়াদে সীমিত করা যা তাদের জন্যও উপকারী হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও খবর
© 2018 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখ, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি
Theme Customized BY LatestNews