1. monir212@gmail.com : admin :
  2. support@wordpress.org : Support :
  3. merajhgazi@gmail.com : News Desk : Meraj Hossen Gazi
  4. desk@probashbarta.com : News Desk : News Desk
শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন

মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণ: নতুন ইস্যুতে প্রস্তুতি

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া :
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট, ২০২১
Print Friendly, PDF & Email

 

করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্বে জীবন, জীবিকা ও রাষ্ট্র পরিচালনাসহ সকল ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিশ্চয়তা লক্ষ্যণীয়। এই অনিশ্চয়তায় যোগ হয়েছে মানব পাচার এবং জোর করে শ্রম আদায়ের প্রসঙ্গ।

এ অভিযোগে সম্প্রতি  আমেরিকা, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য মালয়েশিয়া থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যা শ্রম প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্যও ভাবনার। মানব পাচারের এবং জোর করে শ্রম আদায়ের বা আধুনিক দাসত্বের ভিকটিম ইস্যুতে এসেছে বাংলাদেশী কর্মীদের নাম। এ ইস্যুতে মালয়েশিয়া ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে এবং উঠে এসেছে বাংলাদেশ পক্ষের বিষয়াদি।

আমেরিকা ও বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্টে বরাবর বাংলাদেশ থেকে মানব পাচার করে মালয়েশিয়ায় নিয়ে আসা এবং জোর করে শ্রমে নিয়োজিত করার অভিযোগ উঠে এসেছে। ২০০৬ সালে মালয়েশিয়ায় অতিরিক্ত বাংলাদেশী কর্মী এনে কাজ, আশ্রয়, খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাহীন অবস্থায় মানবিক বিপর্যয় হয়েছিল এবং এ জন্য মালয়েশিয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে।

২০১২ সালে সরকার টু সরকার পদ্ধতিতে শুধু প্ল্যান্টেশন সেক্টরে ৪০-৫০ হাজার টাকায় ১০ হাজারের মত কর্মী বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় প্রেরণ করে। এটি অভিবাসনের ভালো দৃষ্টান্ত হলেও অনুসরন করা হয়নি। এরমধ্যে ২০১৫ সালে মানব পাচারের  আন্দামান ট্রাজেডি উন্মোচিত হয়েছে।

পরবর্তীতে ২০১৬ সালে বাংলাদেশী কর্মী রিক্রুটমেন্ট, এমপ্লয়মেন্ট এবং রিপাট্রিয়েশনের জন্য ৫ বছর মেয়াদী জিটুজি প্লাস চুক্তি করে বাংলাদেশ প্রান্তে রিক্রুটমেন্ট এজেন্সিকে জড়িত করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ১১ শ এর অধিক বাংলাদেশী রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয় সরকারের নিকট হস্তান্তর করে।

চুক্তি অনুযায়ী মালয়েশিয়া সরকার অনলাইন সিস্টেমে ১১ শ তালিকা থেকে বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই করে ডিমান্ড লেটার এবং পাওয়ার অব এটর্নী ইস্যু করে। কিন্তু নিয়োগ শুরুর প্রাক্কালে মালয়েশিয়া সরকার ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই করে বাংলাদেশ সরকারের সম্মতির জন্য অনুরোধ পত্র দেয়। সেই প্রেক্ষিতে কর্মী প্রেরণের স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়ার প্রস্তাবে রাজি হয় এবং ১০ টি রিক্রুটিং এজেন্সির অধীনে কনসোর্টিয়াম করে সকল রিক্রুটিং এজেন্সি কাজ করার সুযোগ দেয়। এই কনসোর্টিয়াম কাজ করেনি।  তবে বি এম ই টি সুত্র অনুযায়ী ১০ টির বাইরে আড়াই শতাধিক রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণ করেছে।

উল্লেখ্য, সেই ১০ টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সিন্ডিকেট আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের হাইকোর্টে রিট করা হয়। একইভাবে কর্মী নিয়োগের খরচ উভয় দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি মোতাবেক নির্ধারিত পরিমাণ অনুসরণ করেনি বরং ক্রমশঃ বৃদ্ধি করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকায় স্থির করে। মালয়েশিয়ায় আগত কর্মীদের মাঝে জরিপ চালিয়ে বিভিন্ন এনজিও এবং পণ্য গ্রহণকারী দেশের সংস্থা অডিট করে কর্মীদের বাড়ি থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মে নিয়োজন পর্যন্ত প্রকাশ্য, অপ্রকাশ্য খরচের চিত্র উঠে আসে এবং এজেন্সির ফিসসহ সকল অর্থই কর্মীকে দিতে হয়েছে।

এই অর্থ দিতে গিয়ে জমি, গরু ও সোনার গহনা বিক্রি, ঋণ করা এবং বিয়ে করে যৌতুক নেওয়ার তথ্য উঠে আসে। অধিকন্ত নেপাল থেকে ৫০-৬০ হাজার বাংলাদেশি টাকায় মালয়েশিয়ায় কর্মী আসার তুলনামূলক তথ্য পাওয়া যায়। কর্মী বুঝতে পারে এত খরচের অর্থ মাত্র তিন বছরে তোলা সম্ভব নয় এবং দেশে কাজ ও বেতন সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে প্রলুব্ধ করা হয়েছে।

অতিরিক্ত খরচ করে আসা কর্মীকে অমানবিক শ্রম দিতে ও অবস্থান করতে বাধ্য করা হচ্ছে, নানা ধরনের হুমকি মেনে নিচ্ছে  এবং অবৈধ হয়ে আইন কানুনের ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে এমন প্রমাণ সংগ্রহ করে মালয়েশিয়ার এনজিও এবং বিদেশি নিরীক্ষক। এসব রিপোর্ট হলে আমেরিকা, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য এসব কর্মীর শ্রমে উৎপাদিত পণ্য প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তখন নিয়োগকারী কোম্পানিগুলো কর্মীর খরচের অতিরিক্ত অর্থ ফেরত প্রদান, সঠিক আবাসন তথা সুন্দর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা বেড়াজাল থেকে বের হবার প্রচেষ্টা নিয়েছে। এটি শুধু উৎপাদক কোম্পানি নয়, মানব পাচার ও দাসত্ব শ্রমের অভিযোগে আমেরিকা বৈশ্বিক সূচকের টায়ার টু এর সর্বনিম্ন ধাপে অবনমন করে মালয়েশিয়ার। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশ প্রান্তে না ঘটলে মালয়েশিয়ায় ভালোভাবে কাজ করার  কোন সমস্যা হত না। যেমনটা নেপালের ক্ষেত্রে হচ্ছে না বলে অনেক কর্মী জানিয়েছেন।

তবে মাহাথির সরকার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে এবং ২০১৬ সালে সম্পাদিত ৫ বছর মেয়াদী চুক্তির কার্যকারিতা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে উভয় দেশের মধ্যে ৪ টি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা হয়েছে। প্রতিবার বৈঠকের আগে রব ওঠে আবারও সিন্ডিকেট করা হচ্ছে কি না, আবারও অধিক খরচ হবে কি না?

উল্লেখ্য, এবার জি টু জি প্লাস পদ্ধতিতে  নিয়োগ করা কর্মীরা কেউই কর্মহীন নেই। এটি পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করতে রিক্রুটিং এজেন্সি গুলো দৃষ্টান্ত হিসেবে নিয়েছে। কিন্তু শঙ্কিত আছে অধিক খরচ নিয়ে, একইভাবে শঙ্কিত মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তার। তারা আশঙ্কা করছে, সব খরচ যদি দেয় সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে কর্মীর অপ্রকাশ্য খরচ যে হবে না তার গ্যারান্টি কি? বাংলাদেশ থেকে আগমনের পূর্বে দায়িত্ব প্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সি কাজ, বেতন ও আবাসন সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা দিবে কি না? এমন বিষয় সামনে এসেছে। অর্থাৎ খরচ এবং ধারণা প্রদান এই দুটি বিষয় বাংলাদেশের উপর  নির্ভর করছে পুরোটা। পূর্বের দৃষ্টান্ত অনুযায়ী নিয়োগকর্তারা ক্ষতির মধ্যে না পড়তে হিসাব নিকাশ করছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা গেছে। এই দুটি ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রসঙ্গ এসেছে।

বাংলাদেশ সেইফ, অর্ডারলি এবং যৌক্তিক মাইগ্রেশনের ক্ষেত্রে বরাবরই সোচ্চার। কিন্তু এসব ঘটনা সেই সোচ্চারকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এসব বিষয়ে স্পষ্ট দৃস্টান্ত রেখে আগামীর পথ সুগম করবে মন্ত্রণালয় এমনটি আশা করছে অভিবাসী কর্মীরা।

মাইগ্রেশন ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে রিক্রুটিং এজেন্সি আন্তরিক এবং সকল ধরনের সহযোগিতা করতে বদ্ধপরিকর কিন্তু একই সাথে তারা মন্ত্রণালয়ের কাছে  যৌক্তিক আচরণ আশা করে বলে কয়েকজন রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকের সাথে আলাপ করে জানা গেছে।

সাংবাদিক কাজী কেরামত উল্লাহ বিপ্লব বলেন, ‘মাইগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অনেক পরে নেপাল এসে সুন্দর ব্যবস্থাপনায় এখন বাংলাদেশের থেকে অগ্রগামী হয়েছে। এমনকি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশকে হটিয়ে ২য় স্থানে অর্থাৎ বাংলাদেশের স্থান দখল করেছে। অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের মত দেশে প্রবেশ করেছে। সেদিক থেকে বাংলাদেশ পুরাতন হলেও নানান অব্যবস্থাপনায় ক্রমশ আস্থাহীনতায় পড়ে গেছে। কাগজ কলমে যতটা সোচ্চার, বাস্তবতা ভিন্ন। তুলনায় ভারত বা ফিলিপাইনের আশে পাশেও নেই। দেশের স্বার্থেই সুন্দর সহজ ও স্বচ্ছ মাইগ্রেশন ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।’

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োজন বিষয়ে উভয় দেশেই নানান গুঞ্জন রয়েছে। তবে সর্বশেষ সভার পর করা সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা নিয়ে মালয়েশিয়ার সাথে একমত না হওয়ায় সভা স্থগিত করতে হয়েছে।

বিষয়টি কি সেখানেই থেমে আছে না কি কোন অগ্রগতি আছে? জানতে চাইলে মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, ‘এটি চলমান আছে, কাজ চলছে। তবে কর্মীর স্বার্থ সবার আগে এবং কারো জন্য ক্ষতিকর হয় এমন কোন পদ্ধতি করা হবে না, এতে মালয়েশিয়া সরকারের আন্তরিক ইচ্ছা আছে। পাশাপাশি আমাদের প্রান্তে যে অতিরিক্ত খরচ, ঋণ চক্রে আবদ্ধ হওয়া  এবং কাজ সম্পর্কে ধারণা দেবার যে দুর্বলতা চিহ্নিত করেছে সেগুলো পুনরাবৃত্তি হবে না, এই নিশ্চয়তা দিতে পারি।’

তিনি বলেন, যারা নিয়োগ দিবেন এবং নিয়োগ না দিলে আমরা যেতেই পারবো না তাদের বিষয় অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।

করোনা পরবর্তী সার্বিক রিকভারির জন্য মালয়েশিয়া সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে। দেশী ও বিদেশী নির্বিশেষে সকলের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে মালয়েশিয়া সরকার। এতে অনুমান করা যায় খুব দ্রুত পূর্বের ন্যায় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড শুরু করা হবে।

সে সুযোগ বাংলাদেশ নিতে কি কৌশল নিবে সে সম্পর্কে প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. আহমেদ মনিরুস সালেহীন বলেন,  ‘বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকার কর্মীদের কল্যাণে অনেক আন্তরিক। মাইগ্রেশনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দিক থেকে ওঠা অভিযোগ বা পরামর্শগুলো মন্ত্রণালয় গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং স্ট্যান্ডার্ড প্রক্রিয়া ফলো করতেই হবে।‘

তিনি বলেন, করোনা পরবর্তী বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ নিতে বিভিন্ন দেশের পলিসি বা প্ল্যানের প্রতি আমাদের নজর আছে, করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকে অদ্যাবধি বিভিন্ন দেশ ও  মিশনের সাথে নিয়মিত সভা, তথ্য সংগ্রহ, বায়রার মতামত এবং মিডিয়া থেকে প্রাপ্ত তথ্যের  আলোকে ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে কাজ করছি। মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাদের নিশ্চয়তা দিতে পারি আর উদ্বিগ্ন হতে হবে না। আমরা প্রস্তুত আছি নিয়োগ কর্তার চাহিদা পূরণ করতে।’

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও খবর
© 2018 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখ, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি
Theme Customized BY LatestNews