1. monir212@gmail.com : admin :
  2. user@probashbarta.com : helal Khan Probashbarta : Helal Khan
  3. merajhgazi@gmail.com : News Desk : Meraj Hossen Gazi
  4. desk@probashbarta.com : News Desk : News Desk
মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন

ভিজিট ভিসায় দুবাইগামী কর্মীদের অনিশ্চিত যাত্রা

সম্রাট হোসেন, ঢাকা :
  • প্রকাশিত : বুধবার, ৩ মার্চ, ২০২১
Print Friendly, PDF & Email

 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। বিমানবন্দরের প্রধান ফটকের প্রবেশমুখে দেখা গেল বিদেশগামীদের লম্বা লাইন। কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ার পর দেখা যায় আরেক দল ছড়িয়ে ছিটিয়ে অপেক্ষা করছে। এক সময় তাদের একজনের কাছে জিজ্ঞেস করা হলে তারা জানায় দুবাই যাচ্ছে। তবে তাদের হাতে বড় কোন ব্যাগ দেখা যায়নি।

কিছুক্ষণ পর তাদের সঙ্গে যোগ দিল আরও কয়েকজন বিদেশগামী। কথাবার্তায় ধারণা হলো, তারা পূর্ব পরিচিত। একসময় তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয় কি ভিসায় দুবাই যাওয়া হচ্ছে। প্রথমে কেউ না বলতে চাইললেও পরে তাদের একজন বলল ভিজিট ভিসায় যাচ্ছেন।

কেমন খরচ পড়ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে আসা সোহেল নামে এক যুবক জানান, প্রাথমিকভাবে বিমান ভাড়াসহ তাঁর ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। চট্রগ্রামের একটি কলেজে পড়ুয়া এই ছাত্র জানান, তাঁর দুবাইয়ের একজনের সঙ্গে সাড়ে চার লাখ টাকার চুক্তি হয়েছে। দুবাই পৌঁছানোর পর সেখানে তাঁর কাজের ব্যবস্থা করে দিবেন তিনি।

অপর দিকে তাঁর সঙ্গে থাকা নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার আমজাদ হোসেন বলেন, “দুবাই থাকা এক বাংলাদেশির সাথে কন্ট্রাক্ট করেছি সে বলেছে কাজের ভিসা করে দেওয়া সহ সব মিলিয়ে চার লাখ টাকা খরচ হবে।“ এ পর্যন্ত তাঁর ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। দুবাইয়ের ভিজিট ভিসায় গিয়ে কাজ করার কোন নিয়ম নেই ,তাহলে কিভাবে কাজ করবেন, এমন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দুবাইয়ে যার লোক আছে তাঁর কোন ঝামেলা নাই”।

এদিকে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামছে তাদের সঙ্গে কথা চলছে, এসময় কিশোরগঞ্জের রাকিব মিয়া নামে একজন তাদের সঙ্গে যোগ দিলেন। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হলো- কাজ করতে বিদেশ যাচ্ছেন, বিএমইটির স্মার্ট কার্ড আছে কিনা। তিনি জানালেন কোন কার্ডের দরকার নেই বলে তাদের বলা হয়েছে।

রাকিবের কাছে জানতে চাওয়া হলো ভিজিট ভিসায় দুবাই গেলে একটা সময় পর সেখান থেকে চলে আসতে হবে, তখন তিনি জানান, “আমার ফুফাতো ভাই আছে সেখানে, তিনি সব ব্যবস্থা করবেন। দুবাই যাচ্ছি কাজের জন্য ফিরে আসার জন্য না”।

এবার তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলো দুবাই বিমানবন্দরে কোন সমস্যা হবে কিনা? একজন জানালেন তাদের এজেন্সি থেকে সব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঢাকার বিমানবন্দর থেকে তারা কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে যাবেন। একটি গ্রুপে পাঁচ জন করে লোক থাকবে। তারা বিমানে উঠার আগেই সেই গ্রুপের একটি সেলফি তুলে দুবাই পাঠিয়ে দেবেন, সেখানে তাদের রিসিভ করার জন্য লোক থাকবে।

দুবাই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর কেউ যদি জিজ্ঞেস করে কার কাছে যাবেন, কয়দিন থাকবেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে হাতে থাকা একটি সামনে এগিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সবার হাতে এমন একটি করে কাগজ আছে সেখানে আমরা যার কাছে যাবো তাঁর নাম, ঠিকানা, পেশা লেখা আছে এগুলো আমাদের মুখস্থ করতে বলা হয়েছে। যাতে দুবাই বিমানবন্দরে ভালো করে বলতে পারি। তাহলেই আর কোন সমস্যা হবেনা”।

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের অনেক দেশ ভিজিট ভিসায় কড়াকড়ি আরোপ করলেও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিল মধ্যপ্রাচের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে এ সুযোগের অপব্যবহার করে কাজ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ভিজিট ভিসায় কর্মী পাঠাচ্ছে কিছু অসাধু চক্র।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ব্রাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান প্রবাস বার্তাকে বলেন, “ভিজিট ভিসা কখনোই কাজের নিশ্চয়তা দেয়না। আমাদের জন্য সেসব দেশে ভ্রমণ ভিসা থাকে, যেখানে বেড়াতে যাওয়া যায়, কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় সেখানে আমাদের দেশ থেকে কাজের জন্য লোক যাচ্ছে। এখনকার যুগ হচ্ছে ডিজিটাল। একজন মানুষ যেই দেশেই যাচ্ছে আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে তাকে সে দেশে প্রবেশ করতে হচ্ছে। কোথাও বেড়াতে গিয়ে কাজ করা কিন্তু আইনগতভাবে অবৈধ। যারা লাখ লাখ টাকা খরচ করে দুবাই যাচ্ছে, তাদের কিন্তু সংকটে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই অভিবাসন বিশ্লেষক আরও বলেন, যারা ভিজিট ভিসায় দুবাই যাচ্ছে তাদের বেশিরভাগই অবৈধ চক্রের প্রলোভনে পড়ে কিন্তু যাচ্ছে। এটি তাদের জন্য সুখকর হবেনা।  তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা অথবা বাংলাদেশিদের সমঝোতার মাধ্যমে ভিজিট ভিসায় গিয়ে কাজের সুযোগ পাচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত যেহেতু একটি বড় শ্রমবাজার তাই এভাবে ভিজিট ভিসায় না গিয়ে সেখানে যদি কাজের চাহিদা থাকে তাহলে সরকার তাদের বৈধভাবে পাঠানোর উদ্যোগ নিতে পারে।

ভিজিট ভিসায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ কিংবা পরিচিত কারও প্ররোচনায় পরে যারা দুবাই যাচ্ছেন তারা সেখানে গিয়ে বিপদে পড়ছেন বলে জানা গেছে। তবে আমিরাতের কোন কোম্পানি যদি বাংলাদেশি কর্মীদের গ্রুপ ভিসা দেয় আর সেটি দূতাবাস থেকে সত্যায়িত হয়ে থাকে তবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র বা স্মার্টকার্ড দিচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ প্রবাস বার্তাকে জানিয়েছেন, “কোন কোম্পানি যদি বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য গ্রুপ ভিসা দেয়, সেটা দূতাবাস থেকে সত্যায়িত হয়ে আসলে আমরা ছাড়পত্র বা স্মার্টকার্ড দিচ্ছি। এটা কর্মীদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।  তবে কোন সিঙ্গেল ভিসায় ছাড়পত্র দেয়া হবে না। আর স্মার্টকার্ড ছাড়া কর্মী হিসেবে কারো বিদেশে যাওয়ার সুযোগ নেই। এটা অবৈধ পদ্ধতি। তাদের বিপদের ঝুঁকি থাকতে পারে। তখন সরকারের কিছু করার থাকে না।”

শ্রম অভিবাসন বিশ্লেষক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ প্রবাস বার্তাকে বলেছেন, কর্মী হিসেবে বৈধ উপায়ে বিদেশ যেতে হলে, তাকে অবশ্যই বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যেতে হবে। যাদের রিক্রুটিং লাইসেন্স (আর এল নম্বর) আছে । কোন ট্রাভেল এজেন্সি বা হজ এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী হিসেবে কারো যাওয়ার সুযোগ নেই। এটা অবৈধ প্রক্রিয়া।

তিনি বলেন, কোম্পানির ভিসার নিশ্চয়তায় যদি স্মার্ট কার্ড দেয়া হয়, তাহলে অবশ্যই দূতাবাসের শ্রম উইং সরেজমিনে দেখে সত্যায়ন করতে হবে। এটা নিশ্চিত করা না গেলে কর্মীদের ঝুঁকি থাকবে।

মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটিতে ২০০৮ সালে  গিয়েছিলেন সর্বোচ্চ ৪ লাখ ১৯ হাজার ৩৫৫ জন কর্মী। ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর টানা দুই লাখের বেশি করে কর্মী দেশটিতে যান। পরে হঠাৎ করেই নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ২০১২ সালের শেষ থেকে কর্মী নেয়া এক রকম বন্ধই করে দেয় আমিরাত।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও খবর
© 2018 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখ, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি
Theme Customized BY LatestNews