1. monir212@gmail.com : admin :
  2. user@probashbarta.com : helal Khan Probashbarta : Helal Khan
  3. merajhgazi@gmail.com : News Desk : Meraj Hossen Gazi
  4. desk@probashbarta.com : News Desk : News Desk
বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ০৭:১৩ অপরাহ্ন

মহামারি-সংকট; নতুন বছরে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় প্রবাসীদের

সম্রাট হোসেন, ঢাকা :
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০
Print Friendly, PDF & Email

 

পৃথিবীর অন্যতম সৌন্দর্য্যমন্ডিত দেশ ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র “মালদ্বীপ”। সরল, শান্ত ও মনোরম পরিবেশ,আদিম সমুদ্র সৈকত মালদ্বীপের প্রধান আকর্ষণ। যেখানে পানির রং নীল আর বালির রং সাদা। নাবিল আহম্মেদ, গত ছয় বছর ধরে জীবিকার তাগিদে রয়েছেন মালদ্বীপে। তিনি একটি জাহাজের হোটেলে কাজ করেন। এই দ্বীপ রাষ্ট্রে তার মত অনেক প্রবাসী নানান পেশায় নিয়োজিত। বেশির ভাগ প্রবাসী কাজ করেন পর্যটন দেশটির বিভিন্ন রিসোর্ট ও আবাসন নির্মাণে।

এই মালদ্বীপ প্রবাসী তাদের কর্মক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতি বলেন- সারা বিশ্বজুড়ে বর্তমানে মহামারির প্রভাব পড়েছে সেই ক্ষেত্রে মালদ্বীপও তাঁর ব্যতিক্রম নয়। আর মালদ্বীপ যেহেতু পর্যটন নির্ভর দেশ তাই অন্যান্য দেশের তুলনায় এর প্রভাবটা এখানে বেশি পড়েছে, করোনাভাইরাসের কারনে মালদ্বীপে প্রায় ছয় মাস পর্যটক আসা বন্ধ ছিলো।

নাবিল আহম্মেদ আরও জানান, গত দুই মাস ধরে এখানে আবার পর্যটক আসা শুরু করেছে, মালদ্বীপ তাঁর আপন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। তবে কর্মক্ষেত্রে করোনা পরিস্থিতির কারনে অনেক বাংলাদেশি চাকরি হারিয়েছে, প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি দেশে চলে গেছে। এখন মালদ্বীপে খুব অল্প সংখ্যক বাংলাদেশি দেখা যায়। তবে আশার কথা হলো কিছু কিছু বাংলাদেশি আবার তাদের চাকরিতে যোগ দিয়েছে। অনেকেই আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেটের আকার ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। আর ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকায়। প্রথম বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি-এডিপির আকার ৫০০ কোটি টাকা ধরা হলেও বর্তমানে তা ২ লাখ কোটি টাকার ওপরে। অর্থনীতির এই যে ফুলে-ফেঁপে ওঠা, তার পেছনে রয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প, কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লব আর প্রবাসী আয়।

জনশক্তি রফতানির ফলে বিরাট সংখ্যক জনগণের দৈনন্দিন চাহিদা ও খাদ্যসামগ্রীও স্থানীয়ভাবে জোগাড় করতে হচ্ছে না। সারা বিশ্বের দেড় শতাধিক দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে প্রায় সোয়া কোটি বাংলাদেশি; যারা সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন।

মূলত যারা বাংলাদেশে জন্ম গ্রহণ করার পর অন্য কোনো দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তাদের প্রবাসী বাংলাদেশি বলা হয়। ভালো পরিবেশে বসবাস করা এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও পরিবারকে অর্থনৈতিক ভাবে সাবলম্বী করার আশায় বাংলাদেশিরা প্রবাসে পাড়ি জমায়।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ গুলোতে বাংলাদেশিরা যেমন শ্রমিকের কাজ করছেন তেমনি তাঁরা বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। তেমনি এক বাংলাদেশি জাহেদ চৌধুরী, তিনি সৌদি আরবের মদিনা নগরীতে বসবাস করছেন একযুগেরও বেশি সময় ধরে। তিনি একটি আবাসিক হোটেল পরিচালনা করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে উপার্জনের মাধ্যম কেমন করে চলছে? এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ চৌধুরী বলেন- বর্তমানে মক্কা ও মদিনায় যারা আবাসিক হোটেল অথবা বিভিন্ন রকম দোকান এখনো খোলা রেখেছেন তাদের সাথে মালিক পক্ষের খুবই ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এই কারনে তারা এখনো ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তবে করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশেষ করে মদিনায় যে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল রয়েছে তাঁর মধ্যে চার ভাগের তিন ভাগ এখনো বন্ধ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, যারা এখন পর্যন্ত হোটেল খোলা রেখেছেন তাদের মালিক পক্ষের সাথে খুব ভালো সম্পর্ক কিংবা তাদের বেশ ভালো পুঁজি রয়েছে। এই দুটি কারনে এখনো তাদের ব্যবসাটা পরিচালনা করে যেতে পারছেন। আরেকটি কারন হলো- আমি এখন যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছি সেটি যদি এই পরিস্থিতিতে যদি বন্ধ করে রাখি, তাহলে আগামী বছরে এসে সেই অবস্থানটা আমি ধরে রাখতে পারবো না। এই ধরে রাখতে না পারার ভয় থেকে যে কোনভাবে সেটা লোন করে হোক মালিকের সঙ্গে বোঝাপড়ার মাধ্যমে ব্যবসাটি ধরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

সৌদি আরবে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি থাকেন। কোথায় নেই আমরা? বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী থেকে শুরু করে কৃষক, নির্মাণ শ্রমিক কিংবা পরিচ্ছন্নতাকর্মী সব ভূমিকাতেই প্রবাসীরা কাজ করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমুন্নত রেখে চলেছেন। সৌদি আরবে সাধারণ প্রবাসী শ্রমিকদের বিরাট অংশ পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। তাই এখানে বাংলাদেশের পরিচিতি মূলত পরিচ্ছন্নতাকর্মী রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে।

তাই আমাদের দেশের মানুষেরা মরুর দেশে কঠোর কায়িক শ্রম অথচ কম বেতনে কাজ করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখে চলেছে। অবশ্য তাদের দুর্ভোগের শুরু হয় দেশের মাটিতে। নানা সংঘবদ্ধ চক্রের হাতে পড়ে, ধার দেনা করে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুন বেশি দাম দিয়ে ভিসা কিনে তারা এখানে এসে দেখে, প্রতিশ্রুতির সাথে বাস্তবতার অনেক ফারাক।

সৌদি আরবের রিয়াদে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন সজিব রাশেদ এই প্রবাসী প্রতিশ্রুতির সাথে বাস্তবতার ফারাক সম্পর্কে বলেন, আমি সৌদি আরবে এসেছি ছয় বছর আগে। দেশ থেকে আমাকে বলা হয়েছিল এখানে আমাকে একটি কোম্পানিতে কাজ দেওয়া হবে। কিন্তু এখানে আসার পর দেখি সব কিছুই উল্টো, সৌদিতে প্রবেশ করার পর কয়েকমাস চলে যায় আকামা সংগ্রহ করতে। এরপর থেকে এখানে শ্রমিকের কাজ করছি। অথচ সৌদি আরবে আসার আগে আমাকে বলা হয়েছিলো ভালো বেতন দেওয়া হবে, কোন কিছুতেই সমস্যা হবে না। এই ক্ষেত্রে আমারা যারা বিদেশে আসবো তাদের এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে, পাশাপাশি দেশের যারা কর্তা ব্যক্তি রয়েছেন তাদেরও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

এবার যাওয়া যাক ইউরোপের দিকে। গ্রিসের এথেন্স ও ইতালির রোমের পর বিশ্বের তৃতীয় পর্তুগালের প্রাচীন শহর হলো লিসবন। সাগর, পাহাড়, নদীবেষ্টিত প্রাকৃতিক পরিবেশ, সঙ্গে রয়েছে বেশ কিছু বিশ্ব ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির স্থান। পুরোনোর সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধনের এক অপরূপ সৌন্দর্যের নাম পর্তুগাল। আটলান্টিকের তীর ঘেঁষা দেশটিতে প্রায় ৪০  হাজার বাংলাদেশির বসবাস। এই প্রবাসীরা দেশটির পর্যটন খাতের বিভিন্ন পেশার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। হোটেল-রেস্তোরা থেকে শুরু করে নানান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এসব বাংলাদেশিরা।

পর্তুগালের লিসবনে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন রাসেল আহম্মেদ নামে এক বাংলাদেশি। পর্তুগালের কি করছেন, কেমন আছেন বাংলাদেশিরা? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, নব্বইয়ের দশক থেকে পর্তুগালে বাংলাদেশিদের আগমন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার বাংলাদেশি এখানে বসবাস করছেন। এখানে বাংলাদেশিরা স্থানীয়দের সঙ্গে একসাথে ব্যবসাবাণিজ্য পরিচালনা করছেন। এছাড়া অনেকে বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করছেন। তবে পর্তুগালের পর্যটন শিল্পের অনেকটাই বাংলাদেশিদের দখলে, অর্থাৎ এই সেক্টরের ৯০ ভাগ ব্যবসা বাংলাদেশিদের দখলে। এখানের আবাসিক হোটেল ও মাংসের ব্যবসাতেও বাংলাদেশিরা এগিয়ে রয়েছে। গত কয়েক বছরে এখানে বাংলাদেশিরা অনেক রেস্তোরা গড়ে তুলেছে। তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পর্তুগালে অনেকেই তাদের ব্যবসা বন্ধ রেখেছেন, কেউ চাকরি হারিয়েছেন কিন্তু কেউ কেউ আবার ব্যবসা পরিচালনা শুরু করেছেন কেউবা চাকরিতেও জয়েন করেছে। সামনের দিনগুলোতে আশা করা যাচ্ছে বাংলাদেশিরা তাদের আধিপত্য ধরে রাখবেন।

ইউরোপে বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গ উঠলে সবার আগে যে বিষয়টি সামনে আসে তা হলো- কমিউনিটি।  প্রবাসীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় সুখ দুখে এক সঙ্গে মিলিত হওয়া যায় এই কমিউনিটির মাধ্যমে। প্রবাসীদের কর্মক্ষেত্রে বড় ভুমিকা রাখে এই কমিউনিটি। ধরুন যদি ফ্রান্সের প্যারিসের কথায় আসা যায় তাহলে এক কথায় বলা যায়, একটি নতুন কমি‌উনিটি নতুন জেনারেশন ২০ বছর ধরে গড়ে উঠছে। ২৩ থেকে ৩০ হাজার বাংলাদেশি ফ্রান্সে রেসিডেন্স পারমিট পেয়েছে বলে অনুমান করা হয়। তবে বাংলাদেশিদের মোট সংখ্যা এখানে ৫০ হাজার পেরিয়েছে বলে বিভিন্নজন বলে থাকেন। সম্পূর্ণ নিজস্ব চেষ্টায় ভাগ্যান্বেষণে এসে নানা ধরনের কাজ করে তারা এখানে টিকে থাকার লড়াই চালাচ্ছেন প্রবাসীরা।

এমনই একজন ফ্রান্স প্রবাসি আরিফ, যিনি পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করছেন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। ফ্রান্সে আয়-উপার্জনের ক্ষেত্র সম্পর্কে তিনি বলেন, ফ্রান্সে সচেয়ে বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি কাজ করেন রেস্টুরেন্টে। এখানে বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ শেফ থেকে শুরু করে রেস্টুরেন্টে পরিবেশনকারি হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়া ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা এখানে মোবাইল এক্সেসরিজের ব্যবসা করছেন। এমনকি কাপড়ের মার্কেটেও ব্যবসা করছেন বাংলাদেশিরা। তবে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি রয়েছে সুপারসপ, টেক্সিফোন এবং রেস্টুরেন্ট। সেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোতেও কিন্তু আবার বাংলাদেশিরা কাজ করার সুযোগ পেয়ে থাকেন। তবে করোনাভাইরাসের কারনে অনেক ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। আবার অনেকের চাকরি চলে গেছে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে যাদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে তারা ফ্রান্সের সরকারের কাছ থেকে সাহায্যও পেয়েছেন।

এবার আসা যাক স্বপ্নের আমেরিকা প্রসঙ্গে, বিগত দশ বছরে আমেরিকায় বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ। ২০১০ সালে আমেরিকায় বাংলাভাষী জনসংখ্যা ছিল তিন লাখ ২৩ হাজার। যেখানে ২০২০ সালে এ জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে চার লাখ।

আমেরিকায় বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত রয়েছেন। তাদের মধ্য অনেকেই রয়েছেন যারা দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী হিসেবেও নিয়োজিত। এছাড়া দেশটিতে শিক্ষার্থীদের আধিপত্য বেশি। আমেরিকায় বাংলাদেশিদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সজীব আহম্মেদ নামে এক প্রবাসী জানান, করোনাভাইরাসের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক প্রবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেই সঙ্গে অনেকে নিজ কর্মস্থল হারিয়েছেন। তবে প্রবাসী শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এখানে কাজ করছে, তারা খুব ভালো অবস্থানে রয়েছেন। এই প্রবাসীর প্রত্যাশা করোনাভাইরাস পরিস্থিতি কাটিয়ে খুব শীগ্রই প্রবাসী বাংলাদেশিরা ঘুরে দাঁড়াবে।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে বাংলাদেশিরা, তাঁরা জীবনের তাগিদে পরিবারের প্রয়োজন মেটাচ্ছেন সদুর পরবার থেকে। কিন্তু যেই প্রবাসীরা দিন-রাত করে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তারা কেমন পারিশ্রমিক পাচ্ছেন? এই প্রসঙ্গে নিয়ে কথা বললে একটি অভিযোগ সামনে আসে আর তা হলো- প্রবাসে পারশ্রমিক বৈষম্য।

প্রবাসে কর্মরত অন্যান্য দেশের শ্রমিকদের তুলনায় পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হন বাংলাদেশিরা। ভারত ও শ্রীলঙ্কার শ্রমিকদের তুলনায় পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হন বাংলাদেশিরা। ভারত ও শ্রীলঙ্কার শ্রমিকদের তুলনায় প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ বেতন-ভাতা কম পান তারা। অন্যান্য দেশের শ্রমিকরা স্বাস্থ্যসেবা পেলেও অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের তা দেওয়া হয় না। বঞ্চিত করা হয় ওভারটাইম ও পদায়নের ক্ষেত্রেও। শক্তিশালী অভিবাসন আইন না থাকায় শ্রমিকদের নিয়োগপত্রে থাকে দুর্বলতা। অনেক সময় বিদেশে বাংলাদেশি মিশনগুলোর শ্রম শাখার তৎপরতার নিয়েও অভিযোগ থাকে।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে করা অভিবাসী শ্রমিকদের অভিযোগপত্রে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রতি মাসে গড় বেতন ১৭০ থেকে ২০০ ডলার। যেখানে একই মানের ভারত ও শ্রীলঙ্কার শ্রমিকরা প্রাথমিক পর্যায়েই পান ৩০০ থেকে ৩৫০ ডলার। মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনায় আহত বাংলাদেশি শ্রমিকরা কোনো স্বাস্থ্যসেবা পান না। তাই আহত হয়ে তাদের অনেককে খালি হাতে দেশে ফিরতে হয়।

শুধু নিয়োগ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির গাফিলতির কারণেই স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে হয়। শ্রমিকদের অভিযোগ, রিক্রুটিং এজেন্সি নিজেদের লাভের আশায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিমা করে না। কিন্তু এজেন্সিগুলো বলছে অন্যকথা। তাদের অভিযোগ, সরকারের করা নিয়মে দুর্বলতা থাকায় নিয়োগ প্রতিষ্ঠান এ চুক্তি করে না।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শ্রমিকদের এসব বঞ্চনার কারণ বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে তাদের সঙ্গে নিয়োগ প্রতিষ্ঠানের চুক্তির দুর্বলতা। এ ছাড়া বিদেশে মিশনগুলোতে কর্মরত শ্রম শাখার তৎপরতার অভাব ও শক্তিশালী অভিবাসন আইন না থাকায় তাদের এ বঞ্চনা আরও প্রকট করে তুলেছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও খবর
© 2018 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখ, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি
Theme Customized BY LatestNews