1. monir212@gmail.com : admin :
  2. user@probashbarta.com : helal Khan Probashbarta : Helal Khan
  3. merajhgazi@gmail.com : News Desk : Meraj Hossen Gazi
  4. desk@probashbarta.com : News Desk : News Desk
শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন

মিরপুরে করোনায় ’পিতার মৃত্যু এবং সন্তানের ব্যর্থতা‘

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত : রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২০
Print Friendly, PDF & Email

 

প্রবাস বার্তা ডেস্ক : রাজধানীর মিরপুরে করোনাভাইরাসে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তি কোন বিদেশির সংস্পর্ষে ছিলেন না বলে জানিয়েছেন তার ছেলে ফুয়াদ আব্দুল্লাহ আল ফারুক। একই সাথে কয়েকটি হাসপাতাল ও আইইডিসিআর-এর ভূমিকাও তুলে ধরেছেন তিনি। বাবার মৃত্যু এবং আগে- পরের ঘটনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন ফুয়াদ। যা হুবহু তুলে ধরা হল:-

পিতার মৃত্যু এবং সন্তানের ব্যর্থতা-

আমি কখনো ভাবি নি যে আমার পিতার মৃত্যুর ঘটনা আমাকে এই ভাবে লিখতে হবে কিন্তু কিছু মিডিয়ার মিথ্যা রিপোর্ট দেখে আমি বাধ্য হলাম ফেসবুকে কিছু সত্য প্রকাশ করতে।

গত ১৬ তারিখে আব্বা অসুস্থ্ বোধ করালে আমাদের ড্রাইভার ঐ দিন বিকালে উনাকে কল্যানপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসে। ঐ সময় আমরা ভাইরা সবাই অফিসে। আমি অফিস থেকে বাসায় এসে শুনলাম ডাক্তার সাস্পেক্ট করতেছে উনার করোনা হয়েছে এবং কোভিড ১৯ টেস্ট এর জন্য সাজেস্ট করেছে, অতঃপর ঐ রাত্রে ই আমরা উক্ত টেস্ট এর জন্য IEDCR এর হান্টিং নাম্বারে ফোন দেওয়া শুরু করি প্রায় দেড় ঘন্টা পর তাদের সাথে আমরা কম্যুউনিকেশন করতে সমর্থ্য হয়, তারা আমাদেরকে জানায় যেহেতু অসুস্থ ব্যাক্তি বিদেশ ফেরত না এবং বিদেশ ফেরত কোনো ব্যাক্তি র সংস্পর্শে উনি আসেন নাই সেহেতু এই টেস্ট উনার জন্য প্রযোজ্য নয়, আমি তাদেরকে বলেছিলাম উনি মসজিদে যায় এবং ঐখান থেকে এই ভাইরাস আসতে পারে কিনা তারা আমাদের বলেছেলো যে এই ভাইরাস বাংলাদেশে কমিউনিটি তে মাস লেভেলে এখনো সংক্রামিত হয়নি সুতরাং আপনারা চিন্তা কইরেন না সাধারন শ্বাস কষ্টের প্রব্লেম। ঐ রাত্রেই আনুমানিক ১০.৩০ এ আমি উনাকে শ্যামলী র একটি বড় হাস্পাতালে নিয়ে যায় এবং আমাদের পরিচিত একজন স্পেশালিষ্ট ডক্টর কে দেখাই উনি আমাকে বলেন রুগির নিউমোনিয়া হয়েছে উনাকে নিউমোনিয়ার treatment দিতে হবে তবে বাংলাদেশের কোনও hospital এই রুগির ভর্তি নিবে না আপনারা বাসায় treatment করান।আমরা ঐ রাত্রে বাসায় চলে আসি এবং আব্বাকে নেবুলাইজার দেওয়া এবং মুখে খাওয়া এন্টিবাইটিক দিতে থাকি। পরের দিন ১৭ তারিখে দুপুরে আমি আব্বাকে নিয়ে যায় শ্যামলির ঐ হাস্পাতালের ইমার্জেন্সি তে। তারা রুগি দেখে বলে যে রুগির অবস্থা ভালো না উনাকে আইসিউ সাপোর্ট দিতে হবে এবং তাদের আইসিউ তারা দিতে পারবে না।

এর পর আমি কেয়ার হাস্পাতালে কথা বলি ওরা বলে ওদের আইসিউ খালি আছে। আমরা দ্রুত আব্বাকে নিয়ে কেয়ার হাস্পাতালে যায় এবং আইসিউতে ভর্তি করি ১৫ মিনিট পর হাস্পাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের বল্লেন এইরুগি তারা রাখতে পারবে না। অতঃপর আমরা রুগি নিয়ে কল্যানপুর একটি হস্পিটালে যায় তারা আমাকে কেবিন দিয়ে সাহায্য করে কিন্তু তাদের আইসিউ খালি না থাকায় আমি স্কয়ারে ফোন দি আইসিউ এর জন্য স্কয়ার আমাদেরকে বলে রুগি ছাড়া কাগজ পত্র নিয়ে আসতে তারা কাগজ পত্র দেখে ভালো মনে করলে রুগি ভর্তি করবে। রাত আনুমানিক ১২.৩০ হাস্পাতালের ডাক্তার আমাকে বল্লেন এই রুগি র আইসিউ লাগবে আপ্নারা দ্রুত আইসিউ এর ব্যবস্থা করেন, আমি বিভিন্ন হাস্পাতালে কথা বলতে থাকি কোথাও আইসিউ খালি নায়, অতঃপর ডেল্টা হাস্পাতাল তাদের আইসিউ দিতে রাজি হয়। আমি এবং আমার মেজ ভাই রাত্রে ৪ টার সময় আব্বাকে নিয়ে ডেল্টাতে আসি এবং দুপুর ১২টার পর থেকে আব্বা লাইফসাপোর্টে চলে যায়। ১৮ তারিখ দুপুর থেকে আমরা এবং হাস্পাতাল কর্তৃপক্ষ IEDCR এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে কিন্তু ব্যার্থ হয়। অতঃপর ১৯ তারিখ বিকালে IEDCR রাজি হয় এবং রাত্রে টেস্ট করে এবং পরের দিন ২০ তারিখ দুপুরে IEDCR আমাদেরকে জানায় যে রিপোর্ট পজিটিভ। আমাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলে ১৫ দিন।

রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর থেকে ডেল্টা হাস্পাতাল আমাদের প্রেশার দিতে থাকে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়ার অনুমোদন দেওয়ার জন্য কিন্তু আমরা অনুমতি না দিয়ে তাদেরকে বলতে থাকি treatment দিয়ে যাওয়ার জন্য কিন্তু তারা আর রুগির কাছেও যায় নি এবং আমাদেরকে আইসিউ এর ভেতর ঢুকতেও দেয় নি। যাইহোক আমার আব্বা অবশেষে ২১ তারিখ ভোর তিন টার সময় ইন্তেকাল করে।

আমরা সন্তানরা ব্যার্থ পিতার সঠিক ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করতে এবং এমনকি তার জানাজা তে আমরা উপস্থিত থাকতে পারি নায়। সন্তান হিসেবে, একজন পুত্র হিসেবে এর চেয়ে কঠিন কষ্ট আর কিছুই হতে পারে না। আমার বুকে পাথর বেঁধে বাসায় অবস্থান করতেছি সরকারের আইন মেনে ১৫ দিন। কিন্তু কিছু পেইজ এবং ফ্রন্ট লাইনের মিডিয়া আমাদেরকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যে আমার ভগ্নিপতি বিদেশ থেকে আমাদের বাসায় এসেছে, যেটা সম্পুর্ণ মিথ্যা কথা। আমার দুই ভগ্নি পতি, বড় বোন এবং তার হাজবেন্ড চিটাগং এর দুটি সরকারি কলেজের অধ্যাপক অন্য ভগ্নি পতি জাপান থাকে সে গত এক বছরের মধ্যে আসে নাই, আমার বাবা যেদিন আইসিউ তে লাইফ সাপোর্ট এ চলে যায় সে দিন মানে ১৯ তারিখে আমার বড় বোন এবং বড় দুলাভাই চিটাগং থেকে আমাদের বাসায় আসে এবং তারাও হোম কোয়ারেন্টাইন পালন করতেছে।

আমাদের এই বিপদের সময় দয়া করে আমার পরিবার সম্পর্কে মিথ্যা রিপোর্ট করবেন না। এখন পর্যন্ত আমাদের পরিবারের বাকি সদস্য রা সুস্থ আছে কারো মধ্যে করোনার লক্ষন দেখা দেয় নাই, আমার এবং আমার ড্রাইভারের কভিড ১৯ টেস্ট করা হয়েছে যেটা নেগেটিভ এসেছে। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন আল্লাহ আমাদের হেফাজত করেন, বাংলাদেশের সবাইকে যেনো আল্লাহ হেফাজত করেন।
আমিন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও খবর
© 2018 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখ, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি
Theme Customized BY LatestNews