1. monir212@gmail.com : admin :
  2. user@probashbarta.com : helal Khan Probashbarta : Helal Khan
  3. merajhgazi@gmail.com : News Desk : Meraj Hossen Gazi
  4. desk@probashbarta.com : News Desk : News Desk
সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনে অবৈধ অভিবাসীদের বাঁধভাঙা ঢল

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত : বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন অফিসের সামনে অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসীরা।
Print Friendly, PDF & Email

 

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া: সাধারণ ক্ষমা কর্মসূচির শেষের দিকে বাঁধভাঙা ঢল নেমেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন অফিসগুলোতে। আর এ ঢল সামলাতে সাপ্তাহিক বন্ধের দিনেও ইমিগ্রেশন বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং সকাল ৮ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত চলছে এই কার্যক্রম।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৮টায় কাউন্টার খোলার আগে মধ্যরাতের প্রথম দিকে বা তার আগে থেকে বিভিন্ন দেশের অভিবাসীগন লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রয়েছেন।

হাজার হাজার অভিবাসী লাইনে প্রতীক্ষায় থাকলেও একটি ইমিগ্রেশন  অফিস থেকে প্রতিদিন গড়ে ইস্যু করা হচ্ছে ৪০০টি স্পেশাল পাস। বাকিদের লাইনেই থাকতে হচ্ছে পরের দিনের প্রত্যাশায়। কারণ অবৈধ হয়ে দুর্বিসহ জীবন কাটাতে চায় না। প্রতিক্ষা কষ্টের হলেও শুধু জরিমানা দিয়ে দেশে ফেরার এ সহজ সুযোগ কেউ হাতছাড়া করতে চায় না অভিবাসীরা।

এদিকে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তিন গুণ বেড়েছে ফ্লাইটের ভাড়া! ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় ফ্লাইটে বিশেষ ছাড় দিয়েছে। ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়ার প্রতিবেশি দেশ হওয়ায় আকাশ পথের পাশাপাশি সাগর পথেই বেশি লোক ফিরে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে সাগর পথে লোক আসলেও যাবার সময় আকাশ পথই একমাত্র উপায়। বাংলাদেশ সরকার টিকেট প্রতি ১২ হাজার বাংলাদেশি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। তবে শর্ত হলো অবশ্যই ট্রাভেল পারমিট  থাকতে হবে। এই ভর্তুকির টিকেট বিমান এর কুয়ালালামপুরস্থ অফিস থেকে সরাসরি কিনতে হবে। এজেন্টের কাছ থেকে কেনার সুযোগ দেয়নি বিমান। ফলে বাংলাদেশিরা সরকার প্রদত্ত সুবিধা নিতে পারছে না সহজে।

১ আগস্ট থেকে চালু হওয়া ব্যাক ফর গুড কর্মসূচির সুবিধা দিতে মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন ইমিগ্রেশন অফিসে ৮০টি বুথ খোলে। ডেট লাইন ৩১ ডিসেম্বর যতই কাছে এসেছে ভীড় বাড়তে শুরু করেছে। শুরুর  দিকে ভীড় ছিল পুত্রজায়া ও জালান দুতা ইমিগ্রেশনে এবং অন্যান্য  ইমিগ্রেশনে ভিড় ছিল না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাংলাদেশি ব্যাক ফর গুড কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে ফেরত যেতে ইমিগ্রেশন এর টোকেন পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। বাংলাদেশী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, টানা ৪দিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে মঙ্গলবার ২৪ ডিসেম্বর স্পেশাল পাস হাতে পান। ঐ বাংলাদেশি অভিযোগ করে বলেন, টানা ৪ দিনের মধ্যে গোসল কিংবা খাওয়া দাওয়া কিছুই করতে পারেননি।

৩০ বছর বয়সী বাংলাদেশি পুত্রাজায়া ইমিগ্রেশন অফিসে দেশে ফেরার আবেদন করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, এই কয়দিন কেবলমাত্র পেট বাঁচানোর তাগিদে রুটি খেয়েছি। কারণ আমি ভীত ছিলাম এই লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে টোকেন পাব কিনা।

দুই দফায় ইমিগ্রেশন অফিসে উপস্থিত হয়েও সিরিয়াল না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত টিকিট ফেলে দিতে হল সিলেটের সুমন চন্দ্র দেবের, জামালপুরের ইসমাইল ও ময়মনসিংহের জামালকে। তারা জানান, আমরা দুই দফা যাওয়ার পরও রেজিস্ট্রেশন করতে পারলাম না। ২৪ ডিসেম্বর রাত ১০টায় এয়ার এশিয়ায় দেশে ফেরার কথা ছিল তাদের। স্পেশাল পাস না পাওয়ায় আর যাওয়া হয়নি। তাদের কাছে বাড়তি কোনো টাকা পয়সা না থাকায় দেশ থেকে টাকা এনে আবার টিকিট নিয়ে দেশে ফিরতে হবে।

মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনের ফেসবুক পেইজে পেনাং ইমিগ্রেশন অফিসের তথ্য প্রকাশ করে বলা হয়েছে, বিদেশী অবৈধ নাগরিকদের সেবা দিতে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করছে এবং সবমিলে ৪০০ জনকে স্পেশাল পাশ দিতে পারছে।

ধারনা করা হচ্ছে এ চিত্র কম বেশি সবকটি ইমিগ্রেশন অফিসের।  বাকী থেকে যাচ্ছে অনেকেই যা ইমিগ্রেশনের ফেসবুক পেইজে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বাকীরা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে স্পেশ্যাল পাশ না পেলে কি হবে? এমন প্রশ্ন করছেন অনেকেই, কেউ বলছেন মেয়াদ বেড়েছে, কেউ বলছেন মেয়াদ বাড়বে এমন দ্বিধাদ্বন্দের মাঝে ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুজ জাইমি স্পস্ট বলেছেন ‘এখন পর্যন্ত ব্যাক ফর গুড কর্মসূচি মেয়াদ বৃদ্ধির কোন সিদ্ধান্ত সরকারের তরফ থেকে হয় নি।’বাংলাদেশ হাইকমিশন  সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ অভিবাসীদের দেশে ফিরে যাবার চাহিদাকে বিবেচনা করে এর মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য মালয়েশিয়া সরকারের কেছে অনুরোধ পত্র পাঠিয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ হাইকমিশন মালয়েশিয়া সরকারের প্রবর্তিত ব্যাক ফর গুড কর্মসূচীর আওতায় অনিয়মিত কর্মীদের দেশে প্রত্যাবর্তনে গড়ে প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৩ শ ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হচ্ছে। এত ট্রাভেল পাশ এবং পাসপোর্ট ধারী অবৈধদের ঠিক কতজন সুবিধা নিচ্ছে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন, আগষ্ট থেকে শুরু হওয়া সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিয়ে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিজ নিজ দেশে ফিরেছেন ৩৯ হাজার বাংলাদেশীসহ ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯শত ১জন।

এর মধ্যে সর্বোচ্চ ইন্দোনেশিয়ার ৫৩ হাজার ৩শত ২৮জন। ইন্ডিয়ার ২২ হাজার ৯শত ৬৪ ও মায়ানমারের ৬ হাজার ৯শত ২৩ জন। বাকিরা বিভিন্ন দেশের নাগরিক।

এ পরিসংখ্যান উল্লেখ করে ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক কঠোর বার্তা দিয়ে হুশিয়ারি করেছেন যে, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে অবৈধ অভিবাসীকে বি-ফোর-জি পদ্ধতি অনুসরণ করে নিজ নিজ দেশে ফিরে না গেলে তাদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইনের ১৫(১) ২৯৫৯/৬৩ ধারায় ২ লাখ টাকা জরিমানা ও ৫ বছরের জেল অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারে এবং বেত্রাঘাত শাস্তি হবে। তবে যারা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিয়ে ইমিগ্রেশনে গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে স্পেশাল পাশ পাচ্ছেন না তাদের কি হবে?

এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ হাইকমিশনের লেবার কাউন্সেলর মোহাম্মদ জহিরুল  ইসলাম  বলেন, ‘হাইকমিশনার মহ.শহীদুল ইসলামের নির্দেশে ট্রাভেল পারমিট  যেদিন আবেদন করছেন সে দিন বিকালেই দিচ্ছি, সোশ্যাল মিডিয়ায়  প্রচার করছি, বিভিন্নভাবে প্রচার করে লোকদেরকে উদ্বুদ্ধ  করছি যেন সরাসরি দূতাবাস এবং ইমিগ্রেশন থেকে সেবা নেয়।

ফলে বি-ফোর-জির সুবিধা নিতে যাচ্ছেন। মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে যাচ্ছে। অনেকে আমাদের কাছে জানাচ্ছে আমরা ইমিগ্রেশনকে জানাচ্ছি, ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা নিচ্ছে।

অপরদিকে বিমান বন্দরে গিয়েও অনেকের ট্রাভেল পারমিট সম্পর্কে এয়ারলাইন্সগুলো সন্দিহান হলে সেগুলোও ক্লিয়ার করে দিচ্ছে। কারণ ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন অন্যদেশের নাগরিক ফলস্ বা ছবি বদল করে অন্যের ট্রাভেল পারমিট নিয়ে ইমিগ্রেশনে বা বিমানবন্দরে গিয়ে বাংলাদেশে যাবার চেষ্টা করেছিল কিন্তু আমাদের কাছে রেকর্ড থাকায় তাতক্ষণিক যাচাই করে  এদের থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকে গ্রেফতার হয়েছে। অনেকে পালিয়ে গেছে। এভাবে হাইকমিশন থেকে ইস্যু করা  ট্রাভেল পারমিটে ছবি বা তথ্য পরিবর্তন করে ব্যাবহার করার কোন সুযোগ নাই। তিনি বলেন, আমাদের দেশের বিপদগ্রস্ত  নাগরিক যাতে সেবা পায় সে বিষয়ে হাইকমিশনার মহ.শহীদুল ইসলাম একটি টিম করে দিয়েছেন।’মালয়েশিয়াস্থ বিমান বাংকাদেশ এয়ারলাইন্সের তথ্যমতে, ‘১৪ ডিসেম্বর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স অতিরিক্ত ১৬টি ফ্লাইট চালু করেছে। এই ১৬ টি ফ্লাইটে ব্যাক ফর গুড এর টিপিধারী যাত্রীরা শুধু এই ১২ হাজার টাকা ভর্তুকি পাচ্ছেন। তবে অধিকাংশ যাত্রী-ক্রেতা জানাচ্ছেন বিমান অফিসে গেলেও ভর্তুকি মূল্যের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে এ কর্মসূচীর আওতায় বাংলাদেশ বিমান ছাড়া অন্য এয়ারলাইন্স এ ব্যাক ফর গুডের যাত্রীরা এ সুবিধা পাচ্ছেননা। এ নিয়ে দেশে ফিরে যেতে যারা অন্য এয়ারলাইন্সে টিকিট করেছে বা যাবে তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে প্রবাসীদের অধিকার ও কল্যাণ নিয়ে সোচ্চার সংগঠনগুলি বলছে ব্যাক ফর গুডের আওতায় দেশে ফেরত আসছেন এমন  সকল ব্যক্তিকে এই ভর্তুকির আওতায় আনা হলে কোন বৈষম্য হবে না। রাষ্ট্র তার নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য করতে পারে না করলে তা স্পষ্ট সংবিধানের লঙ্ঘন হবে। তারা বলছেন, শেষের দিকে যেভাবে বাংলাদেশসহ অন্য ১৬ টি দেশের অবৈধ নাগরিকদের ভীড় লক্ষ করা যাচ্ছে তাতে এ কর্মসূচির মেয়াদ বৃদ্ধি করলে মালয়েশিয়া সরকারের উদ্দেশ্য সফল হবে।’

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও খবর
© 2018 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখ, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি
Theme Customized BY LatestNews