Print Friendly, PDF & Email

 

বিশেষ প্রতিনিধি: সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে নতুন কিছু প্রস্তাবনা দিতে যাচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ২৭ নভেম্বর সৌদি আরবে দু’দেশের যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হবে। কোন কোন বিষয়ে সংশোধন বা সংযোজন করা প্রয়োজন এনিয়ে মন্ত্রী ইমরান আহমদের নেতৃত্বে একটি তালিকা করেছে মন্ত্রণালয় ।

সম্প্রতি নারী কর্মীদের ওপর নির্যাতন ও ভোগান্তি নানা খবর আসে গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে। এরপর তৎপর হয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে গত ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশে সৌদি দুতাবাসের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স হারকান হুয়া ওয়াইদি বিন শাওইয়াকে মন্ত্রণালয়ে ডাকেন মন্ত্রী ইমরান আহমদ। প্রায় তিন ঘন্টা বৈঠক হয় তাদের মধ্যে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মষংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ জানান, প্রবাসে নারী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এরই অংশ হিসেবে ২৭ নভেম্বর সৌদিতে যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠকে বিষয়গুলি আলোচনা করা হবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রস্তাবনা দেয়া হচ্ছে বলেও জানান ইমরান আহমদ। সেগুলো কার্যকর হলে নারী কর্মীদের সুরক্ষা আরো উন্নত হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এবারের কারিগরি কমিটির বৈঠকে নারী কর্মীদের সুরক্ষা ইস্যুতে কয়েকটি নতুন প্রস্তাবনা দিচ্ছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে রয়েছে:-

১.নারী কর্মী নিয়োগে সৌদি অংশের এজেন্সিকে আরো জবাবদিহীতায় আনা। তারা একজন নারীকে নেয়ার পর পুরো দায়িত্ব নিতে হবে।

২. নারী কর্মীকে কোন বাসায় কাজে দেয়া হয়েছে সেই বাসার মালিকের বিস্তারিত তথ্য ফোন নম্বরসহ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত থাকবে।

৩. কোন নারী কর্মীকে বাসা পরিবর্তন করার আগে সেই মালিকের তথ্য বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট দফতরে দিতে হবে।

৪. নারী কর্মীকে সার্বক্ষণিক মোবাইল ফোন নিশ্চিত হবে।

৫. কোন অভিযোগ বা সমস্যা যাচাই বাছাইয়ের জন্য একজন নারী ইন্সপেক্টরকে নায়োগদাতার বাসায় প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে।

৬. নিয়োগদাতা এবং দুই দেশের রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে তিন মাসের যেই মৌখিক চুক্তি রয়েছে তা বাতিল করতে হবে।

সৌদি আরবে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের কারিগরি কমিটির একজন কর্মকর্তা প্রবাস বার্তাকে জানান, অধিকাংশ রিক্রুটিং এজেন্সি, নারীদের পাঠানোর সময় বলে তুমি যাও, কোন মতে তিন মাস থাকো। এরপর চলে আসতে পারবা। নানা অভিযোগে ফেরত আসতে চাওয়া নারীদের বিষয়ে অনুসন্ধানে এমটি পাওয়া যায় বলেও জানান ঐ কর্মকর্তা। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, নিয়োগদাতার কাছ থেকে এজেন্সি প্রায় দুই হাজার ডলার পায়। এই টাকাটা মূলত তিন মাসের একটি চুক্তি থাকে। তিন মাসের মধ্যে নারী কর্মী যদি না থাকে বা পালিয়ে যায় তাহলে টাকা ফেরত দিতে হয়। এজন্য দেখা যায় অনেক নারী তিন মাস পার হলেই নানা সমস্যার কথা বলে দেশে আসতে চায়। এখানে কিছু অসাধু রিক্রটিং এজেন্সির লোকেরা কৌশলটি নেয়।

সৌদি অংশে নারী কর্মীরে সুরক্ষায় নানা বিষয়ের আলোচনার পাশাপাশি দেশেও বাছাই এবং প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন  আনতে পদক্ষেপ নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। এরই অংশ হিসেবে সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র- টিটিসির কর্মকর্তাদের নিয়ে  ১৯ নভেম্বর কর্মশালা করা হয়। এখন থেকে বাছাই পদ্ধতিতে আরো কঠোক হবে মন্ত্রণালয়। কেনভাবেই যাতে কম বয়সী নারীকে বেশী বয়স দেখিয়ে পাসপোর্ট করা না হয় সে বিষয়টি নজরদারিতে থাকবে। একইসাথে কোন নারী ছোট বাচ্চার তথ্য গোপন করে যাতে বিদেশে যেতে না পারে সে বিষয়েও কঠোর হচ্ছে মন্ত্রণালয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

bdnewspaper24