পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
Print Friendly, PDF & Email

 

স্টাফ রিপোর্টার: সৌদিতে নারী কর্মীর বিষয়টি খুবই জটিল বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একথা জানান। এ সময় তিনি বলেন, নির্যাতনের শিকার হলেও সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠানো বা না পাঠানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, সৌদি আরবে প্রবাসী কর্মীদের সহযোগিতার জন্য যে হেল্প সেন্টার রয়েছে সেখানে এসে অভিযোগ করেন না নির্যাতনের শিকার হওয়া এসব নারী। যদি তারা সেখানে অভিযোগ করতেন তাহলে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হতো।

তিনি বলেন, ‘আমাদের নারীরা ওখানে তাদের ভাষা বোঝে না, তাদের খাদ্যাভাসের সঙ্গে পরিচিত না। প্রথম যাওয়ার পরে তারা ভাষার সমস্যায় পড়েন। মালিক যা আদেশ করেন, তিনি তা বোঝেন না। রান্না করতে বললে তার রান্না সৌদিদের মতো হয় না। এ ধরনের বহুরকম গ্যাপ আছে। তবে পাঠানোর আগে নারীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হলে এই পরিস্থিতির উন্নয়ন হতে পারে।

এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ”সম্প্রতি সুমি নামে যে নারীকর্মীর দেশে ফেরার আকুতির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, সেটি দেখে আমরা সংশ্লিষ্ট কনসাল জেনারেলের সঙ্গে কথা বলি তাকে উদ্ধারের জন্য। কিন্তু সমস্যা দেখা যায়, ওই মেয়েটি জানাননি তিনি কোন শহরে থাকতেন। শেষ পর্যন্ত তার লোকেশন পাওয়া যায়। কোনো শহর নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক বাসাবাড়িতে তিনি কাজ করতেন। তাকে ফেরত আনা হয়েছে।”

এসময় তিনি জানান, যেসব নারী গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে যায় তাদের নামের তালিকা দেয় না রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। এ সময় তিনি আরো বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো সরকারের নির্দেশনার কোনো তোয়াক্কা করছে না। যে কারনে সৌদি আরবে গৃহ কাজে নিয়োজিত এসব নারীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়না।

ড. মোমেন বলেন, ’আমরা প্রবাসী নারীদের সঙ্গে আলাপ করে জেনেছি, সব নারী নির্যাতনের শিকার নন। কিছু কিছু নারী নিজের কারণেও নির্যাতিত হন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সৌদি আরবে ২ লাখ ৭০ হাজার বাংলাদেশি নারী কাজ করছেন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন কারণে সেখান থেকে ৫৩ হাজার কর্মী ফেরত এসেছে। এদের মধ্যে নারী কর্মী রয়েছে ৮ হাজার ।

bdnewspaper24