Print Friendly, PDF & Email

 

প্রবাস বার্তা, বিশেষ প্রতিবেদন: মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকায় ৩ দিনে মিলবে ই-পাসপোর্ট। প্রবাসীরাও মাত্র ৩০ ডলারে বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে এই ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ পাসপোর্ট অধিদপ্তর কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। তারা বলছেন, আগামী ২৮ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মাধ্যমে এই ই-পাসপোর্ট দেয়া শুরু হবে।

নতুন এই ই-পাসপোর্টে থাকছে ৩৮ ধরনের নিরাপত্তা ফিচার। আর ই-পাসপোর্ট বইয়ে জুড়ে দেওয়া হবে একটি ডিজিটাল ডাটাপেজ যেখানে উন্নতমানের মেশিন রিডেবল চিপ বসানো থাকবে। এতে সংরক্ষিত থাকবে পাসপোর্টধারীর সব তথ্য। ডাটাপেজে থাকবে পাসপোর্টধারীর তিন ধরনের ছবি, ১০ আংগুলের ছাপ ও চোখের আইরিশও।

পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ই-পাসপোর্টের মেয়াদ বয়স অনুপাতে ৫-১০ বছর হবে এবং বর্তমানে এমআরপি ডাটাবেজে যেসব তথ্য আছে তা-ই পাসপোর্টে স্থানান্তর করা হবে।

বর্তমানে প্রচলিত পাসপোর্টে বিদ্যমান এমআরপিতে ৩৮টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকলেও এর বেশিরভাগই জাল করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু এই ই-পাসপোর্ট বইয়ে পলিকার্বনেট ডাটাপেজ থাকায় তা জাল করা সম্ভব হবে না বলে জানায় পাসপোর্ট অধিদপ্তর।

ই-পাসপোর্টে ভুল সংশোধনের কোনো সুযোগ আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে পাসপোর্ট অধিদপ্তর কর্মকর্তারা জানান, প্রচলিত পাসপোর্টে যেভাবে ভুল সংশোধন করা হয় এক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ফি ও কাগজপত্র জমা দিয়ে ভুল সংশোধন করা যাবে। যেহেতু পাসপোর্টের ভেতরে একটি চিপের ভেতরের তথ্যগুলো থাকে তাই সংশোধন হওয়ামাত্র চিপের ভেতরের ও কেন্দ্রীয় তথ্যকেন্দ্রে থাকা তথ্য সংশোধন হয়ে যাবে। তবে পাসপোর্টের তথ্য সংশোধন হলে সংশোধনের পর নতুন বই ইস্যু করা হবে।

বিভিন্ন তথ্যসূত্র থেকে জানা যায়, বর্তমানে পৃথিবীতে ১১৯ দেশের নাগরিকরা ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করছে।  আর সেই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশের নাম।

 

 

বিশ্বজুড়ে ১১৯টি দেশে বহুল ব্যবহৃত এই ই-পাসপোর্টের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল বিমানবন্দরে ভিসা চেকিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না। ঝামেলাহীন ভাবে ই-গেট ব্যবহার করে দ্রুতসময়ে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করা যাবে। এছাড়া ভ্রমণকালেও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ কম্পিউটারের মাধ্যমে দ্রুতসময়ে পাসপোর্টধারীর সব তথ্য-উপাত্ত জানতে পারবে।

যেখানে ই-গেট থাকবে না সেখানে কিভাবে ইমিগ্রেশন হবে জানতে চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিমানবন্দর বা ইমিগ্রেশন পোর্টে ই-গেট থাকবে, যেখান দিয়ে দ্রুততম সময়ে ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করে সবাই যাতায়াত করতে পারবেন। প্রচলিত এমআরপি পাসপোর্টের মতো প্রথমে তথ্য সংবলিত দুইটি পাতা ই-পাসপোর্টে না থাকলেও, শুরুতেই যেখানে পালিমানের তৈরি চিপ এবং অ্যান্টেনা থাকবে, সেখানে পাসপোর্ট বাহকের নাম, নম্বর, জন্মতারিখ ইত্যাদি তথ্য থাকবে। সেই সঙ্গে মেশিন রিডেবল অপশনও থাকবে। ফলে ই-গেট না থাকলেও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা সেটি স্ক্যান করে কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন এবং পাসপোর্ট সংক্রান্ত সকল কাজ করতে পারবেন।

ফলে ই-গেট না থাকলেও যাতায়াতে কোন সমস্যা হবে না। বরং বিমানবন্দরগুলোতে ই-গেটের পাশাপাশি প্রচলিত ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাও চালু থাকবে।

ই-পাসপোর্ট চালু হলে প্রচলিত এমআরপি পাসপোর্ট বাতিল হবে বলে জানায় পাসপোর্ট অধিদপ্তর। তবে নতুন করে কাউকে এমআরপি পাসপোর্ট দেয়া হবে না। যাদের এমআরপি মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে তারা নবায়ন করতে গেলে ই-পাসপোর্ট দেয়া হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে এমআরপি পাসপোর্ট তুলে নেওয়া হবে।

bdnewspaper24