1. monir212@gmail.com : admin :
  2. user@probashbarta.com : helal Khan Probashbarta : Helal Khan
  3. merajhgazi@gmail.com : News Desk : Meraj Hossen Gazi
  4. desk@probashbarta.com : News Desk : News Desk
বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আমিরাতে মধ্যাহ্ন বিরতি আইন কার্যকর হওয়ায় প্রবাসীদের স্বস্তি সৌদি প্রবাসীদের ফ্লাইটের নতুন নির্দেশনা দিল বিমান স্পেনে শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস পালন বিদেশগামী কর্মীদের দ্রুত ভ্যাকসিন দিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা ডিসেম্বরের মধ্যে সব খাত চালু করতে চায় মালয়েশিয়া “বিগো লাইভে” প্রবাসীদের টার্গেট করেন তারা স্পেনের লেলিদায় বাংলাদেশিদের জন্য মসজিদ ও কবরস্থান তৈরির আশ্বাস মালয়েশিয়ায় দূতাবাসকর্মী হারুনুর রশিদের দাফন সম্পন্ন দক্ষিণ আফ্রিকায় কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বাংলাদেশির আমিরাতে ছয় বছর অবৈধভাবে থাকার পর দেশে ফিরলেন ক্যান্সার আক্রান্ত নূর হোসেন

বায়রা মহাসচিবের চিঠি: ঝুলে যেতে পারে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ?

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৯
Print Friendly, PDF & Email

 

বিশেষ প্রতিনিধি: মালয়েশিয়া শ্রমবাজার খুলতে ৬ নভেম্বর বৈঠক করতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধি যাচ্ছেন দেশটিতে। দু’দেশের মধ্যে নানা বিষয়ের সমাধান করে শ্রমবাজরটি চালুর বিষয়ে ভালো খবরের আশা করছেন মন্ত্রী ইমরান আহমদ। মন্ত্রী বারবারই বলে আসছেন, ‘যেহেতু কর্মী নেবে তারা, তাই শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকার ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেয়া হবে।’

কিন্তু এমন আশার খবরের এক সপ্তাহ আগে জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস-বায়রা মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমানের লেখা মালয়েশিয়া সরকারের দুই মন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি সব উলটপালট করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই চিঠিটি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক এবং মালয়েশিয়া সরকার যা চাচ্ছে, এই চিঠি সেটার বিরোধিতা করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে শ্রমবাজার খোলার বিষয়টি আরো জটিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার ( ২৯ অক্টোবর ) রাতে প্রবাস বার্তা’র কাছে পৌঁছায় সেই চিঠির একটি কপি। নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া ঐ চিঠিতে দেখা যায়, বায়রা মহাসচিব শ্রমবাজার বিষয়ে কিছু মতামত তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে শ্রমবাজারের মেডিকেল এবং কর্মী পাঠানোর পদ্ধতি বিষয়ে দীর্ঘ বক্তব্য তুলে ধরেছেন বায়রা মহাসচিব। শুধু তাই নয়, মালয়েশিয়া সরকারকে কিছু পরামর্শও দিয়েছেন বায়রার মহাসচিব।

চিঠির কথা প্রবাস বার্তার কাছে স্বীকার করেছেন বায়রা মহাসচিব। তিনি বলেন, শ্রমবাজার এবং কর্মীদের সুবিধার জন্য এই চিঠি দেয়া হয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়িদের পক্ষে এই চিঠি দেয়া হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চিঠির বিষয়টি আগে কিছুই জানানো হয়নি। আজ ( বুধবার)  সকালে মন্ত্রী জেনেছেন। তিনি খোঁজ নিচ্ছেন।  মালয়েশিয়া সফরের আগে এমন চিঠির বিষয়টিতে মন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

দুই পাতার এই চিঠিতে নোমান লিখেছেন, আইটি কোম্পানী বেস্টিনেট ( মালয়েশিয়ান কোম্পানী ) মালয়েশিয়া শ্রমবাজারটি আবারো নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে। অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে এই প্রতিষ্ঠানটিকে ২০১৮ সালে বাতিল করে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন চৌধুরী নোমান। বায়রার সাধারণ সদস্যরা এই পদ্ধতি আর চায় না বলেও চিঠিতে লিখেন বায়রা মহাসচিব। তিনি আরো বলেন, এই পদ্ধতির মাধ্যমে মেডিকেল সেন্টার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত নয়।

চৌধুরী নোমান চিঠিতে মালয়েশিয়া সরকারকে বেশকিছু পরামর্শও দেন। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া সরকার নতুন পদ্ধতি চালুর বিষয়ে কাজ করছে। সেটা না হওয়া পর্যন্ত পুরাতন সেমি অটোমেটিক পদ্ধতি ( ২০০৭ সালের ) চালু করতে মালয়েশিয়া সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন বায়রার মহাসচিব। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি ডাটাবেজ করেছে। মধ্যবর্তি এই সময়ে অন্য একটি পদ্ধতি চালু করতে পারে বলে পরামর্শ দেন নোমান। যেটা দুই দেশের মধ্যে গ্রহণযোগ্য হতে হবে।

নোমান লিখেছেন, আগের মেডিকেল সেন্টারগুলো  প্রবাসী মন্ত্রণালয় দ্বারা অনুমোদিত নয়। আগের সিস্টেম চালু হলে এটা অভিবাসন ব্যয় বাড়বে বলে মনে করেন নোমান। বায়রা মেম্বারা আগের সিস্টেম চায় না বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়াও পরামর্শে চৌধুরী নোমান বলেন, বেস্টিনেট বাদে মালয়েশিয়ায় অন্য আইটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া যেতে পারে।

এদিকে, এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি চিঠি আরেকটি দেশের সরকারকে পাঠালেও এ বিষয়ে  কিছুই জানে না বায়রার সাধারণ সদস্যরা। এমনকি বায়রার ২৭ সদস্যের নির্বাহী কমিটির সভাতেও বিষয়টি আলোচনা করা হয়নি। যদিও চিঠিতে বলা হয়েছে- বায়রার সাধারণ সদস্যরা বর্তমান পদ্ধতি চায়না।

চিঠির আরো কিছু অসঙ্গি তুলে ধরেন বায়রার অন্য নেতারা। তারা বলেন, বেস্টিনেট কোম্পানীর সিস্টেম, ফরেন ওয়াকার্স সেন্ট্রালাইজড  ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম- এফ.ডব্লিউ.সি.এম.এস মালয়েশিয়ায় কর্মী নেয়ার পুরো পদ্ধতি পরিচালনার অনলাইন ব্যবস্থাপনার কাজ করছে। শুধু বাংলাদেশে নয়  ১৪টি সেন্ডিং কান্ট্রিতে বেস্টিনের সিস্টেম ব্যবহৃত হয়। এই পদ্ধতির একটি অংশ হল এসপিপিএ। যা রিক্রুটিং এজেন্সির বিষয়টি পরিচালনা করছিল। গেলো বছরের ১৪ আগস্টে শুধুমাত্র এসপিপিএ পদ্ধতিটি স্থগিত করে মালয়েশিয়া সরকার। যদিও  বায়রা মহাসচিব নোমান লিখেছেন, বেস্টিনেটকে স্থগিত করা হয়। বর্তমান পদ্ধতিতে মেডিকেল সেন্টার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদিত নয়- নোমান এমন দাবি করলেও বাস্তবতা ভিন্ন। মন্ত্রণালয় থেকে আগে অনুমোদন নেয়ার কোন পদ্ধতি ছিল না। এটা চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে চালু করা হয়েছে।

এবিষয়ে বায়রার যুগ্ম-মহাসচিব এডভোকেট সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ১২ অক্টোবর বায়রার নির্বাহী কমিটির মিটিংয়ে-এ বিষয়ে কোন আলোচনা হয়নি। কমিটিতে আলোচনা না করে, সিদ্ধান্ত না নিয়ে মহাসচিব বায়রার নামে এমন চিঠি দিতে পারেন না বলেও মনে করেন তিনি। এই চিঠির ফলে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের ভাবমুর্তি নষ্ট হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বায়রার এ নেতা। মন্ত্রণালয় ও সরকারকে পাশ কাটিয়ে এই চিঠি দেয়া মন্ত্রণালয়কে অবমাননা বলেও মনে করেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বায়রার আরেক নেতা বলেন, এর আগেও কমিটির মতামত ছাড়া বিভিন্ন দফতরে এমন অনেক চিঠি দিয়েছেন বলেও জানান ঐ নেতা। এই নেতা বলেন, ‘ফোমেমা’ নামে মালয়েশিয়ান আরেকটি প্রতিষ্ঠানকো সুবিধা করে দিতে এই তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

এবিষয়ে বায়রা মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, বায়রার সাধারণ সদস্যদের স্বার্থে এই চিঠি দেয়া হয়েছে। সকলের জন্য শ্রমবাজারটি চালু হোক এটার জন্য বায়রা কাজ করছে। সেই জন্য চিঠি দেয়া। এখন মালয়েশিয়া সরকার গ্রহন করবে কিনা সেটা তাদের বিষয়।

আরেকটি আইটি কোম্পানিকে সুবিধা দিতে এমন চিঠি কিনা? এই প্রশ্নে নোমান বলেন, ‘ আমরা তো কোম্পানীর নাম লিখি নাই বা কারো জন্য সুপারিশ কটি নাই।’

এর আগে মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ি দাতু হানিফকে ঢাকায় এনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর সাথে বৈঠক করানো হয়। সেসময় বৈঠকে ছিলেন বায়রার মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ( তখন প্রতিমন্ত্রী ) ইমরান আহমদ জানিয়েছিলেন, ‘মেডিকেল সেন্টার বিষয়ে ‘ফোমেমা’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কথা বলতে এসেছিলেন তারা।’ তখন মন্ত্রী বলেছিলেন, বাজার খোলার আগে মেডিকেল সেক্টর নিয়ে আলোচনা নয়।

এর মধ্যে ফোমেমা’র পক্ষে মালয়েশিয়া সরকারকে আরেকটি চিঠি দেয়ানো হয়। তখন গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তিকে দিয়ে চিঠিটি দেয়া হয়। যেই চিঠিটিও ভালো ভাবে নেয়নি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও খবর
© 2018 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখ, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি
Theme Customized BY LatestNews