Print Friendly, PDF & Email

 

বিশেষ প্রতিনিধি:  সিন্ডিকেটের কারণে বন্ধ হওয়া মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে নানা কৌশলে আবারো একই চেষ্টা চলছে। মেডিকেল সেন্টার দখলে নেয়ার চেষ্টা দিয়ে শুরু হয়েছিলো এই সিন্ডিকেট তৎপরতা। সেই চেষ্টা সফল হয়নি। এরপর মালয়েশিয়ার কন্সট্র্রাকশন ইন্ডাস্ট্রি ডেভলপমেন্ট বোর্ড- সিআইডিবি’র প্রতিনিধি এনে নতুন কৌশলে শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বায়রার নেতারা। তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেছেন কোন তৎপরাতাতেই সিন্ডিকেট হতে দেবেন না।

গেলো মঙ্গলবার ও বুধবার ( ২৭ ও ২৮ আগস্ট ) অন্তত পাঁচটি রিক্রুটিং এজেন্সির ট্রেনিং সেন্টার পরিদর্শন করেছেন মালয়েশিয়া থেকে আসা প্রতিনিধিরা। বুধবার সকালে খুব গোপনীয়তা রক্ষা করে আশুলিয়ায় ঘোষবাগ এলাকায় সাউথ পয়েন্ট ওভারসিজ লি. এর ট্রেনিং সেন্টার পরিদর্শন করানো হয়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা হাজির হন সেখানে। কিন্তু সিআইডিবি প্রতিনিধির সাথে দেখা বা কথা বলতে দেয়া হয়নি গণমাধ্যমকে। ঘন্টাখানের ভিতরে অবস্থান করার পর দুইটি বিলাশবহুল গাড়িতে বেড়িয়ে যান তারা।

সিআরডিবি প্রতিনিধিকে গাড়িতে তুলে দিচ্ছেন সাউথ পয়েন্ট লি. এর এমডি

সাউথ পয়েন্ট ওভারসিজ লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঞ্জুর কাদের সাংবাদিকদের বলেন, “মালয়েশিয়া চাচ্ছে কন্সট্রাকশন খাতে দক্ষ কর্মী নিতে। এরপর থেকে কন্সট্রাকশন খাতে কর্মী গেলে ট্রেনিং নিয়ে যেতে হবে। সিআইডিবি- মালয়েশিয়ায় কন্সট্রাকশন খাতে কর্মী নিয়োগের সনদপত্র দিয়ে থাকে।“

মন্ত্রণালয় কি জানে এই পদ্ধিতে কর্মী যাবে বা তারা যে এসেছেন- এমন প্রশ্নে কিছুটা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন মঞ্জুর কাদের। তিনি বলেন, “কার মাধ্যমে এসেছে, কে জানা বা না জানে এমন বাঁকা প্রশ্ন করবেন না। আমি প্রতিষ্ঠিতি ব্যবসায়ী, বড় ব্যবসায়ী, আমার নিজস্ব সোর্সেই তারা এসেছেন।সরকার এখানে কী করবে?“

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। মালয়েশিয়ায় এই দলটি শুধু সাউথ পয়েন্ট ওভারসিজই দেখতে আসেননি। আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও দেখেছেন।

এরমধ্যে আশুলিয়ায় ঘোষবাগ এলাকয় ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেডের ট্রেনিং সেন্টার পরিদর্শন করেছে। আশুলিয়া-আব্দুল্লাপুর সড়কের পাশে ধৌর মন্দির এলকায় আর আর সি হিউম্যান রিসোর্স লিমিটেডে গিয়েছিলেন। এছাড়া পেঙ্গুইন ইন্টারন্যাশনাল লি. এর ডেলকো ট্রেনিং সেন্টার, ইস্ট ওয়েস্ট এবং দ্যা গাজিরপুর ইন্টারন্যাশনালের ট্রেনিং সেন্টার পরিদর্শন করেন তারা।

আর আর সি হিউম্যান রিসোর্স লিমিটেডের এক প্রতিনিধি মেহেদি হাসান জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান দেখে পছন্দ করেছে মালয়েশিয়া থেকে আসা প্রতিনিধিরা। তিনি বলেন, এখন থেকে মালয়েশিয়ায় কন্সট্রাকশনে কর্মী গেলে ট্রেনিং এর সার্টিফিকেট নিয়ে যেতে হবে।

জনশক্তি প্রেরণকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস-বায়রা’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মনসুর আহমেদ কালাম বলেন, মেডিকেল সেন্টার দখলে নিতে বেশ কিছুদিন নানা উপায়ে চেষ্টা তদরির চলেছে। সেটার পর এখন ট্রেনিং সেন্টারের নতুন ইস্যু সামনে নিয়ে এসেছেন গ্রুপটি। এর মাধ্যমে মালয়েশিয়া শ্রমবাজারটি দখলের চেষ্টা করছে তারা।

বায়রার এ নেতা বলেন, “২০ বছরের বেশি সময় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাচ্ছি, এতো দিন তো সিআইডিবি লাইন্স বা সনদ লাগেনি। এখন নতুন করে এটিকে সামনা আনা হচ্ছে। এক কারণ, একটি গ্রুপ তাদেরকে (সিআইডিবি প্রতিনিধি) একটা পদ্ধতি বানাতে চাচ্ছে। তারা বলবে কর্মী যেতে তাদের নির্ধারিত এই কয়েকটি ট্রেনিং সেন্টারের সনদপত্র লাগবে। কোন ট্রেনিং না করিয়েই, দেখা যাবে সনদের জন্য অতিরিক্ত ১০ টাকা করে দিতে হচ্ছে কর্মীদের। এমন হলে অভিবাসন ব্যয় বাড়বে এবং ব্যবসাও গুটি কয়েক মানুষের কাছে চলে যাবে। এর আগেও একটি শ্রমবাজারে এমন কাজ করা হয়েছিল।“

সিআইডিবি’র সনদ নিয়েই কি মালয়েশিয়ায় কর্মী যেতে হবে? আর এই প্রতিনিধি এনে বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টার পরিদর্শন করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে কী জানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়? মন্ত্রী ইমরান আহমদ জানালেন, “ এ বিষয়ে কিছুই জানি না আমি। কিছুই জানানো হয়নি। যে কোন পদ্ধতিই করুক না কেনো, সিন্ডিকেট হতে দেবো না। সিন্ডিকেটের খারাপ দিকটা আমরা জানি। কর্মী মারার সিন্ডিকেট আর হবে না।“

 

 

 

 

bdnewspaper24