1. monir212@gmail.com : admin :
  2. user@probashbarta.com : helal Khan Probashbarta : Helal Khan
  3. merajhgazi@gmail.com : News Desk : Meraj Hossen Gazi
  4. desk@probashbarta.com : News Desk : News Desk
শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ০৭:৩৩ অপরাহ্ন

এশিয়ায় অভিবাসী শ্রম সমস্যা: প্যাসিফিক সংস্থাগুলি এগিয়ে আসার আহবান

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত : সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯
Print Friendly, PDF & Email

 

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া: এশিয়ায় অভিবাসী শ্রম সমস্যা সমাধানে বিনিয়োগকারী এবং অ্যাডভোকেসি গোষ্ঠীগুলি স্বচ্ছতার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। বিনিয়োগকারিরা বলছেন, এশিয়া প্যাসিফিক অর্থনীতিতে অভিবাসী শ্রমের ব্যাপক ব্যবহার বৃদ্ধির কারনে বিশ্বের কোম্পানিগুলোতে, বিশেষ করে সাপ্লাই চেইন নির্ভর ব্যাবসা প্রতিষ্ঠাগুলোতে ক্রমবর্ধমান ব্যবসায়িক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
পশ্চিমা দেশগুলিতে কর্পোরেট প্রশাসনের উচ্চস্তরে এর চাহিদা ক্রমবর্ধমান,তাই এই জাতীয় ব্যবসাগুলি জরুরী ভিত্তিতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার নীতির প্রচলন এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
পশ্চিমা বাজারগুলিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রবেশাধিকার সুরক্ষিত করতে এখনই উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে, তা না হলে এক জন্য ব্যাপক মুল্য দিতে হতে পারে।

১৪ আগষ্ট নিক্কি এশিয়ান রিভিউ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান এশিয়া প্যাসিফিক অর্থনীতিতে মানবাধিকারের ঝুঁকির মাত্রা সব থেকে বেশি, বিভিন্ন আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের কারখানাগুলিতে বিশেষকরে যেসব কারখানা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ, নেপাল, মায়ানমার এবং ইন্দোনেশিয়ায় তাদের কার্যক্রম পরিচালোনা করছে, তাদের বিরুদ্ধে অনেক মানবাধিকার কর্মী বাধ্যতামূলক শ্রম ও বকেয়া বেতন পরিশোধ না করার অভিযুক্ত তুলে আসছেন।

২০১৮ সালে একটি আলোড়ন সৃষ্টি করা অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক মানের অস্ত্রোপচারের গ্লোভ সরবরাহকারী কোম্পানি টপ গ্লোভের বিপরীতে। থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন দাবি করেছে যে মালয়েশিয়ার টপ গ্লোভের পরিচালিত কারখানায় জোরপূর্বক শ্রম, অবৈধ ওভারটাইম, বকেয়া বেতব পরিশোধ না করা এবং নিন্মমানের পরিবেশের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ২০১৮ এর অভিযোগগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তদন্তের দিকে পরিচালিত করেছিল, যেখানে জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা একটি বড় ক্রেতা, এবং মালয়েশিয়ার সরকার থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শীর্ষ গ্লোভ জোরপূর্বক শ্রমের দাবি অস্বীকার করেছেন, তবে স্বীকার করেছেন যে ওভারটাইম জাতীয় আইনগুলি অতিক্রম করেছে এবং বলেছে যে মালয়েশিয়ার আইন মেনে চলার জন্য এটি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এ দিকে কর্মীদের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা কাজ করাতে গিয়ে টপ গ্লোব কর্পোরেশন বারহাদ কোনও আইন ভাঙেনি বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানব সম্পদমন্ত্রী এম. কুলাসেগারান। তিনি এবং তার কর্মকর্তারা ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত রাবার গ্লোব কোম্পানিটির কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানান তিনি। মালয়েশিয়ার সংবাদপত্র দ্য স্টার অনলাইন জানিয়েছে গত বছরের ১০ নভেম্বর ক্লাং শহরে টপ গ্লোবের কয়েকটি কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। টপ গ্লোবের প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. লিম উয়ি চাই এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য চার্লস সান্তিয়াগো তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। টপ গ্লোবের কারখানা সম্পর্কে কুলাসেগারানকে জানাচ্ছেন ড. লিম উয়ি চাই।

গত বছরের ৯ ডিসেম্বর  ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে টপ গ্লোবে কর্মরত অভিবাসী শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করা, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা কাজ করানো এবং ঋণের ফাঁদে আটকানোর অভিযোগ তোলা হয়। কারখানায় কর্মরত নেপালের আটজন এবং বাংলাদেশের আটজন অভিবাসী শ্রমিক গার্ডিয়ানের কাছে টপ গ্লোবের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করে। তারা দাবি করে সপ্তাহে সাত দিন কমপক্ষে ১২ ঘণ্টা করে কাজ করানোর পাশাপাশি মাসে একদিন ছুটি দেওয়া হয়। খবরে বলা হয়, টপ গ্লোবসহ আরেক গ্লোব উৎপাদক ডব্লিউআরপি তাদের পণ্য ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগকে সরবরাহ করে।
অভিযোগের পর কোম্পানিটির কারখানা পরিদর্শন করেন মালয়েশিয়ার মানব সম্পদমন্ত্রী। শীর্ষ এই রাবার প্রস্তুতকারী কোম্পানিটি ভুল কিছু করেনি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কর্মীদের জন্য তাদের নিজস্ব কর্মপদ্ধতি (ম্যাকানিজম) রয়েছে এবং আমার মন্ত্রণালয়ের জানা মতে তারা আইনি কাঠামোর মধ্যে কাজ করে’। চাকরি (অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার সীমাবদ্ধতা) নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৮০ ঊদ্ধৃতি করে মন্ত্রী বলেন, আইন অনুযায়ী প্রতি মাসে ১০৪ ঘণ্টার অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা কাজ না করতে কর্মীরা বাধ্য। ‘এটা চাকুরিদাতার দিকেই যায়’, মন্তব্য করে তিনি বলেন চাকুরিদাতারাও নিয়ম মানতে বাধ্য।
কুলেসাগারান এবং তার কর্মকর্তারা টপ গ্লোবের ৩৫টি কারখানার মধ্যে ২২টি কারখানার কর্মপরিবেশ পরীক্ষা করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কিভাবে এই অভিযোগ উঠলো তা নিয়ে আমি নিশ্চিত না। তিনি বলেন, ‘ফেইক নিউজ ছড়ানো’ উচিত হবে না। প্রতিষ্ঠাতা লিম বলেন, মালয়েশিয়ার শীর্ষ রাবার গ্লোব রফতানিকারক কোম্পানি হিসেবে তারা ব্যবসায়িক নৈতিকতা, শ্রদ্ধা, সততা এবং স্বচ্ছতা অনুসরণ করে থাকে।

যদিও আট বছর পূর্বে জাতিসংঘ কীভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও প্রতিকার করতে যায় সে সম্পর্কিত গাইডলাইন প্রস্তুত করে আসছে বিভিন্ন দেশে কোম্পানি গুলির জন্য , তবুও এই সকল দেশ গুলিতে মানবাধিকার জনীত সমস্যা গুলি এখনও ব্যর্থ হিসাবেই পরিগনিত হয়ে আসছে। এমনকি  দক্ষিণ-পূর্ব এশীয়  অঙ্গসংগঠন আসিয়ান ভুক্ত ১০টি দেশেও অভিবাসী শ্রমিকের অধিকারের প্রতি বেশিরভাগ সংস্থাগুলি সাড়া দিতে ধীর হয়ে পড়েছে। গত মে মাসে প্রকাশিত আসিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন এবং ইন্দোনেশিয়ায়  অবস্থিত তালিকাভুক্ত শীর্ষস্থানীয় ২৫০টির মধ্যে মাত্র ১৮% সংস্থা মানবাধিকার নীতি প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে যে জরিপ করা সংস্থাগুলির মধ্যে মাত্র এক চতুর্থাংশ সংস্থা মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ বা রিপোর্টিং সম্পর্কিত তথ্য সরবরাহ করে। সামগ্রিকভাবে কোম্পানিগুল জাতিসংঘ নির্দেশিকাকে উপেক্ষা করে মাত্র ২২% এরও কম মানবাধিকারজনিত তথ্য প্রকাশ করে।অভিবাসী শ্রম বিশেষজ্ঞরা এই ফলাফলগুলি দেখে অবাক হবেন না, যা স্পষ্ট প্রমাণ দেয় যে এই অঞ্চলে অনেক কোম্পানিগুলি বৈশ্বিক কোম্পনিগুলির থেকে মানবাধিকার বিষয়ে অনেকাংশে পিছিয়ে রয়েছে। কয়েকটি এনজিওর তৎপরতার কারনে হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, থাই ইউনিয়ন বকেয়া বেতনের অভিযোগের ঘটনা রোধে এবং জোরপূর্বক শ্রমের ঘটনা নির্মূল করতে মায়ানমার যেসকল অভিবাসী শ্রমিক থাইল্যান্ডের মৎস্য খাতে সামুদ্রিক প্রসেসিং করা চেইনের কারখানায় কিছু সময়উপযোগী নিয়োগের নীতি গ্রহণ করেছিল এবং তদারকি বাড়িয়ে তোলে।পশ্চিমা দেশগুলিতে এই সকল বিষয়ে যে কঠোরতার অবলম্বন করা হয় এই অঞ্চলে বেশিরভাগ কম্পানিগুলিতে তেমন মাত্রার চাপ অনুভব করতে নি। এই অঞ্চলে মানবাধিকার সংস্থা গুলির স্বাধীন ভাবে কাজ করতে না দেয়া এবং অনেক প্রয়োগকারী সংস্থার দুর্বলতাও এর পিছনে দায়ি হিসাবে গন্য করা হয়। তবে বিনিন্ন তদন্তকারী এবং এডভোকেসি গোষ্ঠী আন্তর্জাতিক মানবাধিকার এবং পাচার বিরোধী মানদন্ডের সাথে সম্মতি রেখে উচ্চ প্রোফাইল আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের কম্পানিগুলতে বিশেষ করে কৃষি এবং ইলেকট্রনিক্স পন্যের বিভিন্ন কোম্পানি গুলতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার এবং মানবপাচার বিষয়ে এক সঙ্গে কাজ করার ফলে অবস্থার বেশ কিছুটা পরিবর্তন লখ্য করা যাচ্ছে । গবেষণায় দেখা যায় যে অভিবাসী শ্রমিকদের নির্যাতনের বেশিরভাগ ঘটনাই কাজ শুরুর প্রথম দিনের পূর্বেই বেশি ঘটে থাকে। এজেন্টদের দ্বারা নিয়োগক্রিত হওয়ার ফলে যে বিশাল অঙ্কের অর্থ নিয়োগ ফি হিসাবে খরচ করে  শ্রমিকরা এমন ঋণের ভারে নিমজ্জিত হয়ে আসে যা তারা আজীবনও শোধ করতে পারে না।এরপর আবার যখন তারা কর্মক্ষেত্রে যোগদান করে তখন আবার লড়াই করতে হয় আবাসন ও কর্মস্থলের খারাপ অবস্থা, উচ্চ ওভারটাইমের প্রয়োজনীয়তা এবং পাসপোর্ট জিম্মিকরে রাখার মত অবস্থার সাথে। কেউ কেউ এজেন্টদের দ্বারা নিযুক্ত হন এবং কারখানার থেকে কারখানায় ছুটাছুটি করে যেতে হয়, তাদের কাজের অবস্থার উপর তাদের আর কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না।

এই জটিল পরিস্থিতির সমাধান হ’ল কোম্পানিগুলিকে নিজেদের সুনাম অক্ষুন্য রাখতে তাদের  নিজেদের নিয়ন্ত্রনেই এও সকল কিছুর নিস্পত্তি করাতে হবে এবং সেই মাফিক পরিকল্পনা ও বাজেট গ্রহন করতে পারে। থাই ইউনিয়ন তাদের কর্মী নিয়োগের নিয়মগুলি উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করেছে, বিভিন্ন ফি যা আগে শ্রমিকদের কাঁধে দেওয়া হয়েছিল তা অপসারণ করেছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে  সবার জন্য উন্মুক্ত্য করে দিয়েছে।

বেশিরভাগ কম্পানিরি কিছু না কিছু ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া থাকে, তবে কেবলমাত্র কিছু সংখ্যক  কোম্পানি সামাজিক এবং মানবাধিকার ঝুঁকিকে পর্যাপ্তরূপে সনাক্ত করতে পারে। তবুও অভিবাসী শ্রম নিযুক্ত করা বড় ঝুঁকি এবং কোম্পানি গুলি এটি কীভাবে কার্যকর করতে পারে তা নিয়ে ভাবতে হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও খবর
© 2018 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখ, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি
Theme Customized BY LatestNews