1. monir212@gmail.com : admin :
  2. user@probashbarta.com : helal Khan Probashbarta : Helal Khan
  3. merajhgazi@gmail.com : News Desk : Meraj Hossen Gazi
  4. desk@probashbarta.com : News Desk : News Desk
সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৯:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: অপপ্রচারে সক্রিয় চক্র, ব্যবহার করছে মন্ত্রীর নামও

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত : সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০১৯
Print Friendly, PDF & Email

 

আহমাদুল কবির,মালয়েশিয়া থেকে : মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে চলছে নানা অপপ্রচার। আর এ অপপ্রচারে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এই অপকর্মে ব্যবহার করা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, উইচ্যাটসহ বিভিন্ন মাধ্যম। বাংলাদেশের অন্যতম বড় এই শ্রমবাজার আগামি মাসে চালু হওয়ার কথা থাকলেও, সেটা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি এখনও। তবে বাজারটি নিয়ন্ত্রণে নিতে দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ফেইসবুক পেজ খুলে মালয়েশিয়া যেতে ইচ্ছুকদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী এখন মালয়েশিয়ায় শ্রমচুক্তি হয়ে গেছে। শুরু হয়ে গেছে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো, ইত্যাদি..ইত্যাদি!!

 

প্রতারণা যেন পিছু ছাড়ছে না মালয়েশিয়া যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের। দালালদের কারণে একদিকে ক্ষুন্ন হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের ভাবমূর্তি অন্যদিকে সহায়-সম্বল বিক্রি করে পথে বসছে হাজার হাজার যুবক। ফেসবুকের মাধ্যমে বিদেশে যেতে ইচ্ছুকদের ব্যাপারে চটকদার বিজ্ঞাপন ও সর্বনিম্ন মূল্যে বিদেশে যাওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্ট্যাটাস আপডেট করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, আপনাদের মোবাইল নম্বরটা দেন, আমরা যোগাযোগ করে নেব। ওই নম্বরে যোগাযোগ করে বলা হচ্ছে, মেডিকেল করে আসেন ভিসা পাওয়া যাবে। মেডিকেল করার পর নেয়া হচ্ছে ৫০ হাজার টাকা। এদিকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে অপপ্রচারে বিপাকে দু’দেশের সংশ্লিষ্টরা। এ অপপ্রচারে টাকা-পয়সা লেনদেন না করতে দু’দেশের সংশ্লিষ্টরা আহ্বান জানিয়েছেন।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলার জহিরু ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে কাজ, বেতন, আবাসিক, চিকিৎসা ইত্যাদি নিশ্চিতের কাজ করছে হাইকমিশন। অপতৎপরতার কারণে ভালো উদ্যোগগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বন্ধুরাষ্ট্রের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বিরুপতা তৈরি হচ্ছে। তাদের কারণে বৈধরাও নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। দূতাবাস সব অপতৎপরতা রুখে দিতে কাজ করছে।

ফেসবুকে অপপ্রচার-সংক্রান্ত বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে’- বলেও জানান তিনি।
অভিযোগে এসেছে, অবশেষে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুলে গেল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। আবার কখনও রব উঠে অবৈধদের জন্য মালয়েশিয়া সরকার বৈধতা দিচ্ছে, অমুক সপ্তাহ থেকে কাজ শুরু।
কেউ কেউ মালয়েশিয়া গমনেচ্ছুদের মেডিকেল করিয়ে দিচ্ছে যাত্রার সম্ভাব্য তারিখও। মাঝে মাঝে এত কিছুর আয়োজন হয়ে গেলেও কিন্তু এসব বিষয়ে জানে না মালয়েশিয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর ও মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস। জানবেই বা কি করে! কারণ এসব তো কিছু দুষ্টু চক্র ও তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন কিছু নাম সর্বস্ব অনলাইন নিউজ পোর্টালের কারসাজী। প্রতারিত হচ্ছে যেমন কিছু লোক তেমনি বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছে মালয়েশিয়া অবস্থানরত প্রবাসীরাও। এসব দুষ্টু চক্রের মনগড়া সংবাদে বিভ্রান্ত না হতে প্রবাসীসহ সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশন।

মালয়েশিয়ায় সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষমান বিষয় নিয়ে  অতিরঞ্জিত ও বাড়াবাড়ি প্রচারণার কারণে অতিষ্ঠ মালয়েশিয়া সরকার ও জনগণ। এ ধরনের প্রচারণার কারণে একদিকে যেমন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ক্ষতি করা হচ্ছে অন্যদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই অপপ্রচারের সর্বশেষ শিকার হলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নিজেই। তিনি যোখণ স্থানীয় কর্মসূচি নিয়ে সিলেটে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তখন ” মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশী ” ” বিটিভি ভি এস মালয়েশিয়া ” এবং কতিপয় ব্যাক্তি মন্ত্রীর গোপনে  মালয়েশিয়া সফর এবং উভঁয় দেশের মধ্যে চুক্তি হয়েছে মর্মে  সংবাদ প্রচার করে। সিলেটে অবস্থানরত প্রবাসীকল্যান মন্ত্রী এমরান আহমদের সঙ্গে ২৯ জুলাই সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টায় মোবাইল ফোনে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মন্ত্রী এ প্রতিবেদককে বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার নিয়ে যে অপপ্রচার করছে তাদের শনাক্তকরে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, উভয় দেশের সরকার একসঙ্গে কাজ করছে। নতুন একটি পদ্ধতি চূড়ান্ত করা এখন সময়ের ব্যাপার। পুরনো পদ্ধতি ঠিকঠাক কাজ করছিল না বলেই নতুন পদ্ধতি করা হচ্ছে। আমরা সবাইকে নিয়েই এটা করছি। দ্রুত একটা সমাধানে আমরা পৌঁছে যেতে পারব।

ইমরান আহমদ আশ্বস্ত করে বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের যে পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া এবার চালু হবে, তাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি যেন বাছাই হয়, লোক পাঠানোর খরচ যেন সাশ্রয়ী হয়, কোথাও কোনো আইন যেন লঙ্ঘন না হয়- তা নিশ্চিত করা হবে।
খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের কার্যক্রম ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হওয়ার প্রায় ৬ মাস অতিবাহিত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশসহ সোর্স কান্ট্রিভুক্ত ১৬ দেশ থেকেই বিদেশী কর্মী আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে আবার কোন প্রক্রিয়ায় বিদেশী কর্মী নেয়া শুরু হবে সে জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের নির্দেশে মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (কেডিএন) মাস্টার প্ল্যান তৈরির কাজ করছে। তাদের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলেই স্বল্প অভিবাসন ব্যয়ে দেশটি শ্রমিক নেয়ার কার্যক্রম শুরু করবে বলে সে দেশে থাকা রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের একাধিক বৈঠকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।
কিন্তু তার আগেই বাংলাদেশের কিছু মিডিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ও মালয়েশিয়া সরকার সম্পর্কে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে বলে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকেই অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ নিয়ে তারা প্রচন্ড ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত বলে জানা গেছে।

 

এসব অভিযোগ নিয়ে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রতিনিয়ত নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাইকমিশনার মহ শহীদুল ইসলাম বলেন,  বাংলাদেশ থেকে  কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে  কর্মীর অভিবাসন খরচ, বেতন , থাকা, চিকিৎসা, দেশে ফিরে যাওয়া এবং দীর্ঘ স্থায়ী  কল্যাণের বিষয়ে কাজ করছে মালয়েশিয়া সরকার। তাদের নিকট শ্রমিকের  প্রতারণা ও অবহেলার বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে বিবেচনা নিয়েছে। এসব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাধা কি এবং করণীয় কি তা মালয়েশিয়া সরকার দেখছে। আমাদের পক্ষ থেকে সাজেশন দেওয়া হয়েছে । প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর সফরকালে এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আশাকরি দ্রুতই কর্মী নিয়োগ শুরু হবে। ”

এক প্রশ্নের উত্তরে হাই কমিশনার বলেন, ‘এত কিছুর পরও এখনো যারা আকাশপথে অথবা অবৈধভাবে থাকার জন্য মালয়েশিয়ায় আসার চিন্তা করছে, তারা যেনো ভুলেও এভাবে না আসে। এখন অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় আসা মানেই বিপজ্জনক। আর অবৈধভাবে এলে মালয়েশিয়া সরকার কোনোভাবেই তাদের কাজ করার সুযোগ দেবে না। বরং দেশের মান কমবে।’

তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা তাদের সম্মানের জায়গা করে নিয়েছে। সে সম্মানের জায়গাটুকু ধরে রাখতে হলে যে দেশে কর্মরত রয়েছেন সে দেশের আইনকে সম্মান দেখাতে হবে এবং সকল ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান হাইকমিশনার মুহ. শহীদুল ইসলাম।’

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও খবর
© 2018 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখ, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি
Theme Customized BY LatestNews