Print Friendly, PDF & Email

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া থেকে: মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পদ্ধতি চূড়ান্ত করতে আগষ্ট মাসেই সমাধানের  আশা করছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যত দ্রুত বিষয়টির মীমাংসা করতে উভয় দেশের সরকার একসঙ্গে কাজ করছে ।

১১ জুলাই বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র উদ্যোগে এবং কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস, মালয়েশিয়া সাউথ সাউথ এ্যাসোসিয়েশন ও মালয়েশিয়ার একস্টার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কোর্পোরেশন এর সহযোগিতায় ৪র্থ বারের মত মালয়েশিয়ায় আয়োজন করে “শোকেস বাংলাদেশ ২০১৯-গো গ্লোবাল।” অনুষ্ঠানে ইমরান আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছি। নতুন একটি পদ্ধতি চূড়ান্ত করা এখন সময়ের ব্যাপার।”

সাংবাদিকের সাথে প্রতিমন্ত্রী

ইমরান আহমদ বলেন, “পুরনো পদ্ধতি ঠিকঠাক কাজ করছিল না বলেই নতুন পদ্ধতি করা হচ্ছে। আমরা সবাইকে নিয়েই এটা করছি। আগামী মাসে (আগস্টে) একটা সমাধানে আমরা পৌঁছে যেতে পারব।”
তিনি আশ্বস্ত করেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের যে পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া এবার চালু হবে, তাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি যেন বাছাই হয়, লোক পাঠানোর খরচ যেন সাশ্রয়ী হয়, কোথাও কোনো আইন যেন লঙ্ঘন করা না হয়- তা নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বাজার। সরকারি হিসাবে পাঁচ লাখের বেশি নিবন্ধিত বাংলাদেশি সেখানে বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া সরকার তাদের পাঁচটি খাতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বয়ে ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে রাজি হওয়ার পর ২০১৬ সালে ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পাঁচ বছর মেয়াদী এই চুক্তির আওতায় লোক পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয় দশটি জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সিকে।

কিন্তু প্রবাসী এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগসাজশে একটি চক্র ওই দশ এজেন্সিকে নিয়ে সিন্ডিকেট করে শ্রমিকদের কাছ থেকে দুই বছরে অন্তত ২০০ কোটি রিঙ্গিত হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠার পর গতবছর ওই ব্যবস্থা স্থগিত করে দেশটির সরকার।

এরপর গত বছরের অগাস্টে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ জানান, বিদেশ থেকে জনশক্তি নিতে নতুন একটি পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে তার সরকার, যে নিয়ম সব দেশের জন্যই প্রযোজ্য হবে এবং সব লাইসেন্সধারী এজেন্টই শ্রমিক নেওয়ার সুযোগ পাবে।

“কর্মীদের যাওয়ার খরচ যাতে না বাড়ে আমাদের সরকার তা নিশ্চিত করবে। মালয়েশিয়ার সরকার যেসব কারণে আগের ব্যবস্থা বাতিল করেছে, তার মধ্যে এটাও একটা কারণ। পুরনো পদ্ধতি স্থগিত করার সময় মালয়েশিয়ার ভিবিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ১০ এজেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতে মাথাপিছু সর্বোচ্চ দুই হাজার রিংগিত খরচ হওয়ার কথা। সেখানে এজেন্টরা বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাছ থেকে তিনগুণ আদায় করছিল। জনশক্তি আমদানির নতুন একটি পদ্ধতি ঠিক করতে গতবছর একজন বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন একটি কমিটি করে দিয়েছিল মালয়েশিয়া সরকার।

মধ্যস্বত্বভোগীর ফাঁদ এড়াতে সেই কমিটির খসড়া প্রতিবেদনে একটি অনলাইন জব পোর্টাল খোলার সুপারিশ করা হয়, যেখানে নিয়োগকর্তারা তাদের চাহিদা জানাতে পারবেন এবং কর্মীরা আবেদন করতে পারবেন। পোর্টালের নাম হবে ‘মালয়েশিয়ান রিক্রুটিং এজেন্সি’। আবেদন পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চাকরিপ্রার্থীদের জবাব দেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

all.bdnewspaper24.com