Print Friendly, PDF & Email

 

সানজিদা ইসলাম দুবাই থেকে:  দুবাইয়ের একটি কারখানার কর্মীরা কয়েক মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় নিয়োগকারীর বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেনঅর্থখাদ্যহীন অবস্থায় ৩০০ কর্মী আটকা পড়ে আছেন।

তাঁদের মধ্যে অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় অবৈধ হয়ে পড়েছেন এবং কোম্পানি তা নবায়নের কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেনা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রথম সচিব (শ্রম) ফকির মুহাম্মদ মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আটকা পড়া শ্রমিকদের মধ্যে ১৬৮ জন বাংলাদেশিআমরা তাঁদের সাথে যোগাযোগ রাখছি।’

মনোয়ার হোসেন জানান, এসব শ্রমিক একটি‘ খ্যাতনামা ভারতীয় নির্মাণ কোম্পানিতেনিয়োজিত ছিলেনকোম্পানিটি সম্প্রতি দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় কিছু শ্রমিক ছয় বা আরো বেশি মাস ধরে বেতন পাননিবেশির ভাগ শ্রমিকের বেতন ৭০০ থেকে দেড় হাজার দিরহামের (প্রায় ১৬ থেকে সাড়ে ৩৪ হাজারটাকা) মধ্যে তাঁরা শ্রমিকদের আইনি সহায়তাখাদ্য দিয়েছেনকিন্তু স্থানীয় আইনেসমস্যার সমাধান কিছুটা জটিল হবেতিনি একটি বিকল্প ব্যবস্থারও কথা বলেনযদি তারা দাবি ছেড়ে দেন তাহলে জামানতের অর্থ নিয়ে ফিরে যেতে পারবেন।’

কিন্তু বাংলাদেশি শ্রমিকরা তাকে জানিয়েছেন যে তারা আদালতে যাবেন। এ প্রক্রিয়া প্রায় সাত মাস সময় নিতে পারেউল্লেখ করে প্রথম সচিব বলেন, ‘মামলা করতে আগ্রহী যে কাউকে আমরা সহযোগিতা দেব এবং যারা ফিরে যেতে চান তাদের সাহায্য করব।’

একজন শ্রমিক খালিজ টাইমসকে জানান, তাঁদের কাছে কোনো দিরহাম খাবার নাই। অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ এবং পাসপোর্ট এখনও নিয়োগকারীর কাছে কাগজ না থাকায় অন্য জায়গায় কাজ করতে পারছেন না । দাতব্য প্রতিষ্ঠান দার আল বের সোসাইটি এক ভারতীয় প্রবাসীর কাছ থেকে পরিস্থিতি জানতে পেরে বুধবার শ্রমিকদের আবাসস্থলে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ এবং একটি চিকিৎসা শিবির স্থাপন করেছে

মনোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘বাংলাদেশি শ্রমিকরাযে সমস্যার মুখোমুখি তা বিরল নয়।‘ নিয়মিতভাবে অনেক কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায় এবং আমাদের শ্রমিকদের সাহায্যে যা করা যায় তা করছি।তবে পরিস্থিতি শ্রমিকদের জন্য নির্মম হয়ে উঠেছে

এক কর্মী বলেন, ‘খাবারের জন্য পথচারীপাশের দোকানের দয়ার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছেখাবার ভিক্ষা চাওয়া খুব লজ্জারআমরা সম্মানের সাথে কাজ করতে এখানে এসেছিলাম….ভিক্ষা করতে বা অবৈধ বাসিন্দা হতেনয়।’

all.bdnewspaper24.com