Print Friendly, PDF & Email

 

বিশেষ প্রতিনিধি : এবছরও হজের টিকিট সিন্ডিকেটের কাছে তুলে দিয়েছে সৌদি এয়ারলাইন্স । ৫ থেকে ৬ টি  প্রতিষ্ঠানকে আগেভাগেই পুরো টিকিট দিয়েছে এয়ারলাইন্সটি। এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বারবার বলার পরও কাজে আসেনি।

বাংলাদেশ থেকে এ বছর ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরব যাবেন। এই যাত্রী বহন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং সৌদি এয়ারলাইন্স ।

এবছর বৈধ এজেন্সির মধ্যে সরাসরি হজ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে ৫৫০ টি এজেন্সি।

নীতিমান অনুযায়ি হজ কার্যক্রমে অংশ নেয়া সকল এজেন্সিকে উড়োজাহাজের টিকিট দিতে হবে এবং একটি এজেন্সিকে ৩০০ টিকিটের বেশি দেয়া যাবে না।

এই নীতিমালা উপেক্ষা করে সৌদি এয়ারলাইন্স ৫/৬ টি এজেন্সিকে হজের সব টিকিট দিয়েছে।

জানাগেছে, সানশাইন এক্সপ্রেস ১৫ হাজার টিকিট, আল গাজী ট্রাভেলস ১২ হাজার, কাজী এয়ার ইন্টারন্যাশনাল ১০ হাজার, হাসেম এয়ারকে ৬ হাজার টিকিট দিয়েছে সৌদি এয়ারলাইন্স।

সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টিকিট দেয়ায় সাধারণ এজেন্সিকে টিকিট প্রতি বেশি দিতে হচ্ছে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এতে করে হজযাত্রীদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

হজ এজেন্সি এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-হাব সভাপতি এম শাহাদাত হোসেন তসলিম বলেন, বাংলাদেশ বিমান সকল এজেন্সিকে সমানভাবে বা প্রয়োজন অনুসারে টিকিট দিলেও সৌদি এয়ারলাইন্স তা করেনি। তারা নির্দিষ্ট কয়েকটি এজেন্সিকে সব টিকিট দিয়ে রেখেছে আগেই। এখন টিকিটের প্রয়োজন হলে ঐ সিন্ডিকেট  কাছ থেকে কিনতে হচ্ছে সাধারণ এজেন্সিগুলোকে। ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে টিকিট প্রতি। এই বাড়তি টাকা হজযাত্রীদেরকেই বহন করতে হচ্ছে বলেও জানান হাব সভাপতি।

হজ মেডিকেল টিমের প্রশিক্ষণ

বুধবার আশকোনা হজক্যাম্পে মেডিকেল টিমের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সাংবাদিকরা এবিষয়ে প্রশ্ন করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে। প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি এয়ারলাইন্সকে কয়েক দফা বলা হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় থেকেও বলা হয়েছে। কঠোরভাবেও বলা হয় কিন্তু সৌদি এয়ারলাইন্স কোন কথা পাত্তা দেয়নি। প্রতিমন্ত্রী জানান, উল্টো  হুমকি দিয়েছে, ‘ প্রয়োজনে হজযাত্রী বহন করবে না তারা, তবুও নীতিমালা অনু্যায়ি টিকিট বিক্রি করবে না।’

এবিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি সৌদি এয়ারলাইন্সের কোন কর্মকর্তাকে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবছর হজ মেডিকেল টিমে অপেশাদার কাউকে নেয়া হবে না। তালিকাটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আসে বলেও জানান তিনি। তাই এবার স্বাস্থমন্ত্রীকেই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি করা হয়েছিল। যদিও মন্ত্রী আসেননি অনুষ্ঠানে। প্রতিনিধি হিসেবে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব  জি এম সালের উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ধর্ম সচিব আনিসুর রহমান, হজ অফিসের পরিচালক সাইফুল ইসলামসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

bdnewspaper24