1. monir212@gmail.com : admin :
  2. user@probashbarta.com : helal Khan Probashbarta : Helal Khan
  3. merajhgazi@gmail.com : News Desk : Meraj Hossen Gazi
  4. desk@probashbarta.com : News Desk : News Desk
শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন

মালয়েশিয়ায় জাল পাসপোর্ট-ভিসা তৈরি, বেরিয়ে আসছে নানা তথ্য

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০১৯
Print Friendly, PDF & Email

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া:
মালয়েশিয়ায় জাল পাসপোর্ট ও ভিসা তৈরির মূলহোতা কুমিল্লার মিজান গ্রেপ্তারে বেরিয়ে আসছে নানা অজানা কাহিনী। গত ১৬ মে ইমিগ্রেশনের ফাঁদে আটকা পড়ে মাষ্টারমাইন্ড মিজান। গ্রেপ্তার হয় জাল পাসপোর্ট ও ভিসা ইস্টিকারসহ তার সাঙ্গ পাংগরা। গ্রেফতার হওয়ার পরপরই অর্থ দিয়ে নিজেকে মুক্ত করতে চাইলেও সে কাজ আর হয়ে ওঠেনি।

পাসপোর্ট ও ভিসা তৈরির সরঞ্জাম

প্রবাসে অপরাধ জগতের মাষ্টার মাইন্ড মিজানের হাতে হাতকড়া পরিয়ে ইমিগ্রেশন বিভাগ বুঝিয়ে দিয়েছে অন্যায়ের কাছে মাথা নত নয়। অপরাধী যেই হোক না কেন তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করা।
স্বল্পশিক্ষিত মিজান বহু কষ্টে পরিবারের অভাব ঘোচাতে ১৫ বছর আগে মালয়েশিয়ায় । এসেছিল  শ্রমিক ভিসায়।  কর্মাবস্থায় মিজান মালয়েশিয়ার ভাষা রপ্ত করে জড়িয়ে পড়ে অন্ধকার জগতে। বাড়তি ইনকামের আশায় জাল পাসপোর্ট, ভিসা সহ গ্রেফতার হয়। সেই সময় দেশটির ইমিগ্রেশন  বিভাগ তাকে ব্ল্যাকলিস্ট করে দেশে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু স্থানীয় নাগরিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কারণে ব্ল্যাকলিস্ট কাটিয়ে স্ত্রীর মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করে মিজান।

অভিযুক্ত মিজান সরকার

আবারো অপরাধ জগতে প্রবেশ করে স্ত্রীর নামে কোম্পানির লাইসেন্স করে অবৈধ বাংলাদেশিদের ভিসা করে দেওয়ার নাম করে হাতিয়ে নেয় ৪০ লাখ টাকা। আর সেই টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তারই কোম্পানিতে কর্মরত আরেক বাংলাদেশিকে ফাঁসাতে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়, সোলাইমান নামক এক বাংলাদেশি টাকা নিয়ে লাপাত্তা। তার কোম্পানিতে ভিসা করতে দেওয়া বাংলাদেশিরা নিরুপায় হয়ে চোখ বুজে অপেক্ষা করছিল কখন আবার সোলাইমান মালয়েশিয়ায় ফিরে আসে। তারই ফাঁকে বেরিয়ে আসতে শুরু করে মাস্টার মাইন্ড মিজানের বহু অপকর্ম। আসলে সোলাইমান টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়নি। আবারো ঐ সব বাংলাদেশিদের কাছে টাকা নেওয়ার জন্য কৌশল অবলম্বন করে।

মালয়েশিয়ায় অবৈধ শ্রমিকদের জাল ভিসা, পাসপোর্ট তৈরি করে বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে সাপ্লাই করতো এই মাস্টারমাইন্ড মিজান। জনপ্রতি লক্ষাধিক টাকা নিয়ে বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক সাপ্লাইয়ে মিজানের জুড়ি ছিল না। বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ায় নিজের নামে- বেনামে কোটি কোটি টাকা ব্যাংক ব্যালেন্সের মাধ্যমে ধরাকে সরা জ্ঞান করে ফেলে মিজান।

প্রবাসীদের রক্তের বিনিময়ে সঞ্চিত অর্থ আত্মসাত করার কারনে অভিযোগের ভিওিতে গত ১৬ মে অভিবাসন বিভাগের অভিযানে ফের মিজানকে গ্রেফতার করা হয়।

এ বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী হারুন আল-রশিদ বলেছেন, ‘ ‘আমরা অনেক এমন ঘটনা পেয়েছি, যেখানে বাংলাদেশি শ্রমিকরা না-বুঝে ওই ভুয়া এজেন্টদের হাতে চার থেকে পাঁচ হাজার রিঙ্গিত তুলে দিয়েছেন, তাদের আঙ্গুলের ছাপও নেয়া হয়েছে- কিন্তু এজেন্টরা ওই টাকা মেরে দেয়ায় তাদের আর কখনওই বৈধ হয়ে ওঠা হয়নি।’
মানবাধিকারকর্মী বলেন, ‘যেসব ভুয়া কোম্পানি শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা করে তাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়েছিল সেগুলোর বেশির ভাগেরই মালয়েশিয়ান ও মালয়েশিয়ান নাগরিকদের ছত্রছায়ায় মালিকানাও ছিল বাংলাদেশিদের।’

মালয়েশিয়ায় অবৈধ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে শতশত অভিবাসীকে আটক করছে দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশ। মালয়েশিয়ায় থাকার পরও যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই, এই ধরপাকড় অভিযান নিয়ে তাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

মালয়েশিয়ার পুলিশ ও ইমিগ্রেশন বিভাগ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করছে। প্রতি নিয়ত গ্রেফতার করা হচ্ছে অবৈধ অভিভাসিদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শহরে ইমিগ্রেশন, পুলিশ, রেলা, সিটি কর্পোরেশনের যৌথ অভিযানের কারণে অবৈধ অভিবাসীরা মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ছোট ছোট শহর ও গ্রাম অঞ্চলের লোকালয়ে কাজ করছে এমন সংবাদ আগেই চলে যায় সংশ্লিষ্টদের কাছে।

আর এই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে জঙ্গল পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করছে অভিবাসন বিভাগ। অভিবাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১০ মে পর্যন্ত, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন জায়গায় ২ হাজার ১২০টি অভিযানে আটক করা হয় ৩৩ হাজার ৮৯৫ জনকে।

আটকদের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে গ্রেফতার করা হয় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ৮ হাজার ৫৫২ জন অবৈধ অভিবাসীকে। এ ছাড়া অবৈধ অভিবাসী রাখার অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে ২০০ মালিককে। মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রধান দাতুক ইন্দিরা খায়রুল দাজামী বিজ্ঞপ্তিতে এসব জানিয়েছেন।

আটকদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, নেপাল, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের নাগরিকরাও রয়েছেন।
২০১৬ র ফেব্রুয়ারিতে মালয়েশিয়ার সরকার রি-হায়ারিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে এই অবৈধ শ্রমিকদের বৈধ হওয়ার একটা সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু যে তিনটি ভেন্ডর কোম্পানিকে এর দায়িত্ব দেয়া হয়, তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে বেশকিছু নকল এজেন্ট বা দালাল বাংলাদেশিদের সঙ্গে বিরাট প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মালয়েশিয়ার স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহীন মিয়া বলেন, ‘যখনই একটা এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে, প্রথমেই বৈধ ও অবৈধ- সব বিদেশি শ্রমিককে ধরে এনে খোলা জায়গায় সারি বেঁধে দাঁড় করিয়ে দেয়া হচ্ছে। রোদ হোক বৃষ্টি-তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’

বাংলাদেশিদের অপরাধের কারণে শ্রমবাজারে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী এই প্রতিবেদককে জানান, মালয়েশিয়া সরকার সবসময় স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে শ্রমিক নিয়োগ দিলেও বাংলাদেশ থেকে শ্রমিকরা প্রতারিত হয়ে আসার কারণেই  বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে। সেই প্রতারণার ঘটনা মুছতে না মুছতেই কিছু কিছু বাংলাদেশিদের ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অপরাধের কারণে বাংলাদেশের শ্রমবাজার হুমকির মুখে পড়তে পারে এমন ধারণা অনেকের।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও খবর
© 2018 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখ, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি
Theme Customized BY LatestNews