Print Friendly, PDF & Email

মিরাজ হোসেন গাজী, ইউএই থেকে ফিরে :  সংযুক্ত আরব আমিরাত। বাংলাদেশের অন্যতম একটি শ্রমবাজার। এই দেশটিতে প্রায় ৮ লাখ বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছে। কিন্তু ২০১২ সালের পর থেকে কার্যত বন্ধ বাংলাদেশি কর্মী আসা। যদিও গৃহখাতে কিছু কর্মী আসার সুযোগ বন্ধ হয়নি দেশটিতে।

এর মধ্যে কয়েক দফা শ্রমবাজার চালুর গুঞ্জন শোনা গেলেও কার্যত এখনো কোন ভালো খবর নেই। কিন্তু বাজার চালু হবে, হচ্ছে এমন আশায় নতুন নতুন বিনিয়োগ শুরু করেছিলেন অনেক প্রবাসী ব্যবসায়ী। এখন গুটিয়ে ফেলছেন সেসব।

দুবাইয়ের কারামা একালায় প্রায় ১ যুগ আবাসন ব্যবসা করছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি বলছিলেন, প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যায়ে একটি রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেছিলেন। বেশ খানিকটা এগিয়েছেও । কিন্তু এখন, পিছু হঁটতে চাচ্ছেন এই প্রবাসী ব্যবসায়ি। কথা প্রসঙ্গে বলছিলেন,  তার রেস্টুরেন্টে অন্তত ২০ জন কর্মী প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে কর্মী আসা বন্ধ থাকায় এখন ভাবনায় আছেন তিনি। শ্রমবাজার চালুর খবরে ব্যবসা উদ্যোগ নিলেও, এখন থেমে যেতে হচ্ছে।

সাইফুল ইসলাম বলছিলেন, বাংলাদেশ থেকে কর্মী আসলে, ভিসা দিয়ে তাদের কাছ থেকে অন্তত দুই লাখ করে টাকা নেয়া যায়। বেতন এক হাজার থেকে বারো’শ টাকা দিলেই চলবে। কিন্তু এই কর্মী পাকিস্তান বা ইন্ডিয়া থেকে নিতে গেলে সব খরচ দিয়ে কর্মী আনতে হবে। এবং বেতনও বেশি চাচ্ছে। সব হিসাব করে এখন রেস্টুরেন্ট চালু করবেন কিনা ভাবছেন।

দুবাইয়ের শেখ জায়েদ সড়কের প্রবাসী ব্যবসায়ী সবুজ। এক দশকের মতো আছেন প্রবাসে। কয়েকটি দোকান আছে তার। নতুন করে একটি আধুনিক সেলুন চালু করতে যাচ্ছেন তিনি। দুজন ম্যানেজারসহ কর্মী প্রয়োজন ছয় থেকে সাত জন। কিন্তু বাংলাদেশী কর্মী আসার ব্যবস্থা না থাকায় ভাবনায় তিনিও। সবুজ বলছিলেন, অন্যদেশের কর্মীদের ব্যবস্থাপনায় খরচ যেমনি বেশি, তেমনি আস্থার জায়গাটিও কম। বাংলাদেশি কর্মীদের যে আন্তরিকতা তা অন্য কোন দেশের কর্মীদের মধ্যে নেই বললেই চলে।

আল কারামা এলাকার আরেক প্রবাসী শাহাদত হোসেন। একটি দোকানের লাইসেন্স নিয়েছেন তিনি। ব্যবসা করার প্রস্তুতির আছে। কিন্তু কর্মী সংকটে ব্যবসা  শুরু করতে পারছেন না তিনি।

আবুধাবির বেদা যাইদ এলার প্রবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শুকুর মিয়া। কন্সট্রাকশন মেইনটেনেন্স ব্যবসা তার। ২৫ বছর আছেন দেশটিতে। আগে ৫ টি প্রতিষ্ঠান থাকলেও এখন আছে মাত্র দুটি। কর্মী সংকটে গুটিয়ে ফেলছেন ব্যবসা। এখন ভাবছেন, দেশেই চলে যাবেন।

শুকুর মিয়া প্রবাসী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথেও সক্রিয়। বলছিলেন, “ ভিসা চালু হবে, এতো আওয়াজ উঠলেও কোন কাজই হয়নি।” তার মতে কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারনেই বাজারটি চালু হচ্ছে না। দ্রুত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কার্যকর ভূমিকা চান প্রবাসী ব্যবসায়ি শুকুর মিয়া। বাজার খোলা দেরি হলেও, অন্তত ভিসা পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা যায় কিনা, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আহবান জানান তিনি।

বেদা যাইদ এলাকার মরুভূমিতে কথা হচ্ছিল মোহাম্মদ গোলাপের সাথে । আট বছর আছেন তিনি এখানে। উটের খামার দেখভাল করেন। ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় বিপাকে এই রেমিটেন্স যোদ্ধা। সুযোগটি থাকলে, ভালো বেতনে অন্য কোম্পানীতে যেতে পারতেন তিনি।

সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসীরা বলছিলেন, ভারত, পাকিস্তানসহ প্রতিবেশি সকল দেশের ভিসা চালু আছে দেশটিতে। শুধু বাংলাদেশের জন্য বন্ধ। এতে করে দেশটিতে ইমেজ সংকটে তারা। এজন্য বাংলাদেশের কুটনৈতিক তৎপরতাকে আরো শক্তিশালী করার দাবি জানান প্রবাসীরা।

শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল ইকবাল হোসাইন খান জানান, “সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারের সাথে আমাদের রাষ্ট্রদূতসহ প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করছি। বাংলাদেশের কর্মীদের এ দেশের নিয়োগদাতারা খুব পছন্দ করেন। তারাও শ্রমবাজার খুলতে বেশ আগ্রহী। শিগগিরই ভালো খবর আসার সম্ভাবনা আছে।”

লেখক : বাংলাভিশন টিভির রিপোর্টার এবং ফাউন্ডার TodayBanglaHD.

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here