1. monir212@gmail.com : admin :
  2. merajhgazi@gmail.com : News Desk : Meraj Hossen Gazi
  3. desk@probashbarta.com : News Desk : News Desk
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অন্যের পাসপোর্ট দিয়ে টিকা নেয়ার চেষ্টা, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশির ৯ মাসের সাজা আমিরাতগামীদের জন্য শনিবার থেকে বিমানবন্দরে পিসিআর পরীক্ষা মালয়েশিয়ায় অভিবাসী কর্মীদের ভিসা নবায়ন করবে ইমিগ্রেশন রিক্যালিব্রেশন প্রোগ্রামে আবেদনকারীর কোম্পানির অফিসেই হবে ফিঙ্গার প্রিন্ট কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় তৎপর মালয়েশিয়া সরকার বিমানবন্দরে পিসিআর টেস্ট শুরু, পরীক্ষামূলক আমিরাত গেল ৪৬ যাত্রী সৌদি আরবে বয়লার বিস্ফোরণে বাংলাদেশির মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইতালি আওয়ামী লীগের নেতাদের সাক্ষাৎ লিসবনে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পর্তুগাল বাংলা প্রেসক্লাবের নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের প্রবেশের অনুমতি, অনিশ্চয়তায় কর্মী ভিসাধারীরা

এয়ারপোর্টে দেখা নেই প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক সদস্যদের, ভোগান্তিতে কর্মীরা

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত : শনিবার, ১১ মে, ২০১৯
Print Friendly, PDF & Email

মিরাজ হোসেন গাজী: ২৭ এপ্রিল শনিবার, বিকাল ৪ টা । কাতার যাওয়ার উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে । রিজেন্ট এয়ারওয়েজ এর আরএক্স ৭৫৩ ফ্লাইটে দোহা যাওয়ার অপেক্ষায় শতাধিক যাত্রী। যাদের দীর্ঘ লাইন বুকিং কাউন্টারের সামনে। যাত্রীদের অধিকাংশই অভিবাসী প্রত্যাশী কর্মী।

এয়ারপোর্টে বহির্গমন কার্ড পূরণের দৃশ্য

পাসপোর্ট, ভিসার কপি, স্মার্ট কার্ড হাতে বুকিংয়ের অপেক্ষায় তারা।

লাইনে দাঁড়িয়ে বুকিং শেষ করার সময় অনেকের হাতে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে বহির্গমন কার্ড। যেটা পূরণ করে জমা দিতে হয় পরবর্তী ধাপ ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে।

বহির্গমন কার্ডে লিখতে হয়, নাম, জাতীয়তা, পাসপোর্ট নম্বর, পাসপোর্টের মেয়াদ শেষের তারিখ, কতো তারিখে যাত্রা করছেন, কতো তারিখে পৌঁছাবেন, ভিসা নম্বর, ভিসার মেয়াদ এবং সবশেষে যাত্রীর স্বাক্ষর ও তারিখ।

কার্ডটি হাতে নিতেই চোখেমুখে অসহায়ত্ব অনেক কর্মীর। যারা বিদেশ গিয়েই মাথার ঘাম ঝড়িয়ে টাকা রোজগার করে দেশে পাঠাবেন। দেশ হবে সোনার বাংলা। এই তথ্যগুলো পূরণ করবেন কিভাবে, এই ভাবনায় এদিক ওদিক তাকাতাকি কর্মীদের।

সহায়তার জন্য খুব একটা মানুষ পাওয়া যায় না এখানে। কারণ সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত ।

এই ফ্লাইটে আমিও কাতারে যাচ্ছি, একটা ইন্টারন্যাশনাল সম্মেলন কাভার করতে। যেখানে কাতারে বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার আরো সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আমি ও পরিবারের অন্য তিন সদস্য বসে ছিলাম বুকিং শেষ করে। যেখানে বসে ছিলাম পাশেই একটা টেবিল ছিল  , সেখানেও রয়েছে বহির্গমন কার্ড এবং এখানেই দাঁড়িয়ে পূরণ করা যায় কার্ডটি।

কার্ড ও লিখার স্থান থাকলেও নেই কলম। আর প্রবাসগামী কর্মীদের অনেকেই পূরণ করতে জানেন না, কেউ কেউ আবার শুধু নিজের নামটি লিখতে পারেন কোনো মতে।
কার্ড হাতে দুজন নারী কর্মী এবং একজন পুরুষ কর্মী আমার দিকে তাকিয়ে আছে অসহায়ের মতো। কিন্তু কিছু বলতে পারছে না।

তাদের চাহনী দেখেই বুঝলাম, কার্ডটি পূরণ করার কলম নেই । আমার পকেটে একটা কলম ছিলো। সাধারণত কলম ব্যবহার না করলেও এদিন কী ভেবে যেনো নিয়ে এসেছি। বললাম, কলম নিবেন?
পুরুষ কর্মীর উত্তর – স্যার, একটু লিখে দিবেন?

সাথে সাথে বেশ আগ্রহ নিয়ে হাসি মুখে উঠেই বললাম, দিন। ওনার পুরণ করতেই, পাশের দুই নারীও বললেন ‘আমাদেরটাও করে দিন।’ একটি পূরণ করেই খুঁজতে লাগলাম প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের কেউ আছেন কিনা আশপাশে। তাদের গলাতে যেহেতু আইডি কার্ড ঝোলানো থাকে, তাই সহজেই চোখে পরবে। কিন্তু কাউকে পেলাম না।

এরপর দুই নারীর কার্ড পূরণ করতেই, আরো কয়েকজন আসলেন। এবার সহায়তা নিলাম আমার সাথে থাকা পরিবারের অন্য সদস্যদের । এভাবে অনেকের কার্ডই পূরণ করে দিলাম। এই ছোট কাজটুকু করাতে তারা যে কতো খুশি হলেন সাথে কৃতজ্ঞতাও জানালেন, তা স্মরণীয় হয়ে থাকার মতো। তাদের মুখের অকৃত্রিম হাসি এখনো ভাসছে চোখে ও মনে।

কিন্তু এই কাজটুকু কি করার কোন দায়িত্বশীল সংস্থা নেই ? যেই এয়ারলাইন্স এই যাত্রীদের টাকায় ব্যবসা করছেন, তারা কি এই কাজটুকু করতে পারতেন না? এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ কি একটা কলম রশিতে ঝুলিয়ে রাখতে পারতেননা ? আবার যেই রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মীদের বিদেশ পাঠাচ্ছে তারাও পারতে কাজটি করতে।

এবার আসি প্রবাসীদের অভিভাবক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্হান মন্ত্রণালয়ের সেই কর্মকর্তার বিষয়ে। মন্ত্রণালয় এয়ারপোর্টে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক করে দিয়েছেন। তাহলে সেখানকার সদস্যরা কোথায় থাকেন? তাদেরই তো দায়িত্ব এই কর্মীদের সমস্যাটুকু সমাধান করা। মন্ত্রণালয় যেখানে প্রবাসীদের কল্যাণে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং নতুন প্রতিমন্ত্রী আসার পর বেড়েছে স্বচ্ছতা, বন্ধ হয়েছে নানা অনিয়ম। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে সকলে আন্তরিক না হলে, সুফল অধরাই থেকে যাবে।

অনেকেই বলতে পারেন, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কে গিয়ে কেন সাহায্য চান না কর্মীরা? যেই কর্মীরা নিজের নামটি লিখতেই হিমশিম খায়, সে কি করে খুঁজবে কোথায় আছে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ? আবার সকল কর্মী যানেন কিনা সেটাও প্রশ্ন।

কিন্তু ডেস্কের সদস্যরা বুকিং এর সময় কাউন্টারের পাশে থাকলেই উপকৃত হবেন প্রবাসগামী কর্মীরা। অথবা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষও পারে মাত্র একজন কর্মী নিয়োজিত করতে, যিনি এই বহির্গমন কার্ডটি পূরণ করে ঐসব কর্মীদের মুখে হাসি ফোটাতে পারেন ।

আরেকটি বিষয় উল্লেখ করার মতো, এই কার্ডটির ব্যবহার সেভাবে নজরে আসলো না। ইমিগ্রেশন পুলিশ সদস্যরা শুধু কার্ডটি নিলেন। দেখলোও না কী লেখা আছে। আর যেসব তথ্য লেখা হয়, তার সবই আছে পাসপোর্ট ও ভিসায়। সবচেয়ে বড় কথা ডিজিটাল এই বিশ্বে এখনো এমন হাতে লেখা সংস্কৃতি আসলেই কতোটা কার্যকর?

তবে অনেক রিক্রুটিং এজেন্সি কার্ডটি পূরণ করেই কর্মীদের এয়ারপোর্টে পাঠিয়েছে, এমনটাও দেখা গেছে।

লেখক : বাংলাভিশন টিভির রিপের্টার এবং ফাউন্ডার TodayBangla HD

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও খবর
© 2018 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখ, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি
Theme Customized BY LatestNews