Print Friendly, PDF & Email

মিরাজ হোসেন গাজী : বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব । সংখ্যায় প্রায় ২৫ লাখ কর্মী আছেন দেশটিতে। যদিও সম্প্রতি নানা সংকটে এই শ্রমবাজার। তারপরও এখনো কর্মী ও ব্যবসায়ীদের কাছে পছন্দের শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি।

এই বাজারটি নিয়ন্ত্রণে নিতে গেলো বছরের শেষের দিকে তত্পরতা শুরু করেন কয়েকজন ব্যবসায়ী । ড্রপবক্স নামের একটি পদ্ধতির মাধ্যমে তখন ভিসা প্রসেসিং এর কাজ করতে চেয়েছিলেন ৩৩ টি রিক্রটিং এজেন্সির মালিকদের একটি সিন্ডিকেট । যদিও অন্য ব্যবসায়ী ও মন্ত্রণালয়ের ভূমিকায় আলোর মুখ দেখেনি ড্রপবক্স ।

এরাব নতুন করে সৌদি শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে নিতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন দুজন ব্যবসায়ী। যার নেতৃত্ব রয়েছেন সেই ড্রপবক্সের প্রধান গ্রীণল্যান্ড ওভারসীজ এর মালিক বায়রার সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল হাই। তাঁর সাথে আছেন বায়রার সাবেক সভাপতি ইউনিক ইস্টার্ন এর মালিক নূর আলী। এই দুই প্রতিষ্ঠান মিলে একটি কোম্পানী গঠন করে সৌদি আরবের সকল ভিসা প্রসেসিং এর কাজ করতে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এরইমধ্যে বাংলাদেশে সৌদি দূতাবাসের সাথে তাদের কয়েকদফা বৈঠকও হয়েছে।

বায়রার বর্তমান কমিটির অন্তত তিন নেতা মনে করছেন “ড্রপবক্সের কর্তারা” ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন করে ভিন্ন নামে বাজারটি দখলে নিতে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এতে করে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলেও মনে করেন তারা।

বায়রার একজন যুগ্ম-মহাসচিব নাম প্রাকাশ না করার শর্তে বলেন, আব্দুল হাই এবং নূর আলী সিন্ডিকেট করে সৌদি আরবের শ্রমবাজারটি দখলের পায়তারা করছেন। ড্রপবক্সের মতো নতুন কোন পদ্ধতি সাধারণ ব্যবসায়ীরা মেনে নেবে না বলেও জানান তিনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নতুন পদ্ধতির সম্ভাব্য নাম হবে “ সৌদি ভিসা সেন্টার”। এই সেন্টার সৌদি আরবের সকল ভিসা জমা নেবে অন্য প্রায় ১২০০ রিক্রুটিং এজেন্সির কাছ থেকে। তারাই বাংলাদেশে সৌদি দূতাবাসে ভিসাগুলো দেবে এবং তাদের কাছ থেকেই আবার প্রসেসিং করা ভিসা সংগ্রহ করবে এজেন্সিগুলো।

আরো জানা গেছে, ড্রপবক্সে ৩৩ টি রিক্রুটিং এজেন্সি যুক্ত ছিলো। এবার সেটা কমিয়ে করা হয়েছে দুটি। এই দুই প্রতিষ্ঠান মিলে নতুন একটি প্রতিষ্ঠানের নামে “ভিসা সেন্টার” করার জন্য বেশ চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রক্রিয়াটি বেশ এগিয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় আরো কয়েকটি এজেন্সির প্রভাবশালী মালিককে যুক্ত করা হতে পারে। তবে এবার আর সরাসরি কোন রিক্রুটিং এজেন্সি বা এজেন্সি মালিকের নাম থাকছে না। সাধারণ কোন ব্যবসায়ী যাতে এই পদ্ধতিকে সিন্ডিকেট মনে না করেন, সেজন্য নেয়া হয়েছে নতুন এই কৌশল।

নতুন এই পদ্ধতির প্রধান গ্রীনল্যান্ড ওভারসীজের মালিক আব্দুল হাই টেলিফোনে জানান, “সৌদি দূতাবাস তাদের কাজ সহজ করতে নতুন এই পদ্ধতি চাচ্ছে। ১২০০ রিক্রুটিং এজেন্সি দূতাবাসে ভিসার জন্য গেলে পরিবেশ নষ্ট হয়, তাই একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিতে চাচ্ছে।”

এটাও ড্রপবক্সের মতো নতুন সিন্ডিকেন কিনা? এমন প্রশ্নে আব্দুল হাই বলেন, “ আমেরিকার জন্য ভিসা সেন্টার আছে, ইন্ডিয়ার জন্য ভিসা সেন্টার আছে, যেখানে সকলেই ভিসা প্রসেস করে। তাতে আপত্তি না থাকলে সৌদির জন্য ভিসা সেন্টার হলে ক্ষতি কী ?”

এই প্রক্রিয়ায় ইউনিক ইস্টার্ন এর নূর আলীসহ আর কেউ আছে কিনা? এমন প্রশ্নে আব্দুল হাই বলেন, “ আরো কেউ কেউ থাকতে পারেন, সময় হলেই সব জানতে পারবেন। ২/৩ মাসের মধ্যেই আপনারা সব জানতে পারবেন।”

বায়রার সাবেক এক শীর্ষ নেতা এবিষয়ে বলছিলেন, আমেরিকা , ইন্ডিয়ার ভিসা সেন্টার, ভিজিট ভিসা এবং ইমিগ্রেন্ট ভিসা প্রসেস করে। কর্মীদের ভিসা অন্য কেউ প্রসেস করলে ব্যবসার গোপনীয়তা নষ্ট হবে বলেও মনে করেন তিনি।

এ বিষয়ে বায়রার সাবেক সভাপতি নূর আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস- বায়রার মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন” সৌদি আরবের মন্ত্রণালয় কোন পদ্ধতি চালু করলে আমাদের কিছু করার থাকে না। আমরা দেখবো বায়রার সাধারণ সদস্যদের স্বার্থ রক্ষা হয় কি না। এক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটির সাথে বায়রাকে যুক্ত করার দাবি তাদের। বায়রা মহাসচিব বলছিলেন, সংগঠনের প্রেসিডন্টকে যদি এই পদ্ধতিতে যুক্ত করা হয়, তাহলে বায়রা তদারকি করতে পারবে। তদারকি থাকলেই ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবে বলেও মনে করেন শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান।

লেখক : সংবাদিক বাংলাভিশন টিভি, ফাউন্ডার TodaybanglaHD.

all.bdnewspaper24.com