1. monir212@gmail.com : admin :
  2. support@wordpress.org : Support :
  3. merajhgazi@gmail.com : News Desk : Meraj Hossen Gazi
  4. desk@probashbarta.com : News Desk : News Desk
শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারঃ হোঁচট খেলো দাতো হানিফ গ্রুপ

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত : রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৯
Print Friendly, PDF & Email

মিরাজ হোসেন গাজী: মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার আগেই মেডিকেল সেক্টর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছিলেন দু’দেশের একটি ব্যবসায়ী গ্রুপ। মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী দাতো হানিফের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল তিন দফা সফর করে গেছেন বাংলাদেশ। তবে হোঁচট খাওয়ার পথে তাদের তৎপরতা ।

এই তৎপরতাকে শুরু থেকেই নতুন সিন্ডিকেটের পায়তারা মনে করে আসছেন বায়রার সাধারণ সদস্যরা।

যদিও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্হান প্রতিমন্ত্রীর স্পষ্ট কথা, এবার আর কোন সিন্ডিকেট নয়।

প্রথমবার তাদের সাথে ছিলেন মাহাথির সরকারের ঘনিষ্টজন পরিচয় দেয়া দাতো ড. রইস হোসনি। গেলো সেপ্টম্বর মাসে তারা দুই দফা বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। সেসময় তখনকার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্হান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বি.এসসিসহ একাধিক মন্ত্রীর সাথে বৈঠকও করেন তারা।

চলতি বছরের ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি আবারো বাংলাদেশের আসেন দাতো হানিফের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ। বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম সমন্বয় করেন বায়রার সাবেক সভাপতি ও সদ্য বিলুপ্ত মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানের ১০ জনের সিন্ডিকেটের অন্যতম নূর আলী। ইউনিক ইস্টার্ন নামের তার প্রতিষ্ঠানই দাতো হানিফের সফরের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে।

দাতো হানিফ গ্রুপ ৪ ফেব্রুয়ারি বায়রার সাথে বৈঠক করে। তারা বায়রার সদস্যদের বোঝাতে চেষ্টা করেন যে মালয়েশিয়া সরকার তাদের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশে মেডিকেল করতে। তাই তারা বেশকিছু মেডিকেল সেন্টার পরিদর্শনও করেন।

কিন্তু বায়রার সাবেক অর্থ সম্পাদক ফখরুল ইসলামসহ অন্যরা এবিষয়ে প্রশ্ন তুললে সঠিক উত্তর মেলেনি। তখনই সকলে পরিস্কার হন, দাতো হানিফরা মালয়েশিয়া সরকারের কোন অনুমতি নিয়ে আসেননি।

এরপর ৫ ফেব্রুয়ারি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্হান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদের সাথে মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করে গ্রুপটি।

আগে প্রকাশ্যে না আসলেও এবার সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বায়রার সাবেক সভাপতি নূর আলী।

এবিষয়ে নূর আলী বলেন, “আমি এই সেক্টরের সিনিয়র। রিসিভিং কান্ট্রির ( কর্মী নেয়া দেশের ) কেউ আমার কাছে আসলে আমি তাদের সহায়তা করি। আমিতো কারো কাছে যাই নাই।”

প্রতিমন্ত্রী সাথে বৈঠকে দাতো হানিফ এবং নূর আলী বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে আগে যে পদ্ধতিতে মেডিকেল হতো সেখানে ১৫ থেকে ২০ ভাগ মালয়েশিয়ায় গিয়ে আনফিট হতো। তাই তারা চাচ্ছেন এই সংখ্যা কমিয়ে আনতে।

জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে বেসটিনেট নামের একটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশী কর্মীদের মেডিকেল করাতো । প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে,  ” বাংলাদেশে  মেডিকেল করা কর্মীদের মধ্যে ২.৩৩ ভাগ আনফিট হয়েছে, যেটা একেবারেই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী গিয়েছে দুই লাখ ৬৮ হাজার। যদি ১৫/২০ ভাগ আনফিট হতো তাহলে আনফিটের সংখ্যা হতো৫৩ হাজারের মতো। এতো বড় সংখ্যক আনফিট হলে বাংলাদেশের গণমাধ্যম বা সরকার সেটা জানার কথা।”

প্রতিমন্ত্রীর সাথে বৈঠক থেকে বের হয়ে গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলে যান দাতো হানিফসহ মালয়েশিয়া থেকে আসা ব্যবসায়ীরা।

তবে কথা বলেন নূর আলী। তিনিও একই দাবি করেন ১৫/২০ ভাগ আনফিট হতে হলেই নতুন পদ্ধতি চাচ্ছেন তারা। আর দাতো হানিফ মালয়েশিয়ার অনুমতি নিয়ে এসেছে বলে দাবি করেন। তখন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, এমন কোন কাগজপত্র আপনারা দেখেছেন কিনা বা দেখাতে পারবেন কিনা? তখন এবিষয়টি এড়িয়ে যান নূর আলী।

১৫/২০ ভাগ আনফিট হয়, এমন কথারও কোন যুক্তি দেখাতে পারেননি তিনি। সাংবাদিকরা বলেন, জিটুজি প্লাসে তো ২/৩ ভাগ আনফিট হয়েছে। বেশি হতো বলে এড়িয়ে যান নূর আলী।

বায়রার সাধারণ সদস্যরা মনে করছেন, এমন নানা কথা তুলে মূলত নতুন মোড়কে আগের মতো আরেকটি সিন্ডিকেট করতে এই তত্পরতা। মেডিকেল সেক্টরটি দখলে নিতে তারা নানা পায়তারা করছেন বলেও মনে করেন বায়রার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলী।

তবে মালয়েশিয়ার সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েক বরাত দিয়ে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, সেখান থেকে দাতো হানিফদের তৎপরতার কোন অনুমতি নেই। ফোমেমা নামের যেই মেডিকেলের প্রতিনিধি নিয়ে তারা দৌড়ঝাপ করছেন, সেই প্রতিষ্ঠানটি কর্মী পাঠানো কোন দেশে মেডিকেল করে না। তারা মালয়েশিয়ায় মেডিকেল করে।

মালয়েশিয়ায় এখাতের ব্যবসায়ীরাও দাতো হানিফের তৎপরতার বিরোধিতা করে সরকারের নানা মহলে তথ্য দিচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে করে হানিফের ইমেজ সংকট দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে বাংলাদেশেও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্হান মন্ত্রণালয় এবিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছে বলে জানা গেছে। দাতো হানিফরা মালয়েশিয়া সরকারের অনুমতি না নিয়ে বাংলাদেশ এসে মেডিকেল সেন্টার পরিদর্শন করেছেন এটা নিশ্চিত হয়েছে মন্ত্রণালয় । আর মেডিকেল আনফিটের তথ্যটাও সঠিক নয় বলে জানতে পেরেছে মন্ত্রণালয়।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্হান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ জানান, মালয়েশিয়া শ্রমবাজার খোলার আগে মেডিকেল সেক্টর নিয়ে তত্পরতা ভালো ভাবে দেখছেন না তারা। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগে বাজার চালুর বিষয়ে কাজ করতে হবে।

দাতো হানিফদের তৎপরতাকে নতুন সিন্ডিকেটের পায়তারা মনে করছেন কিনা? এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবার কোন সিন্ডিকেট হতে দেবেন না। সিন্ডিকেট কর্মীদের স্বার্থবিরোধী কার করে। তাই মন্ত্রণালয় কোন সিন্ডিকেট হতে দেবে না।

জানা গেছে গেলো মার্চে মালয়েশিয়া সরকারের সাথে প্রতিমন্ত্রীর বৈঠকের আগ্রহের কথা জানিয়ে চিঠি দিয়েছে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন। যদিও এবিষয়ে এখনো কোন ভালো খবর জানায়নি দূতাবাস। আর প্রতিমন্ত্রীও স্ত্রীর অসুস্থতার কারনে সিঙ্গাপুর রয়েছেন মার্চ মাস থেকে। মালয়েশিয়ার সাথে বৈঠক হলেই বোঝা যাবে কবে কোন পদ্ধতিতে চালু হবে শ্রমবাজার।

লেখক: বাংলাভিশন টিভির রিপোর্টার ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও খবর
© 2018 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখ, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি
Theme Customized BY LatestNews